গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াবে যেসব পুষ্টিকর খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৯ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৯ এএম ২০২৬
শিশুর স্মৃতিশক্তি বাড়াবে যেসব পুষ্টিকর খাবার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ অনেকটাই নির্ভর করে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসের ওপর। বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মের পর প্রথম পাঁচ বছর মস্তিষ্কের দ্রুততম বিকাশ ঘটে। এ সময়ে প্রয়োজনীয় পুষ্টির ঘাটতি হলে শেখার ক্ষমতা, স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও আচরণগত বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই শিশুর খাদ্যতালিকায় সুষম ও পুষ্টিকর খাবার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি মিষ্টি খেলে শিশুর বুদ্ধি বাড়ে—এমন ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। বরং অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার রক্তে শর্করার মাত্রার ওঠানামা ঘটিয়ে শিশুকে অস্থির ও খিটখিটে করে তুলতে পারে। দীর্ঘদিন এ ধরনের খাবার খেলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস, দাঁতের ক্ষয় এবং রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে। কিছু গবেষণায় অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবারের সঙ্গে শেখার ক্ষমতা ও স্মৃতির ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সম্পর্কও পাওয়া গেছে।

শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে প্রোটিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ডিম, মাছ, চর্বিহীন মুরগির মাংস, দুধ, ডাল, ছোলা ও বাদাম নিয়মিত খাওয়ালে মস্তিষ্কের কোষগুলোর মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান সহজ হয়।

ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও শেখার ক্ষমতা বাড়াতে সহায়ক। সামুদ্রিক তৈলাক্ত মাছ, তিসির বীজ, চিয়া বীজ, আখরোট ও কুমড়ার বীজ এ পুষ্টির ভালো উৎস।

ফোলেট ও ভিটামিন কে নতুন কোষ গঠন এবং স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে সহায়তা করে। এসব পুষ্টি পাওয়া যায় পালং শাক, লাল শাক, ব্রকলি, মসুর ও মুগ ডালে।

ভিটামিন বি মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখতে এবং খাবারকে শক্তিতে রূপান্তর করতে সাহায্য করে। কলা, ওটস, লাল চাল, ডিম, ডাল ও দুধে এ ভিটামিন রয়েছে।

কোলিন স্মৃতিশক্তি ও শেখার দক্ষতা বাড়াতে কার্যকর। ডিমের কুসুম, সয়াবিন, চিনাবাদাম, ফুলকপি, বাঁধাকপি ও ব্রকলি কোলিনের ভালো উৎস।

এ ছাড়া আয়োডিন মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। আয়োডিনযুক্ত লবণ, সামুদ্রিক মাছ, দুধ, দই ও ডিম থেকে এ পুষ্টি পাওয়া যায়। জিঙ্ক স্মৃতিশক্তি, মনোযোগ ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। ছোলা, কুমড়ার বীজ, লাল মাংস, ডাল ও দুগ্ধজাত খাবারে জিঙ্ক রয়েছে।

আয়রনের অভাবে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ কমে যেতে পারে। তাই খাদ্যতালিকায় কলিজা, লাল মাংস, পালং শাক, ডাল, কিশমিশসহ আয়রনসমৃদ্ধ খাবার রাখা প্রয়োজন। পাশাপাশি কমলা, পেয়ারা, আম, গাজর, টমেটো, বিট ও ক্যাপসিকামের মতো বিভিন্ন রঙের ফল ও সবজি মস্তিষ্কের কোষকে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন, শাকসবজি, ফল ও স্বাস্থ্যকর চর্বি রাখার পাশাপাশি কোমল পানীয়, অতিরিক্ত মিষ্টি, চিপস ও প্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলা উচিত। পর্যাপ্ত পানি পান, নিয়মিত খেলাধুলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমও শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশে সমান গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর মেধা বাড়ানোর কোনো জাদুকরি খাবার নেই। বরং সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শারীরিক কর্মকাণ্ড এবং ইতিবাচক পারিবারিক পরিবেশ—এই চারটি বিষয়ই শিশুর মস্তিষ্কের সুস্থ বিকাশ ও স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর ভিত্তি।

এসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে জনপ্রিয় হচ্ছে হাইব্রিড মেকআপ
২৯ জুলাই ২০২৬

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে জনপ্রিয় হচ্ছে হাইব্রিড মেকআপ

সৌন্দর্যচর্চায় এখন আর শুধু নিখুঁত মেকআপ নয়, সুস্থ ও উজ্জ্বল ত্বকও সমান গুরুত্ব পাচ্ছে। এ কারণে বিশ্ব...

নারীরা কেন ব্যাগে সবসময় লিপস্টিক রাখেন
২৯ জুলাই ২০২৬

নারীরা কেন ব্যাগে সবসময় লিপস্টিক রাখেন

প্রতিবছর ২৯ জুলাই পালিত হয় জাতীয় লিপস্টিক দিবস। ঠোঁট রাঙানোর প্রসাধনী হিসেবে পরিচিত হলেও লিপস্টিক অন...

নারীরা কেন ব্যাগে সবসময় লিপস্টিক রাখেন
২৯ জুলাই ২০২৬

নারীরা কেন ব্যাগে সবসময় লিপস্টিক রাখেন

প্রতিবছর ২৯ জুলাই পালিত হয় জাতীয় লিপস্টিক দিবস। ঠোঁট রাঙানোর প্রসাধনী হিসেবে পরিচিত হলেও লিপস্টিক অন...

চল্লিশের পর সম্পর্কে জড়াতে যে ৭ বিষয় জরুরি
২৮ জুলাই ২০২৬

চল্লিশের পর সম্পর্কে জড়াতে যে ৭ বিষয় জরুরি

চল্লিশের পর নতুন সম্পর্কে জড়ানো বিশের দশকের প্রেমের মতো নয়। বয়স, অভিজ্ঞতা, দায়িত্ব ও জীবনের বাস্তবতা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 15 ঘন্টা আগে