গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

জামিন চাই না, বাসায় ফেরার তাড়া নেই-বললেন দীপু মনি

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ০৯:৫৫ পিএম, ২৮ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৩:৪৬ এএম ২০২৬
জামিন চাই না, বাসায় ফেরার তাড়া নেই-বললেন দীপু মনি
ছবি

দীপু মনি -ফাইল ছবি

স্বামী তৌফীক নাওয়াজের মৃত্যুর পর আর বাসায় ফেরার তাগিদ অনুভব করছেন না জানিয়ে নিজের জামিন আবেদন প্রত্যাহারের ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন কারাবন্দি আওয়ামী লীগ নেত্রী ও সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট)  আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ হাজির হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এদিন তার জামিন আবেদনের শুনানির দিন ধার্য ছিল। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনালে শুনানি শুরুর আগে কথা বলার অনুমতি চান দীপু মনি। অনুমতি পেয়ে কাঠগড়ায় থাকা মাইক্রোফোনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।

ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

দীপু মনি বলেন, ‘আমি দুই বছর ধরে কারারুদ্ধ আছি। গত এপ্রিল মাসে আমার জামিন আবেদন করা হয়েছে। এখন আমি জামিন চাই না। আমি জামিন আবেদন প্রত্যাহার করতে চাই।’

এরপর নিজের স্বামী তৌফীক নাওয়াজের অসুস্থতা ও মৃত্যুর কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘এর আগে জামিন আবেদন শুনানির সময় ট্রাইব্যুনাল বলেছিলেন, বাসায় গিয়ে কী করবেন? এখন আমার আর বাসায় যাওয়ার দরকার নেই।’

দীপু মনি জানান, তার স্বামী সাত বছর শয্যাশায়ী ছিলেন এবং তার বাকশক্তিও ছিল না। কোনো কথা বললে চোখের পলক ফেলে তিনি উত্তর দিতেন। সরকারি দায়িত্ব পালনের সময়ও পাঁচ বছর ধরে তিনি শয্যাশায়ী স্বামীর যত্ন নিয়েছেন বলে জানান দীপু মনি।

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থায় বাড়ি ছেড়ে আমার স্বামীকে দুই বছর অজ্ঞাত স্থানে থাকতে হয়েছে। আশ্রিত অবস্থায় ছিলেন; আমিও যত্ন নিতে পারিনি। এ জীবন তিনি মেনে নিতে পারেননি।’

তৌফীক নাওয়াজ গত ১৮ আগস্ট রাতে মারা যান। এর আগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৬ এপ্রিল তার কাছে থাকার সুযোগ চেয়ে দীপু মনির আইনজীবী জামিনের আবেদন করেছিলেন।

স্বামীর শেষ সময়ে পাশে থাকতে না পারার আক্ষেপ জানিয়ে দীপু মনি ট্রাইব্যুনালকে বলেন, ‘তখন তার কাছে যাওয়ার জন্য জামিন আবেদন করেছিলাম। ৩৯ বছরের জীবনসঙ্গীর শেষ সময়ে কাছে থাকতে পারিনি। এখন আমার বাসায় যাওয়ার প্রয়োজন ফুরিয়েছে। আমি আর কার কাছে যাব? সন্তানরা জামিন চায়। আমার বাসায় যাওয়ার আর তাড়া নেই।’

দীপু মনির বক্তব্য শুনে ট্রাইব্যুনাল তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। বিচারকরা বলেন, তারা বিষয়টি নিয়ে খুবই ব্যথিত এবং তার আবেদনের যৌক্তিকতা রয়েছে। তবে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে আদালতকে আরও অনেক বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়।

পরে ট্রাইব্যুনাল দীপু মনির জামিন আবেদনের শুনানির জন্য আগামী ১৭ সেপ্টেম্বর পরবর্তী তারিখ নির্ধারণ করেন। ফলে ওই দিন শুনানির পর তার জামিনের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানা যাবে।
সানা/আপ্র/২৮/৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবে: মার্কিন রাষ্ট্রদূত

ভবিষ্যৎমুখী আইন প্রণয়নই বাংলাদেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নেওয়ার মূল চাবিকাঠি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ...

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আমিরাতে ৪৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল

চলতি বছরের জুলাই থেকে বিভিন্ন কারণে সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রায় ৪ হাজার ৮০০ বাংলাদেশির ভিসা বাতিল হয়েছ...

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার দুই প্রান্ত যুক্ত করবে নতুন মেট্রোরেল

রাজধানীর পশ্চিম ও পূর্বাঞ্চলকে একই পরিবেশবান্ধব গণপরিবহন নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই