গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

নারী অধিকার সুরক্ষায় নিবন্ধন আইন সংস্কার দাবি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:০৯ পিএম, ০৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০১:১৪ এএম ২০২৬
নারী অধিকার সুরক্ষায় নিবন্ধন আইন সংস্কার দাবি
ছবি

ছবি সংগৃহীত

 ‘আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার-সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে আজ ৮ মার্চ বিশ্বব্যাপী পালিত হবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬। দিবসটি উপলক্ষে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীর অধিকার ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আইনগত পরিচয় ছাড়া শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, সামাজিক সুরক্ষা ও আইনি ন্যায্যতা থেকে নারীরা প্রায়ই বঞ্চিত হন।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী আন্তর্জাতিক নারী দিবস বিশ্বজুড়ে নারীর অধিকার, সমতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নকে সামনে আনার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিন। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক প্রতিপাদ্য হচ্ছে জরমযঃং. ঔঁংঃরপব. অপঃরড়হ. ঋড়ৎ অষষ ডড়সবহ ধহফ এরৎষং অর্থাৎ সব নারী ও কন্যার জন্য অধিকার, ন্যায়বিচার ও কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, একটি কন্যাশিশুর জন্ম নিবন্ধন তার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার প্রথম ধাপ। জন্ম নিবন্ধন না থাকলে বয়স প্রমাণ করা কঠিন হয়ে পড়ে, ফলে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বাধা সৃষ্টি হয়। বাল্যবিবাহের কারণে কন্যাশিশুদের অপ্রাপ্তবয়স্ক মাতৃত্বের ঝুঁকি বাড়ে, শিক্ষা থেকে ঝরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে এবং সহিংসতার শিকার হওয়ার আশঙ্কাও বৃদ্ধি পায়। এছাড়া নিবন্ধন না থাকলে নারী পাচার বা ঝুঁকিপূর্ণ শ্রমে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিও বাড়ে। একইভাবে মৃত্যু নিবন্ধন না থাকলে নারীর মৃত্যুর পর তার সম্পত্তি সুরক্ষিত থাকে না এবং আত্মীয়দের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের ঝুঁকি বাড়ে বলে উল্লেখ করেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশ সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে সবার জন্য নিবন্ধন নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও বাস্তবে এখনও বড় অংশের মানুষ নিবন্ধনের বাইরে রয়েছে। সাম্প্রতিক এক কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে জন্ম নিবন্ধনের হার প্রায় ৫০ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনের হার ৪৭ শতাংশ-অর্থাৎ প্রায় অর্ধেক জীবনঘটনা এখনও সরকারি নিবন্ধনের বাইরে রয়ে গেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদ্যমান আইন সংশোধন করে পরিবারনির্ভর ব্যবস্থার পরিবর্তে স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে আইনগতভাবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হলে পরিস্থিতির বড় পরিবর্তন সম্ভব। এতে হাসপাতালে জন্ম নেওয়া প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুই জন্মের মুহূর্তেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হতে পারে।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস ২০২৬ উপলক্ষে এক প্রতিক্রিয়ায় গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, নারীর অধিকারের সূচনা হয় তার আইনগত পরিচয় থেকে। স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রভিত্তিক নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ নিবন্ধন অর্জনের পাশাপাশি নারীর অধিকার সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে। তিনি বলেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন আধুনিকায়ন করা হলে নারী ও কন্যাশিশুর নিরাপত্তা, সামাজিক সুরক্ষা এবং আইনি অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

উল্লেখ্য, ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ এই দিনটির শুরু। ওই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি সুঁচ কারখানার নারী শ্রমিকরা দৈনিক শ্রম ১২ ঘণ্টা থেকে কমিয়ে ৮ ঘণ্টায় আনা, ন্যায্য মজুরি এবং কর্মক্ষেত্রে সুস্থ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবিতে সোচ্চার হয়েছিলেন। আন্দোলন করার অপরাধে গ্রেফতার হন বহু নারী। কারাগারে নির্যাতিত হন অনেকেই। তিন বছর পরে ১৮৬০ সালের একই দিনে গঠন করা হয় ‘নারী শ্রমিক ইউনিয়ন’।

১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি সর্বপ্রথম আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করা হয়েছিল। আমেরিকার তৎকালীন সক্রিয় সোশ্যালিস্ট পার্টি ১৫,০০০ নারীর স্মরণে দিনটি উদযাপন করেছিল। যারা কঠোর কাজের বিনিময়ে কম মজুরির বিরুদ্ধে নিউইয়র্কে প্রতিবাদ করেছিল। এই দিবসকে আন্তর্জাতিকভাবে পালনের চিন্তাটা মাথায় আসে নারী অধিকার নিয়ে কাজ করা আইনজীবী ও সমাজতান্ত্রিক কর্মী ক্লারা জেটকিনের। তার এই চিন্তাটা জানান ১৯১০ সালে কোপেনহেগেনে নারী শ্রমিকদের এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে। সেখানে ১৭টি দেশের ১০০ জন নারী উপস্থিত ছিলেন, এবং তারা সর্বসম্মতিক্রমে তার এই প্রস্তাব মেনে নেন।

১৯১১ সালের ১৯ মার্চ অস্ট্রিয়া, ডেনমার্ক, জার্মানি এবং সুইজারল্যান্ডের এক মিলিয়নেরও বেশি লোক আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালন করেছিল। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালে আন্তর্জাতিক নারীবর্ষে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করা শুরু করে। এর দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ দিনটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। আর এই দিবসের শতবর্ষ উদযাপিত হয় ২০১১ সালে।

সানা/এসি/০৮/০৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে