গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

কারামুক্ত হয়ে আনিস আলমগীর বললেন

শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:১৬ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ২৩:০২ এএম ২০২৬
শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে
ছবি

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় তিন মাস কারাভোগের পর জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর (বাঁয়ে)। শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে তোলা ছবিটি সংগৃহীত

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন সাংবাদিক আনিস আলমগীর। মুক্তির পর একটি শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে ফোনে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন, ‘শুধু অন্যায় নয়, আমার সঙ্গে জুলুম করা হয়েছে। আপনি আমাকে বলতেছেন যে আমার সমালোচনা করেন, তারপর সমালোচনা করার ফলে আমাকে জেলে দিয়ে দিলেন। এটা তো বড় বাটপারি। এর থেকে তো বড় বাটপারি গত এক হাজার বছরে কেউ দেখেনি। সমালোচনা করলে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে জেলে দিচ্ছেন। সমালোচনা কী কখনো সন্ত্রাস হতে পারে। আমি কি কোনো সন্ত্রাসী কার্যক্রমে জড়িত আছি?’

গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২ থকে শনিবার (১৪ মার্চ) বেলা আড়াইটার দিকে ছাড়া পান আনিস আলমগীর। মুক্তির পর কারা ফটকে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তিনি কথা না বলে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন। পরে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই সংবাদমাধ্যমটির প্রতিনিধির সঙ্গে কথা বলেন। এর আগে আনিস আলমগীরকে মুক্তি দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার পার্ট-২-এর জেল সুপার মো. আল মামুন জানান, গত শুক্রবার ওই সাংবাদিকের জামিনের কাগজ কারাগারে পৌঁছায়। পরে যাচাই-বাছাই শেষে শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে তাঁকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে। এ সময় তাঁর স্বজনেরা কারা ফটকে উপস্থিত ছিলেন।

মুঠোফোনে আনিস আলমগীর বলেন, ‘ড. ইউনূস নিজেই বলেছেন যে, আপনি মন খুলে আমার সমালোচনা করেন। ওনার সমালোচনা করার পর উনি আবার গ্রেফতার করেন। শুধু গ্রেফতার করেনি, আমাকে তুলে নিয়ে গিয়ে সন্ত্রাস দমন আইনে মামলা দিলেন। তাতেই ক্ষান্ত হননি, আমাকে আবার একটি হয়রানিমূলক মামলা দিলেন দুদক দিয়ে। যেটা আরো হাস্যকর।’

নিজের জেলজীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আনিস আলমগীর বলেন, ‘পুরো তিন মাস আমাকে জেলে থাকতে হয়েছে। জেলে আমার প্রতিটা ক্ষণ, প্রতিটা দিন কীভাবে যে গেছে, এটা বলতে পারব না। প্রথম এক মাস কী অমানুষিক নির্যাতন আমার ওপর দিয়ে গেছে, একটা রুমে ৩৫ জন লোক ছিল। পরবর্তী পর্যায়ে একটু ভালো পরিবেশে নিয়ে আসা হয়েছে।’

আনিস আলমগীর আরো বলেন, ‘এক-এগারো সরকার যে গুম-খুন বিনা বিচারে মানুষকে তুলে নেওয়ার সংস্কৃতি চালু করেছিল, সেটা শেখ হাসিনার সরকার পর্যন্ত এক্সটেন্ডেন্ট ছিল। আমি বলব যে শেখ হাসিনার সরকার হলো, এক-এগারো সরকারের এক্সটেনশন। এখন আইনের একটা জুলম চলতেছে, যেটা ড. ইউনূস চালু করে দিয়েছেন। সেই জুলুম যদি কন্টিনিউ করে, তবে সেটা মানুষ ভালোভাবে নেবে না।’

একেবারে নিরীহ লোকদের ধরে ধরে জেলে রাখা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যেকোনো একটা জেলে গিয়ে দেখবেন, শুধু একটা দলের রাজনৈতিক কর্মীরা জেল খাটতেছে। আর কোনো কর্মী নেই। এমন লোকদের নিয়ে এসেছে, যাদের পদ-পদবি কিছুই নেই। তাদের পদ-পদবি দেওয়া হয়েছে।’

বর্তমান সরকারকে দ্রুত দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার তাগিদ দেন আনিস আলমগীর। তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার যেভাবে চালাচ্ছে, তাতে এখন পর্যন্ত সিম্পেথাইজড যে, আইনের শাসন ফিরিয়ে আনবে। সেটাতে আমি আশাবাদী। আমি মনে করি যে, এটা আরো দ্রুত করা উচিত।’

এদিকে আনিস আলমগীরের স্ত্রী শাহনাজ চৌধুরী এর আগে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, স্বাধীন মত প্রকাশের কারণেই জেলের ঘানি টানতে হয়েছে তাঁর স্বামীকে।


জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গত বছরের ১৪ ডিসেম্বর রাতে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি ব্যায়ামাগার থেকে আনিস আলমগীরকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগে (ডিবি) নেওয়া হয়। পরদিন তাঁকে উত্তরা পশ্চিম থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনের একটি মামলায় গ্রেফতার করা হয়। ‘জুলাই রেভল্যুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামে একটি সংগঠনের সদস্য আরিয়ান আহমেদ ‘রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা নষ্টের ষড়যন্ত্র এবং নিষিদ্ধ সংগঠনকে উসকে দেওয়ার’ অভিযোগে আনিস আলমগীরসহ চারজনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে এ মামলা করেন। মামলায় আনিস আলমগীরের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়। রিমান্ড শেষে ২০ ডিসেম্বর তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারেই আটক ছিলেন।

সবশেষ গত ২২ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত আনিস আলমগীরের জামিন নামঞ্জুর করলে তার আইনজীবী হাই কোর্টে আবেদন করেন। গত ৫ মার্চ উত্তরা পশ্চিম থানার সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পান আনিস আলমগীর। এর মধ্যে গত ১৫ জানুয়ারি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে আনিস আলমগীরের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক। ২৮ জানুয়ারি দুদকের আবেদনে আদালত তাকে ওই মামলায় গ্রেফতার দেখায়। এ মামলায় গত ১১ মার্চ আনিস আলমগীরকে জামিন দেন ঢাকার মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মো. সাব্বির ফয়েজ। এরপর শনিবার দুপুরে কারামুক্ত হলেন তিনি।

দৈনিক আজকের কাগজসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করা আনিসুর রহমান আলমগীর- আনিস আলমগীর নামেই বহুল পরিচতি। বিশ্ববিদ্যালয়ের খণ্ডকালীন শিক্ষক আনিস আলমগীর সমসাময়িক রাজনীতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে টেলিভিশন টকশোতে নিজের বক্তব্যের কারণে আলোচনা-সমালোচনায় ছিলেন। ফেসবুকে দেওয়া তার বিভিন্ন পোস্ট নিয়েও আলোচনা-সমালোচনা ছিল ওই সময়। 
সানা/আপ্র/১৪/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

১৫০ সাবেক সেনা কর্মকর্তার ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও অবসর অনুমোদন
০৩ জুলাই ২০২৬

১৫০ সাবেক সেনা কর্মকর্তার ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও অবসর অনুমোদন

আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ বাংলাদেশ সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত, অপসারিত, অব্যাহতিপ্রাপ্ত এবং ব...

দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির
০৩ জুলাই ২০২৬

দেশের এক ইঞ্চি জমিও কাউকে দখল করতে দেওয়া হবে না: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্...

বড় পর্দায় বিশ্বকাপ আয়োজনে ডিএমপির বিশেষ নজরদারি
০৩ জুলাই ২০২৬

বড় পর্দায় বিশ্বকাপ আয়োজনে ডিএমপির বিশেষ নজরদারি

ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে বড় পর্দায় খেলা দেখার আয়োজনগুলোতে বিশেষ নজরদারি চালাবে ঢাকা মহ...

মিয়ানমারে ফের সংঘাত, সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গা আতঙ্ক
০৩ জুলাই ২০২৬

মিয়ানমারে ফের সংঘাত, সীমান্তজুড়ে রোহিঙ্গা আতঙ্ক

কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তসংলগ্ন মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে নতুন করে তীব্র সংঘাত ও বিমান হামলার ঘটনায়...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই