গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপলাইনের লিকেজজনিত অগ্নিকাণ্ড

রান্নাঘরের নিঃশব্দ ঝুঁকি, মুহূর্তেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:২৪ পিএম, ১৮ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০২:২৬ এএম ২০২৬
রান্নাঘরের নিঃশব্দ ঝুঁকি, মুহূর্তেই ভয়াবহ বিস্ফোরণ
ছবি

রান্নাঘরে অজান্তেই জমে থাকা গ্যাস চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণে রূপ নিচ্ছে -ছবি সংগৃহীত

দেশজুড়ে গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপলাইনের লিকেজজনিত অগ্নিকাণ্ড উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। রান্নাঘরে অজান্তেই জমে থাকা গ্যাস চুলা জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গেই বিস্ফোরণে রূপ নিচ্ছে। এতে আগুনে দগ্ধ হয়ে প্রাণহানি ঘটছে, ভেঙে পড়ছে পরিবার।


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এমন দুর্ঘটনা এখন প্রায় নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে ইফতার ও সেহরির সময় এসব দুর্ঘটনা বেশি ঘটছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

আশুলিয়ায় একই পরিবারের চারজন দগ্ধ, দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক: সম্প্রতি আশুলিয়া এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে একই পরিবারের চারজন দগ্ধ হয়েছেন। তারা বর্তমানে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এ চিকিৎসাধীন।

দগ্ধদের মধ্যে জুয়েল ইসলামের শরীরের প্রায় ৯০ শতাংশ পুড়ে গেছে, তার স্ত্রী শ্যামলীর ৩৭ শতাংশ। তাদের দুই সন্তানের শরীরের যথাক্রমে ১৮ ও ১৫ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, স্বামী-স্ত্রীর অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, ১৫ মার্চ সেহরির জন্য দুধ গরম করার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। রান্না শেষে সিলিন্ডারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছিল। পুনরায় সংযোগ দেওয়ার সময় বিস্ফোরণ ঘটে। জুয়েল ইসলাম সিলিন্ডারের কাছে থাকায় বেশি দগ্ধ হন।

অসচেতনতা ও ঝুঁকিপূর্ণ অভ্যাস বাড়াচ্ছে দুর্ঘটনা: পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য ব্যবহারের পর সিলিন্ডার খুলে রাখার অভ্যাস ছিল। তবে এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ে-এ বিষয়ে তারা অবগত ছিলেন না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন অভ্যাস অনেক পরিবারেই রয়েছে। একই কক্ষে বসবাস ও রান্নার ব্যবস্থা, দরজা-জানালা বন্ধ রাখা এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব-এসব কারণে গ্যাস জমে গিয়ে সামান্য স্ফুলিঙ্গ থেকেও বিস্ফোরণ ঘটছে।

রমজানে বাড়ছে দগ্ধ রোগী, অধিকাংশ নিম্ন আয়ের পরিবার: জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট-এর জরুরি বিভাগের ইনচার্জ আশিকুর রহমান জানান, রমজানে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা অন্যান্য সময়ের তুলনায় বেড়ে যায়। তিনি বলেন, গ্যাসজনিত দুর্ঘটনার পাশাপাশি গরম পানি, রান্না ও বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনায় দগ্ধ হয়ে রোগীরা আসছেন। অধিকাংশ ঘটনা ঘটে ইফতার ও সেহরির সময়। গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ ও সাভার এলাকা থেকে বেশি রোগী আসছে, যাদের অনেকেই নিম্ন আয়ের পরিবারের।

তিন মাসে হাজারো দগ্ধ রোগী, গ্যাসজনিত ঘটনা বাড়ছে: জরুরি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১ হাজার ৬০০, ফেব্রুয়ারিতে ১ হাজার ৪৫০ এবং মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৫৪৬ জন দগ্ধ রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন।

এর মধ্যে জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে গ্যাস সিলিন্ডার-সম্পর্কিত ঘটনায় আহত হয়েছেন ২২ জন। মার্চের প্রথমার্ধেই এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪ জনে, যা পরিস্থিতির অবনতির ইঙ্গিত দেয়। বেশিরভাগ ঘটনাই গুরুতর।

একের পর এক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি: ২৩ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম-এর হালিশহরে গ্যাস পাইপলাইনের লিকেজ থেকে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের ছয়জনের মৃত্যু হয়। তাদের শরীরের ৪০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গিয়েছিল। ওই পরিবারের তিন শিশু এখনো চিকিৎসাধীন।

একই দিনে ঢাকার রায়েরবাজার এলাকায় গ্যাস লিকেজে অগ্নিকাণ্ডে তিন বছরের এক শিশুসহ চারজন দগ্ধ হন। পরদিন দাউদকান্দি এলাকায় গ্যাস লাইনের বিস্ফোরণে এক শিশুসহ চারজন আহত হন। ২৫ ফেব্রুয়ারি কচুয়া এলাকাতেও একই ধরনের ঘটনায় আরো তিনজন দগ্ধ হন।

দগ্ধ রোগীদের বড় অংশ গুরুতর অবস্থায়: তথ্য বলছে, চলতি বছরের শুরু থেকে অগ্নিকাণ্ডে দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীদের প্রায় অর্ধেকের শরীরের ২০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পুড়ে গেছে।

চিকিৎসকদের মতে, গ্যাসজনিত দগ্ধ রোগীদের মৃত্যুহার বেশি হওয়ার অন্যতম কারণ হলো শ্বাসনালির ক্ষতি। বাহ্যিক দগ্ধতার পাশাপাশি ভেতরের শ্বাসনালিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা চিকিৎসাকে জটিল করে তোলে।

৩০ শতাংশের বেশি দগ্ধ হলে মৃত্যুঝুঁকি তীব্র: চিকিৎসকরা জানান, শরীরের ২০ শতাংশের বেশি অংশ পুড়ে গেলে এবং শ্বাসনালি আক্রান্ত হলে চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ে। ৩০ শতাংশের বেশি দগ্ধতা থাকলে মৃত্যুঝুঁকি ৫০ শতাংশেরও বেশি হয়ে যায়।


সার্বিকচিত্রে বাড়ছে নীরব বিপদ: সামগ্রিকভাবে গ্যাস সিলিন্ডার ও পাইপলাইনের লিকেজজনিত দুর্ঘটনা দেশে নীরব বিপদে পরিণত হয়েছে। অসচেতনতা, অপর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবহার পদ্ধতি এই সংকটকে আরো গভীর করছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা বৃদ্ধি, সঠিক ব্যবহার এবং পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি আরো বাড়তে পারে।

সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ

নিখোঁজের এক দিন পর রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে