গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪২ পিএম, ২৯ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৬:১৫ এএম ২০২৬
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত-৬-এর বিচারক তাওহীদা আক্তার শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এদিন ডনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী সফিউল ইসলাম জামিনের আবেদন জানিয়ে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি নাকচ করেন বলে জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।

গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাঁকে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। ওই দিনই তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

অপমৃত্যুর মামলা থেকে হত্যার অভিযোগ

চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। ওই ঘটনায় তাঁর বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের আবেদন জানান তিনি।

অপমৃত্যুর মামলা ও হত্যার অভিযোগ একসঙ্গে তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন আদালত। ওই বছরের ৩ নভেম্বর সিআইডি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করা হয়। ২৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন।

সিআইডির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সালমান শাহর বাবা রিভিশন মামলা করেন। সর্বশেষ গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় মামলাটি করেন সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর। মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

সামীরা হক ছাড়া অন্য আসামিরা হলেন শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে যেসব ঘটনা উল্লেখ

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর বোন নিলুফার জামান চৌধুরী ওরফে নীলা চৌধুরী, বোনের স্বামী কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী এবং তাঁদের ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় সালমান শাহর সঙ্গে দেখা করতে যান। সেখানে গিয়ে তাঁরা জানতে পারেন, সালমান ঘুমাচ্ছেন।

কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে সালমানের কিছু হয়েছে বলে জানান। দ্রুত বাসায় ফিরে তাঁরা সালমানকে শয়নকক্ষে নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তাঁর হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন। পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসে ছিলেন।

সালমানের মা চিৎকার করে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়ার অনুরোধ করেন। পথে তাঁর গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাঁকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক জানান, সালমান শাহ অনেক আগেই মারা গেছেন।

অভিযোগে আরো বলা হয়, সালমানের বাবা কমর উদ্দীন আহমদ চৌধুরী মৃত্যুর আগে ছেলের মৃত্যুকে হত্যা বলে সন্দেহ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেছিলেন। এতে রমনা থানার অপমৃত্যুর মামলাটি দণ্ডবিধির ৩০২ ও ৩৪ ধারায় হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণ এবং সিআইডির মাধ্যমে তদন্তের আবেদন জানানো হয়।

সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তাঁর বোনের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করছেন মোহাম্মদ আলমগীর। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে কেউ মারা গিয়ে থাকলে তা প্রমাণিত হলে তাঁকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।

কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলনের উদ্যোগ

এর আগে গত ২০ মে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটনে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তাঁর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে ২৪ মে মরদেহ উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি ও ময়নাতদন্তের অনুমতি দেওয়া হয়।

এ আদেশ বাতিল চেয়ে বাদীপক্ষ আবেদন করলে আদালত সেটি নথিভুক্ত করেন। পরবর্তী সময়ে গত ২২ জুন দেহাবশেষ উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনার জন্য সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহাকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ-সংক্রান্ত আদেশের অনুলিপি আদালতে দাখিল করা হলে সেটিও নথিভুক্ত করা হয়।

মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৫ নভেম্বর দিন ধার্য রয়েছে।

এসি/আপ্র/২৯/১০/২০২৬

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড
২৯ অক্টোবর ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধ: মাহবুব-উল আলম হানিফের মৃত্যুদণ্ড

জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম ন...

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু
২৬ অক্টোবর ২০২৬

ট্রাকচালক হোসেন হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিচার শুরু

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে ট্রাকচালক মো. হোসেন হত্যা মামলায় ক্ষমতাচ্যু...

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান কারাগারে
২৫ অক্টোবর ২০২৬

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় সাবেক সাংসদ আব্দুল মান্নান কারাগারে

সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় গ্রেফতার মেহেরপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আব্দুল মান্নানকে কারাগারে পাঠ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে