বেসরকারি তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) বিভিন্ন পর্যায়ে অপারেটর, পরিবেশক ও খুচরা বিক্রেতার মাশুল বাড়ানোর সুপারিশ করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি। এ সুপারিশ কার্যকর হলে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম বর্তমান ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বেড়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা হতে পারে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল ১০টায় রাজধানীর নিউ ইস্কাটনে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশনের শহীদ এ কে এম শামসুল হক খান স্মৃতি মিলনায়তনে এ বিষয়ে গণশুনানি শুরু হয়। শুনানি চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত।
বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, এলপিজির আমদানি সমমূল্য বর্তমানে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৪০ পয়সা। নতুন প্রস্তাবে এ মূল্য ১১৭ টাকা ১২ পয়সা থেকে ১২৯ টাকা ৫০ পয়সার মধ্যে রাখার কথা বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রতি কেজি ১২৮ টাকা ৭০ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে কমিটি।
অপারেটরের কারখানা থেকে পরিবেশক পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ মজুত ও বোতলজাতকরণ মাশুল বর্তমানে প্রতি কেজি ১৬ টাকা ৭৪ পয়সা। প্রস্তাবে এ মাশুল ২৭ টাকা ৬২ পয়সা থেকে ৩৬ টাকা ৯২ পয়সা করার কথা বলা হয়েছিল। তবে কারিগরি কমিটি প্রতি কেজি ২৩ টাকা ৪৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
খুচরা বিক্রেতার আঙিনা পর্যন্ত পরিবহন ব্যয়সহ পরিবেশক মাশুল বর্তমানে প্রতি কেজি ৪ টাকা ১৭ পয়সা। প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ৮ টাকা ৩৪ পয়সা থেকে ১২ টাকা ৫০ পয়সা করার কথা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে কমিটি প্রতি কেজি ৬ টাকা ৬৭ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
অন্যদিকে, বাসায় পৌঁছে দেওয়ার খরচ বাদে খুচরা বিক্রেতার মাশুল বর্তমানে প্রতি কেজি ৩ টাকা ৭৫ পয়সা। প্রস্তাবে এ হার ৫ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা করার কথা বলা হলেও কমিটি ৫ টাকা ৮৩ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
খুচরা বিক্রেতার বিক্রয়কেন্দ্রে সব খরচসহ প্রতি কেজি এলপিজির বর্তমান মূল্য ১৫৩ টাকা ৬০ পয়সা। প্রস্তাবে এ মূল্য ১৫৮ টাকা ৯১ পয়সা থেকে ১৮৫ টাকা ৯৭ পয়সা করার কথা বলা হয়। তবে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি প্রতি কেজি ১৬৪ টাকা ৬৮ পয়সা নির্ধারণের সুপারিশ করেছে।
এসব হিসাবের ভিত্তিতে ভোক্তা পর্যায়ে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৮৩৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৯৭৬ টাকা করার সুপারিশ করেছে বিইআরসির কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি।
তবে এ সুপারিশ এখনো চূড়ান্ত নয়। বৃহস্পতিবারের গণশুনানিতে প্রস্তাবিত মাশুলের পক্ষে-বিপক্ষে বিভিন্ন পক্ষের বক্তব্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। শুনানি শেষে পরবর্তী সময়ে চূড়ান্ত মূল্যহার নির্ধারণ করা হবে।
এসি/আপ্র/২৯/১০/২০২৬