গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের তথ্যমন্ত্রী

গণমাধ্যমকে ডিজিটাল বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৪২ পিএম, ০৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০৪ এএম ২০২৬
গণমাধ্যমকে ডিজিটাল বাস্তবতার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে
ছবি

ডিসি সম্মেলন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিং করেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন -ছবি সংগৃহীত

দেশের গণমাধ্যম খাত এখনও পুরোনো অ্যানালগ কাঠামোর মধ্যে আটকে আছে উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তিত ডিজিটাল বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি ‘রূপান্তরিত গণমাধ্যম ইকো-সিস্টেম’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে ভুল তথ্য ও অপতথ্য মোকাবিলা, আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনা এবং সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা নিশ্চিতে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের শেষ দিন গতকাল বুধবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

বৈঠকের শুরুতে ডিসি সম্মেলনকে সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে উল্লেখ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন এবং পরে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় নিজেদের দায়িত্ব-সংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে আলোচনা করে থাকে। এর ধারাবাহিকতায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ও জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছে।

গণমাধ্যম খাতের কাঠামোগত দুর্বলতা সমস্যা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাগুলোকে সুনির্দিষ্টভাবে চিহ্নিত না করায় গদবাঁধা চিন্তা ও কাজের মধ্যেই খাতটি পরিচালিত হয়েছে। এখন সেই অবস্থান থেকে বেরিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে কাজ করতে চায় সরকার।

মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের সমস্যা ব্যাপক। এটি একটি পুরোনো অ্যানালগ জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যাকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। এ লক্ষ্যে জেলা প্রশাসকদেরও প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান তিনি। তার ভাষ্য, তথ্য মন্ত্রণালয় যখন প্রয়োজনীয় সক্ষমতা ও নীতিগত কাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করবে, তখন মাঠ প্রশাসনকে তা বাস্তবায়নে সক্রিয় সহযোগিতা করতে হবে।

সভায় ভুল তথ্য (মিস-ইনফরমেশন) ও অপতথ্য (ডিস-ইনফরমেশন) মোকাবিলার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী। তিনি বলেন, গণমাধ্যমের সঙ্গে সমন্বয় রেখে তথ্যপ্রবাহকে আরো দায়িত্বশীল ও শৃঙ্খলাপূর্ণ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সরকারের তথ্য ব্যবস্থাপনায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতার কথাও স্বীকার করেন জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সরকারের প্রস্তুতি এবং গণমাধ্যমের চাহিদার মধ্যে বর্তমানে একটি স্পষ্ট ব্যবধান রয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় দুর্বলতারই প্রতিফলন। তবে এই সীমাবদ্ধতাগুলো চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে। শিগগিরই আধুনিক তথ্য ব্যবস্থাপনায় প্রবেশ করা সম্ভব হবে।

সাংবাদিকদের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা: সাংবাদিকদের বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা ও পেশাগত সুরক্ষার বিষয়েও সরকারের অবস্থান জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে নোয়াবের সঙ্গে মালিকপক্ষের নীতিগত পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই টেলিভিশন মালিকদের সংগঠনের সঙ্গেও বৈঠক হবে। সাংবাদিকরা সম্মানিত পেশার মানুষ। তাই নিয়োগকর্তারা যেন আইন অনুযায়ী মর্যাদাসম্পন্ন বেতন কাঠামো, চাকরির নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করেন, সে বিষয়ে সরকার উদ্যোগ নেবে।

গণমাধ্যম খাতে পেশাদারিত্বের সংকটের প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে সাংবাদিক ও গণমাধ্যম মালিক পরিচয়ে বিপুলসংখ্যক ব্যক্তি এবং প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। এ অবস্থায় পেশাদার সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে ‘ভাসমান প্রতিষ্ঠানগুলোর’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠছে। তবে বিষয়টি সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, সব পক্ষের মতামত বিবেচনায় নিয়েই সরকার অগ্রসর হতে চায়। অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে অচিরেই গণমাধ্যম খাতের সমস্যাগুলোর কার্যকর সমাধান সম্ভব হবে।

গণমাধ্যমে পেশাদারিত্ব নিশ্চিত হলে অনেক সমস্যার সমাধান হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, গণমাধ্যমে প্রকৃত পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা গেলেই এই খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যার সমাধান স্বয়ংক্রিয়ভাবে হয়ে যাবে।

তিনি বলেন, ‘সরকার জনগণকে অবাধ ও সঠিক তথ্য সরবরাহের নিশ্চয়তা দিতে এবং অপতথ্য থেকে সুরক্ষা দিতে বদ্ধপরিকর।’

বুধবার (৬ মে) দুপুরে সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টারের (বিজেসি) প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। সাক্ষাতে প্রতিনিধি দলটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ তুলে ধরে তথ্যমন্ত্রী মন্তব্য করেন, ‘আমাদের পলিসি হচ্ছে এনালগ কিন্তু চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ডিজিটাল।’
তিনি বলেন, ডিজিটাল যুগের দ্রুত পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে প্রচলিত নীতিমালার আধুনিকায়ন প্রয়োজন। সরকার কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে বরং ‘ফেসিলিটেটর’ বা সহায়ক হিসেবে ভূমিকা পালন করতে চায়। জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সমস্যার স্থায়ী ও টেকসই সমাধানে সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে একটি ‘গণমাধ্যম কমিশন’ গঠন করা হবে। তবে এক্ষেত্রে গণমাধ্যম সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের মধ্যে সুস্থ ঐকমত্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেন তিনি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, অংশীজনদের গঠনমূলক পরামর্শ এই কমিশনকে কার্যকর করতে সহায়ক হবে। সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায় বিজেসি চেয়ারম্যান ফাহিম আহমেদ, সদস্য সচিব ইলিয়াস হোসেন এবং ট্রাস্টি সদস্য রেজোয়ানুল হক, তালাত মামুন ও নূর সাফা জুলহাজ উপস্থিত ছিলেন। প্রতিনিধি দলের নেতারা ব্রডকাস্ট মিডিয়ার ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীয়তা, সাংবাদিকদের পেশাগত সুরক্ষা এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ার বিভিন্ন সংকটের কারিগরি ও নীতিনির্ধারণী দিক তুলে ধরেন। তথ্যমন্ত্রী তাদের প্রস্তাবনাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন।
সানা/আপ্র/৬/৫/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল
১৯ মে ২০২৬

১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধন হবে শাহজালাল বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল

আগামী ১৬ ডিসেম্বর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল চালু করা হবে বলে জানিয়েছেন...

ফায়ার সার্ভিসে ২০ নতুন স্টেশন হচ্ছে, আসছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

ফায়ার সার্ভিসে ২০ নতুন স্টেশন হচ্ছে, আসছে ১০০ অ্যাম্বুলেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সক্ষমতা ও সামর্থ্য বৃদ্ধি...

নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়লো সরকার
১৯ মে ২০২৬

নতুন ডিজাইনের ৫ টাকার নোট বাজারে ছাড়লো সরকার

দেশের ঐতিহাসিক ও প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপত্যকে তুলে ধরে নতুন ডিজাইন ও সিরিজের ৫ টাকা মূল্যমানের কারেন্স...

ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী
১৯ মে ২০২৬

ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতির শিকার হতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

জনগণকে ভূমি সেবা পেতে আর দুর্নীতি শিকার হতে হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে