গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

পরকীয়া জেরে প্রবাসী খুন, গ্রেফতার তাসলিমা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪৮ পিএম, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ০০:৫৩ এএম ২০২৬
পরকীয়া জেরে প্রবাসী খুন, গ্রেফতার তাসলিমা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নরসিংদী থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ও মুগদা থানা পুলিশ।

বুধবার (১৮ মে) মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাসলিমাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে ১৮ মে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হেলেনা বেগম ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩। তবে তখন পলাতক ছিলেন তাসলিমা।

র‍্যাব জানায়, নিহত মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী সুমনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকাকালে মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মোকাররম ঢাকার মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তাসলিমা, হেলেনা ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে অবস্থান করেন তিনি।

র‍্যাবের তথ্যমতে, ওই রাতেই মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে বিয়ে এবং অর্থ ফেরত নিয়ে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তাসলিমাকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ সময় তাসলিমা তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই রাতে হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে মোকাররম অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাসলিমা ও হেলেনা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরদিন সকালে নাশতার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর মোকাররম অচেতন হয়ে পড়লে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে টুকরো টুকরো করা হয়। পরে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের মাথার অংশ বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরদিন অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরতে যান, হোটেলে খাবার খান এবং রাতে ছাদে পার্টিও করেন। এমনকি প্রতিবেশীদেরও পার্টিতে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়।

১৭ মে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের টুকরো উদ্ধার করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে এনআইডি শনাক্ত করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার পর গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব ও পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে হেলেনা ও তার মেয়েকে এবং পরে তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসি/আপ্র/২০/০৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক
২৯ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (কোমানি) শহরের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় ব...

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা
২৮ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

সাড়ে সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৬৪ শিক্ষার্থীর
২৮ জুলাই ২০২৬

সাড়ে সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৬৪ শিক্ষার্থীর

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

মিরপুরে টিসিবির লাইনে দেয়াল ধসে নিহত নারী-পুরুষ
২৮ জুলাই ২০২৬

মিরপুরে টিসিবির লাইনে দেয়াল ধসে নিহত নারী-পুরুষ

 রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে সীমানাপ্রাচীর ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো আটজন...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 4 ঘন্টা আগে