গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

পরকীয়া জেরে প্রবাসী খুন, গ্রেফতার তাসলিমা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:৪৮ পিএম, ২০ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৭:৪৩ এএম ২০২৬
পরকীয়া জেরে প্রবাসী খুন, গ্রেফতার তাসলিমা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সৌদি প্রবাসী মোকাররমকে হত্যার পর মরদেহ আট টুকরো করার ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত পরকীয়া প্রেমিকা তাসলিমা আক্তার ওরফে হাসনাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নরসিংদী থেকে যৌথ অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিট ও মুগদা থানা পুলিশ।

বুধবার (১৮ মে) মুগদা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আহসান উল্লাহ গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে তাসলিমাকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এর আগে ১৮ মে এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে হেলেনা বেগম ও তার ১৩ বছর বয়সী মেয়েকে গ্রেফতার করে র‍্যাব-৩। তবে তখন পলাতক ছিলেন তাসলিমা।

র‍্যাব জানায়, নিহত মোকাররমের সঙ্গে একই গ্রামের সৌদি প্রবাসী সুমনের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। সেই সূত্রে সুমনের স্ত্রী তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে মোকাররমের পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রবাসে থাকাকালে মোকাররম বিভিন্ন সময়ে তাসলিমাকে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা দেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন।

গত ১৩ মে সৌদি আরব থেকে দেশে ফিরে পরিবারের কাউকে না জানিয়ে মোকাররম ঢাকার মুগদা থানার মান্ডা এলাকায় তাসলিমার বান্ধবী হেলেনা আক্তারের ভাড়া বাসায় যান। সেখানে তাসলিমা, হেলেনা ও তার দুই মেয়ের সঙ্গে অবস্থান করেন তিনি।

র‍্যাবের তথ্যমতে, ওই রাতেই মোকাররম ও তাসলিমার মধ্যে বিয়ে এবং অর্থ ফেরত নিয়ে তীব্র বিরোধ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মোকাররম তাসলিমাকে দেওয়া টাকা ফেরত চান। এ সময় তাসলিমা তার ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

একই রাতে হেলেনার ১৩ বছর বয়সী মেয়ের সঙ্গে মোকাররম অসামাজিক আচরণের চেষ্টা করেছেন বলে দাবি করা হয়। এরপর ক্ষুব্ধ হয়ে তাসলিমা ও হেলেনা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পরদিন সকালে নাশতার সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানোর পর মোকাররম অচেতন হয়ে পড়লে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়। পরে হাতুড়ি ও ধারালো বঁটি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

হত্যার পর মরদেহ বাথরুমে নিয়ে টুকরো টুকরো করা হয়। পরে পলিথিন ও বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। নিহতের মাথার অংশ বাসা থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে ফেলে রাখা হয়েছিল।

র‍্যাব জানায়, হত্যাকাণ্ডের পরদিন অভিযুক্তরা বাইরে ঘুরতে যান, হোটেলে খাবার খান এবং রাতে ছাদে পার্টিও করেন। এমনকি প্রতিবেশীদেরও পার্টিতে অংশ নিতে অনুরোধ করা হয়।

১৭ মে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহের টুকরো উদ্ধার করে। ফিঙ্গারপ্রিন্টের মাধ্যমে এনআইডি শনাক্ত করে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়।

ঘটনার পর গোয়েন্দা তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব ও পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় প্রথমে হেলেনা ও তার মেয়েকে এবং পরে তাসলিমাকে গ্রেফতার করা হয়।

এসি/আপ্র/২০/০৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর
২৯ অক্টোবর ২০২৬

বিচারপ্রক্রিয়ায় এআই ব্যবহারে সতর্ক থাকার আহ্বান আইনমন্ত্রীর

বিচারিক সিদ্ধান্ত, রায় লেখা ও সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহারে সতর্ক থাক...

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে