গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:৩৪ পিএম, ১০ জুন ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৫৮ এএম ২০২৬
বৃক্ষরোপণে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ টাকার প্রণোদনা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার চারা বিতরণ করবে সরকার। এ লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৫৩ কোটি ৬৬ লাখ ৩০ হাজার টাকার কৃষি প্রণোদনা ঘোষণা করেছে কৃষি মন্ত্রণালয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির আওতায় দেশের ৬৪ জেলার কৃষকদের মধ্যে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১৬ লাখ ২৮ হাজার বিভিন্ন প্রজাতির ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা, জৈব সার, বাঁশের খুঁটিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করা হবে।

সম্প্রতি কৃষি মন্ত্রণালয়ের উপকরণ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়।

প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, মোট বরাদ্দের মধ্যে চারা বাবদ ১২ কোটি ৯৬ লাখ ৩০ হাজার টাকা, জৈব সার (গোবর) বাবদ ১৯ কোটি ৭৩ লাখ ৬০ হাজার টাকা, বাঁশের খুঁটি বাবদ ৮ কোটি ১৪ লাখ টাকা, পরিবহণ ব্যয় বাবদ ৭ কোটি ৬১ লাখ ৪৪ হাজার টাকা এবং আনুষঙ্গিক ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাবদ ৫ কোটি ২০ লাখ ৯৬ হাজার টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

চারার প্রজাতি অনুযায়ী কৃষি সহায়তাকে চারটি ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি চারার সঙ্গে কৃষক ৩০ কেজি জৈব সার ও একটি করে বাঁশের খুঁটি বিনামূল্যে পাবেন।

ক্যাটাগরি-১ : প্রতিটি নারিকেল চারার জন্য চারা বাবদ ১৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকাসহ মোট ৪১০ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে।

ক্যাটাগরি-২ : আম, লিচু, সফেদা, শরিফা, তাল, কাঁঠাল, আতা, তেঁতুল, বাতাবি লেবুসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ৩১০ টাকা। এর মধ্যে চারা ৬০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৩ : মাল্টা, জলপাই, করমচাসহ এ শ্রেণির চারার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৯০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৪০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

ক্যাটাগরি-৪ : অর্জুন, মেহগনি, সুপারি, আমড়া, আমলকী, নিম, ঘোড়া নিম, জাম, বহেরা, বেল, রেনট্রি কড়ই, খেজুর, কাঠবাদামসহ এ জাতীয় চারার জন্য মোট ব্যয় করা হবে ২৪০ টাকা। এর মধ্যে চারা বাবদ ৩০ টাকা, জৈব সার ১২০ টাকা, বাঁশের খুঁটি ৫০ টাকা, পরিবহন ৪৮ টাকা এবং আনুষঙ্গিক ব্যয় ৩২ টাকা।

সারাদেশে এ কর্মসূচির আওতায় ১৬ লাখ ২৮ হাজার বাঁশের খুঁটি এবং ৪৮ হাজার ৮৪০ মেট্রিক টন জৈব সার বিতরণ করা হবে।

কর্মসূচির শতভাগ স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রজ্ঞাপনে বেশকিছু কঠোর শর্ত আরোপ করা হয়েছে। বরাদ্দকৃত অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে ‘পিপিএ-২০০৬’ ও ‘পিপিআর-২০০৮’ অনুসরণসহ সব আর্থিক বিধি-বিধান মেনে চলতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বরাদ্দের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করা যাবে না।

সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, জেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটি কর্র্তৃক বরাদ্দ করা অর্থ উপজেলা কৃষি পুনর্বাসন বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুকূলে ছাড় করা হবে। কারা এবং কোন প্রতিষ্ঠান এসব চারা পাবেন তার তালিকা প্রস্তুত করবেন উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, একজন কৃষক বা প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ পাঁচটি চারা পাবেন। বসতবাড়ি, পতিত জমি, খালপাড়, সড়কের পাশের ফাঁকা স্থান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় উপাসনালয়সহ বিভিন্ন স্থানে এসব চারা রোপণ করা যাবে।

তারা আরো জানান, তালিকাভুক্ত কৃষকদের ছবিযুক্ত ‘কৃষক কার্ড’ যাচাই করে মাস্টাররোলের মাধ্যমে উপকরণ বিতরণ করতে হবে। কার্ড না থাকলে জাতীয় পরিচয়পত্র ও মোবাইল নম্বর মাস্টাররোলে সংযুক্ত করতে হবে। প্রকৃত তালিকাভুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান প্রধান ছাড়া অন্য কাউকে উপকরণ দেওয়া যাবে না।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন, চারা, জৈব সার ও বাঁশের খুঁটি বিতরণের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। জেলা পর্যায়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরগুলো এ বিষয়ে কাজ করছে এবং খুব শিগগিরই চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ১৩ জুন কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় এ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন। একই দিন দেশের সব জেলা ও উপজেলায় চারা বিতরণ শুরু করা হবে।

কৃষি সচিব  আরো বলেন, ‘আমরা ধারাবহিকভাবে ৫ বছরে মোট ২৫ কোটি গাছের চারা রোপনের সরকারের যে লক্ষ্য রয়েছে তা নির্ধারিত মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পূরণ করব।’

কৃষি মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, উপজেলা ও জেলা কমিটির মাধ্যমে কৃষক তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর নির্ধারিত ‘কৃষক তথ্য ছক’ পূরণ করে উপকরণ বিতরণ শুরুর আগেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (সরেজমিন উইং) বরাবর নির্ধারিত ই-মেইলে পাঠাতে হবে।

আগামী পাঁচ বছরে দেশে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের লক্ষ্য অর্জনে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে অগ্রিম উত্তোলিত অর্থ সমন্বয়ের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এসি/আপ্র/১০/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের ছেড়ে দেওয়া ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ...

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
২৯ অক্টোবর ২০২৬

ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগ আসবে না। আওয়ামী লীগ হচ্ছে নিষিদ্ধ...

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে
২৯ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফের মৃত্যু: যা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট তাহসিফ সৌরির মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন না পেরেও নাক দিয়ে রক্ত...

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ
২৯ অক্টোবর ২০২৬

নিখোঁজের এক দিন পর তুরাগ নদে মিললো সাবেক বিমান কর্মকর্তার মরদেহ

নিখোঁজের এক দিন পর রাজধানীর তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে