পদত্যাগের দুই দিন পর সরকারি বাসভবন বঙ্গভবন ছেড়েছেন দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু। রোববার (২৬ জুলাই) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে তিনি সপরিবারে বঙ্গভবন থেকে রাজধানীর গুলশানে নিজ বাসভবন ‘গ্রিন ভিলা’র উদ্দেশে রওনা হন। পরে বিকেলের দিকে তিনি নিজ বাসায় পৌঁছান।
সাবেক রাষ্ট্রপতির গাড়িবহর বঙ্গভবন থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়। বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীর (এসএসএফ) নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে সরকারি গাড়িবহর নিয়ে তিনি বঙ্গভবন ত্যাগ করেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের বাড়তি তৎপরতা দেখা যায়।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। তার স্বাক্ষর করা পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পৌঁছানোর পর সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারকে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী তার মেয়াদ ছিল পাঁচ বছর। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার প্রায় ২১ মাস আগেই তিনি রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়লেন। পদত্যাগের কারণ হিসেবে তিনি শারীরিক অসুস্থতার কথা উল্লেখ করেছেন।
রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন। পদত্যাগের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার দায়িত্বের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে।
এদিকে বঙ্গভবন ছাড়ার পর ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ সেখান থেকে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। তবে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকারের সরকারি বাসভবনেই অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির গুলশানের বাসভবনেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। সকাল থেকেই সেখানে পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি দেখা যায়। বাসভবনে তার আগমন উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজও সম্পন্ন করা হয়।
আইন অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদে ছয় মাসের বেশি দায়িত্ব পালনকারী ব্যক্তি অবসর ভাতা, আনুতোষিক ও অন্যান্য নির্ধারিত সুবিধা পাওয়ার অধিকারী হন। মো. সাহাবুদ্দিন দুই বছরের বেশি সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী এসব সুবিধা পাওয়ার যোগ্য বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
তবে পদত্যাগের পর সাবেক রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তা, প্রটোকল, সরকারি যানবাহন বা অন্যান্য সুবিধার বিষয়টি সরকারের পৃথক সিদ্ধান্ত ও প্রচলিত বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
সানা/এসি/আপ্র/২৬/০৭/২০২৬