গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ০০:২১ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০১:২৪ এএম ২০২৬
দক্ষিণ আফ্রিকায় আগুনে ছয় বাংলাদেশি নিহত, নারায়ণগঞ্জে শোক
ছবি

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। তাদের মধ্যে তিনজনের ছবি পরিবার থেকে সংগৃহীত

দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন (কোমানি) শহরের একটি সুপারশপে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে পাঁচজনই নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার বাসিন্দা। স্বজনদের কাছে মৃত্যুর খবর পৌঁছানোর পর থেকে নারায়ণগঞ্জের পাঁচটি পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের কান্না ও আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার পরিবেশ।

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আলীরটেক ইউনিয়নের কোকের চর এলাকার মনির হোসেনের ছেলে মো. ফাহিম (২৯), একই এলাকার আলী মিয়ার ছেলে মো. আপন (২৩), নুর মোহাম্মদ (৫৫), বক্তাবলী ইউনিয়নের তৈলখিরার চর এলাকার ফারুক হোসেনের ছেলে মো. ফয়সাল (২৬), কানাইনগর এলাকার মৃত আক্তার হোসেনের ছেলে মো. শাহিন (৩০) এবং মুন্সিগঞ্জ জেলার মিরকাদিম পৌরসভার কালিন্দিপাড়া এলাকার মৃত সালাম ব্যাপারীর ছেলে মো. রাজিক (৫৫)।

দক্ষিণ আফ্রিকায় থাকা বাংলাদেশিদের বরাত দিয়ে স্বজনেরা জানান, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ভোরে কুইন্সটাউনের শ্রম এলাকায় একটি সুপারশপে আগুনের সূত্রপাত হয়। এ সময় দোকানের ভেতরে থাকা বাংলাদেশিরা বের হতে না পারায় আগুনে দগ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই ছয়জনের মৃত্যু হয়।

নিহত ফাহিম প্রায় ১১ বছর আগে জীবিকার সন্ধানে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাড়ি জমিয়েছিলেন। পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার আশায় দীর্ঘদিন সেখানে কাজ করছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুর খবরে বাবা মনির হোসেন নির্বাক হয়ে পড়েছেন।

ফাহিমের ভগ্নিপতি মো. সজীব বলেন, “ফাহিমের মৃত্যুতে আমাদের বাড়িতে আহাজারি চলছে। সে পুরো সংসারের দায়িত্ব পালন করত।”

নিহত মো. আপন চার বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। তাঁর বাবা আলী মিয়া স্থানীয়ভাবে চায়ের দোকান চালান এবং মা আকলিমা বেগম গৃহিণী। বড় ভাই জুয়েল সৌদি আরবে কর্মরত।

আপনের মৃত্যুর খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। তাঁর মামা রাসেল বলেন, “পরিবারের ভাগ্য বদলানোর আশায় বিদেশে গিয়েছিল। কিন্তু লাশ হয়ে ফিরবে, এটা কখনো ভাবিনি।”

স্বজনেরা জানান, নিহতদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া এবং অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম ফয়েজ উদ্দিন জানান, দক্ষিণ আফ্রিকার অগ্নিকাণ্ডে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন নারায়ণগঞ্জের এবং একজন মুন্সিগঞ্জের বাসিন্দা। তিনি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে তাঁদের বাড়িতে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এদিকে আকস্মিক এই মৃত্যুর ঘটনায় নিহতদের পরিবারগুলোর পাশাপাশি স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় বিদেশে যাওয়া এসব প্রবাসীর এমন করুণ মৃত্যুতে স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর বেদনা।
সানা/আপ্র/২৯/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা
২৮ জুলাই ২০২৬

চলতি বছরেই শুরু হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন: তথ্য উপদেষ্টা

চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী...

সাড়ে সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৬৪ শিক্ষার্থীর
২৮ জুলাই ২০২৬

সাড়ে সাত বছরে সড়কে প্রাণ গেছে ৭৩৬৪ শিক্ষার্থীর

রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদন

মিরপুরে টিসিবির লাইনে দেয়াল ধসে নিহত নারী-পুরুষ
২৮ জুলাই ২০২৬

মিরপুরে টিসিবির লাইনে দেয়াল ধসে নিহত নারী-পুরুষ

 রাজধানীর মিরপুরে টিসিবির পণ্য কিনতে এসে সীমানাপ্রাচীর ধসে দুইজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো আটজন...

প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান
২৮ জুলাই ২০২৬

প্রথমবার জাতিসংঘে ভাষণ দেবেন তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আগামী ২১ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 50 মিনিট আগে