বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের স্বর্ণযুগের অন্যতম নেপথ্য কারিগর, প্রযোজক ও নির্মাতা মুস্তাফিজুর রহমানকে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে জানাজা শেষে রাজধানীর বনানী কবরস্থানে চিরনিদ্রায় শায়িত হন বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক মুস্তাফিজুর রহমান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।
গত রোববার রাজধানীর উত্তরায় নিজ বাসায় মারা যান তিনি। তার দুই ছেলে রানা মুস্তাফিজ ও অভি মুস্তাফিজ দেশের বাইরে থাকায় গত কয়েক দিন তার মরদেহ মহাখালীর একটি হাসপাতালে সংরক্ষিত ছিল। সন্তানরা দেশে ফেরার পর বুধবার তার জানাজা ও দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।
সকালে মুস্তাফিজুর রহমানের কফিন নেওয়া হয় তার দীর্ঘদিনের কর্মস্থল বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) ভবনে। সেখানে তার সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনেরা শ্রদ্ধা জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক ও লেখক খ ম হারূন, সাবেক পরিচালক নওয়াজিশ আলী খান, সাবেক বার্তা পরিচালক হাসিম রেজা, সাবেক উপমহাপরিচালক মেনকা হাসান, বর্তমান মহাপরিচালক মাহবুবুল আলমসহ অনেকে।
বিটিভিতে জানাজা শেষে মরদেহ নেওয়া হয় চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে। সেখানে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগরসহ বিনোদন অঙ্গনের ব্যক্তিরা শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পরে উত্তরা ৩ নম্বর সেক্টর জামে মসজিদে আরেক দফা জানাজা শেষে বিকেলে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেন তার স্ত্রী, নজরুলসংগীত শিল্পী রওশন আরা মুস্তাফিজ।
মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন বাংলাদেশের টেলিভিশন নাটকের ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ নাম। বিটিভিতে তার প্রযোজনায় নির্মিত ‘এইসব দিনরাত্রি’ নাটকটি আজও দর্শকের স্মৃতিতে অমলিন। কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের লেখা এই ধারাবাহিক নাটকের প্রযোজনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন তিনি।
বিটিভির সাবেক উপমহাপরিচালক খ ম হারূনের ভাষ্য, ‘এইসব দিনরাত্রি’র জনপ্রিয়তার পেছনে মুস্তাফিজুর রহমানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তিনি বলেন, হুমায়ূন আহমেদ প্রথমে এক পর্বের নাটক হিসেবে ‘এইসব দিনরাত্রি’ লিখেছিলেন। পাণ্ডুলিপি পড়ে মুস্তাফিজুর রহমান তাকে ধারাবাহিক নাটক হিসেবে লেখার পরামর্শ দেন। পরে নাটকটি ধারাবাহিক আকারে নির্মিত হলে তা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়।
খ ম হারূন বলেন, হুমায়ূন আহমেদের জনপ্রিয়তার পেছনে মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন নেপথ্যের অন্যতম কারিগর।
‘এইসব দিনরাত্রি’ ছাড়াও মুস্তাফিজুর রহমান ‘পারলে না রুমকি’, ‘সময় অসময়’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় নাটক প্রযোজনা করেছেন।
তিনি শুধু টেলিভিশন প্রযোজকই ছিলেন না, চলচ্চিত্র নির্মাণেও রেখেছেন কৃতিত্বের স্বাক্ষর। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘শঙ্খনীল কারাগার’ অবলম্বনে তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণ করেন এবং এর চিত্রনাট্যও রচনা করেন।
কর্মজীবনে তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালকের দায়িত্ব পালন করেন। পরে বাংলাভিশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে কাজ করেন এবং পরবর্তী সময়ে গাজী টেলিভিশনেও যুক্ত ছিলেন।
সহকর্মীদের মতে, মুস্তাফিজুর রহমান ছিলেন এমন একজন টেলিভিশন ব্যক্তিত্ব, যিনি শুধু ভালো অনুষ্ঠান নির্মাণ করেননি; বরং নতুন প্রজন্মের অনেক গণমাধ্যমকর্মী তৈরিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৯/৭/২০২৬