অনিয়মিত অভিবাসনের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে আরও ২৩ বাংলাদেশিকে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে ওমনি এয়ারের বিশেষ ফ্লাইট (OAE2323) তাদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
দেশে ফেরার পর প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক ও এভিয়েশন সিকিউরিটির (এভসেক) সহযোগিতায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম তাদের তাৎক্ষণিক সহায়তা, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছানোর জন্য পরিবহন সহায়তা দেয়।
ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের তথ্য অনুযায়ী, ফেরত আসা ২৩ বাংলাদেশির মধ্যে ১৩ জন নোয়াখালীর বাসিন্দা। এছাড়া তিনজন সিলেটের। অন্যরা কক্সবাজার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মুন্সীগঞ্জ, কুমিল্লা, লক্ষ্মীপুর, ঢাকা ও অন্যান্য জেলার বাসিন্দা।
ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন ও ইয়ুথ প্ল্যাটফর্ম) শরিফুল হাসান জানান, প্রাথমিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ফেরত আসা অধিকাংশ বাংলাদেশি দক্ষিণ ও মধ্য আমেরিকার দীর্ঘ, ব্যয়বহুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ পথ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। এ পথে জনপ্রতি প্রায় ৫০ থেকে ৬৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে। উন্নত জীবনের আশায় বিপুল অর্থ খরচ করেও শেষ পর্যন্ত অভিবাসন–সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় পড়ে তাদের দেশে ফিরতে হয়েছে।
শরিফুল হাসান বলেন, অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সবাইকে সচেতন হওয়া জরুরি।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, ফেরত আসা ২৩ জনের মধ্যে ২০ জন ব্রাজিল থেকে বলিভিয়া, পেরু, ইকুয়েডর, কলম্বিয়া, পানামা, কোস্টারিকা, নিকারাগুয়া, হন্ডুরাস ও গুয়াতেমালা হয়ে মেক্সিকো সীমান্ত অতিক্রম করে অনিয়মিতভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। এ দীর্ঘ যাত্রায় তাদের বাস ও পায়ে হেঁটে ১৩ থেকে ১৫টি দেশ অতিক্রম করতে হয়েছে। এ ছাড়া একজন দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ব্রাজিল হয়ে একই রুট ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। আরেকজন নিউইয়র্ক রুট দিয়ে দেশটিতে প্রবেশ করেন।
ফেরত আসা ব্যক্তিদের ভাষ্য অনুযায়ী ব্রাজিল রুট ব্যবহারকারীদের অধিকাংশই জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (বিএমইটি)-এর ছাড়পত্র নিয়ে ব্রাজিলে গিয়েছিলেন। অন্যরা ট্যুরিস্ট ভিসায় ব্রাজিলে প্রবেশের পর দালালচক্রের সহায়তায় একই অনিয়মিত পথে যুক্তরাষ্ট্রে যান। যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে তাদের কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজও করেন। তবে বৈধ অভিবাসনের প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ করতে না পারায় তারা মার্কিন অভিবাসন কর্তৃপক্ষের নজরে পড়েন। পরে অভিবাসন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তাদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।
কেএমএএ/আপ্র/৩০.০৭.২০২৬