গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মেনু

মাদকাসক্তি ও প্যাথলজিকাল জেলাসি: দাম্পত্যকলহের অদৃশ্য বিষ

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৪৪ পিএম, ০৯ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:১৫ এএম ২০২৬
মাদকাসক্তি ও প্যাথলজিকাল জেলাসি: দাম্পত্যকলহের অদৃশ্য বিষ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মাদকাসক্তি আমাদের চিরাচরিত পারিবারিক মেলবন্ধনকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। মাদকের প্রভাব শুধু একজন ব্যক্তির শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তার পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্ককেও গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। মাদকাসক্তির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত একটি মানসিক সমস্যা হলো প্যাথলজিকাল জেলাসি (Pathological Jealousy) বা অসুখজনিত ঈর্ষা, যা অনেক সময় দাম্পত্য জীবনকে অসহনীয় করে তোলে এবং পারিবারিক সহিংসতার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

প্যাথলজিকাল জেলাসি বলতে এমন এক ধরনের অযৌক্তিক, অতিরঞ্জিত, অহেতুক ও নিয়ন্ত্রণহীন সন্দেহকে বোঝায়, যেখানে ব্যক্তি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতে শুরু করে যে তার সঙ্গী (স্বামী বা স্ত্রী) তার সঙ্গে প্রতারণা করছেন, অন্য কারও সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়েছেন বা অন্য কারও প্রতি আকৃষ্ট হয়েছেন, যদিও এর স্বপক্ষে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ থাকে না।

ধীরে ধীরে এই বিশ্বাস ব্যক্তির আচরণ, আবেগ ও চিন্তার ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং তার চিন্তায় অনড়তা বা রিজিডিটি (Rigidity) সৃষ্টি করে। এর ফলে ব্যক্তি তার সঙ্গীকে বারবার জিজ্ঞাসাবাদ করেন, মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম তল্লাশি করেন, চলাফেরায় বিধিনিষেধ আরোপ করেন, এমনকি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনও করেন। ফলশ্রুতিতে, যাকে এ ধরনের সন্দেহ করা হয়, তার জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে। এমনকি তার সন্তানরাও মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে থাকে।

অ্যালকোহল, ইয়াবা, কোকেন কিংবা অন্যান্য উত্তেজক মাদক দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে চিন্তা, বিচার-বিবেচনা ও বাস্তবতা যাচাইয়ের ক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে সন্দেহপ্রবণতা, বিভ্রান্তিকর বিশ্বাস এবং আক্রমণাত্মক আচরণ তৈরি হতে পারে। বস্তুত, সামান্য ঘটনাকেও তারা অবিশ্বাস বা প্রতারণার প্রমাণ হিসেবে দেখতে শুরু করেন।

এই অসুস্থতাকে মনোরোগবিদ্যায় ওথেলো সিন্ড্রোম (Othello Syndrome) নামেও অভিহিত করা হয়। দীর্ঘদিন অ্যালকোহল সেবন বা মাদক গ্রহণের ফলে এ ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে।

এটিকে রোমান্টিক ভালোবাসার দ্বন্দ্ব বা অতিরিক্ত ভালোবাসার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে ভুল ব্যাখ্যা না করে যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করুন। সাইকিয়াট্রিক ওষুধের পাশাপাশি ফ্যামিলি থেরাপি, কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (CBT) এবং কাপল থেরাপি গ্রহণ করা উপকারী হতে পারে।

ভালো থাকুন। বাংলাদেশের প্রতিটি ঘর হোক ভালোবাসা ও বিশ্বাসের অটুট বন্ধন।

শুভাশীষ কুমার চ্যাটার্জী, সাইকোলজিস্ট, উপ-পরিচালক (সাইকোলজিক্যাল সার্ভিসেস),শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শদান কেন্দ্র
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়.

এসি/আপ্র/০৯/০৬/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশ বদলাতে চাইলে, শিক্ষকের জীবনমান ও শিক্ষা বদলান
২৯ জুলাই ২০২৬

দেশ বদলাতে চাইলে, শিক্ষকের জীবনমান ও শিক্ষা বদলান

মোঃ সেলিমুজ্জামানএকটি দেশের প্রকৃত উন্নয়ন শুধু উঁচু দালান, প্রশস্ত সড়ক, উচ্চতর ডিগ্রি, ভালো ফলাফল কি...

একদিকে ক্ষুধার লড়াই, অন্যদিকে কোটিপতির উত্থান
২৯ জুলাই ২০২৬

একদিকে ক্ষুধার লড়াই, অন্যদিকে কোটিপতির উত্থান

শাহানা হুদা রঞ্জনা    অনেকের মনেই এখন একই প্রশ্ন- একই অঙ্কের বেতন পেয়েও গত কয়েক...

রেন্টাল ও এলপিজির ভুল থেকে কি শিক্ষা নেবে বিদ্যুৎ বিতরণ খাত?
২৯ জুলাই ২০২৬

রেন্টাল ও এলপিজির ভুল থেকে কি শিক্ষা নেবে বিদ্যুৎ বিতরণ খাত?

এম এম মুসা======একটি প্রশ্ন করা যাক। খুব সহজ প্রশ্ন। বিদ্যুৎ বিতরণ বেসরকারি হলে টাকা যাবে কার পকেটে?...

ক্লিনিক থেকে ক্লিনিকে, বাড়ছে ‘অ্যাসথেটিক’ অর্থনীতি
২৯ জুলাই ২০২৬

ক্লিনিক থেকে ক্লিনিকে, বাড়ছে ‘অ্যাসথেটিক’ অর্থনীতি

শোয়েব সাম্য সিদ্দিক ====ঢাকার বাণিজ্যিক ভবনগুলোর চিত্র এখন অনেকটাই বদলে গেছে। একই ভবনে রেস্তোরাঁর পা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে