গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

তার ‘গণতন্ত্রের স্কুলেই’ শেষ বিদায়

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:২১ পিএম, ১৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৮:৫০ এএম ২০২৬
তার ‘গণতন্ত্রের স্কুলেই’ শেষ বিদায়
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আশিস সৈকত

তবর্ষণমুখর বিকেলেও তার শেষ যাত্রায় ছিল অসংখ্য মানুষ। দীর্ঘদিনের প্রিয় সংসদ ভবনে তিনি আসেন সতীর্থদের কাঁধে করে। এখানেই হয় তার শেষ জানাজা, চিরবিদায়। এই সংসদ ভবনকেই তিনি মানতেন গণতন্ত্রের স্কুল হিসেবে। বলতেন, গণতন্ত্রের জন্য সংসদ এবং নির্বাচনই হলো প্রধান অনুষঙ্গ। সেই গণতন্ত্রের স্কুলেই শেষ বিদায় নিলেন পঞ্চগড় থেকে বারবার নির্বাচিত হয়ে আসা স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার।

রোববার (১২ জুলাই) ভোরে তিনি চলে যান না ফেরার দেশে। এদিন সকালে প্রবল বর্ষণের সময়ই আসে সেই দুঃসংবাদ। সাবেক স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার আর নেই। কিছুক্ষণ টিভি বন্ধ করে আপনার বর্ণাঢ্য জীবনের কথাই ভাবছিলাম। কত স্মৃতি এই বিশাল ব্যক্তিত্বের মানুষটার সাথে। বিশেষত ২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যন্ত লম্বা সময় স্পিকারের দায়িত্বে থাকাকালে কতই না সুযোগ হয়েছে তার কাছে যাবার। ২০০১ সালে বিএনপি সরকার গঠনের পর অনেকই তাকে মন্ত্রী না বানানোয় ক্ষুব্ধ হন। কিন্তু মন্ত্রিসভা গঠনের কয়েক দিন পরই জানা যায়, ওই সময়ের সংসদনেতা বেগম খালেদা জিয়া তাকে স্পিকার হিসেবে চান। ফলে বিএনপি সরকার গঠনের কয়েকদিন পরই তিনি সংসদের স্পিকার নির্বাচিত হন।

২০০১ সালের ২৮ অক্টোবর বিদায়ী স্পিকার আবদুল হামিদের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্পিকারের দায়িত্ব বুঝে নেন। তখন আমি প্রথম আলোর রিপোর্টার হিসেবে সংসদে কাজ করি। সংসদ ভবনের ৫ম তলায় স্পিকারের কক্ষে বিদায়ী স্পিকারের কাছ নতুন স্পিকারের দায়িত্ব নেওয়ার ঘটনা দেখার সুযোগ হয়েছিল। এরপর টানা ৯ বছর তার স্পিকারের দায়িত্ব পালনকালে সংসদে তাকে কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছিল। রিপোর্টিংয়ের কাজের বাইরে বাংলাদেশ পার্লামেন্ট জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সাংবাদিকদের নানা পেশাগত ইস্যুতে তার সহায়তা সমর্থন পেয়েছি। সাংবাদিকদের পেশাগত অসংখ্য ট্রেনিংয়ের আয়োজন ওই সময় করা সম্ভব হয়েছিল।

সংবিধান, সংসদ ও প্রাতিষ্ঠানিক নেতৃত্বের এক অনন্য উত্তরাধিকার
এসব অনেক আয়োজনেই তিনি নিজে উপস্থিত থেকে সাংবাদিকদের উৎসাহ দিতেন। বলতেন সাংবাদিকদের পড়াশোনা করতে হবে সারা জীবন। সংসদে ওই সময় থেকেই আমরা সংসদ লাইব্রেরিতে কাজ করার অবারিত সুযোগ পাই। সংসদ লাইব্রেরির অফুরন্ত বইয়ের ভাণ্ডার ছিল আমাদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। ওই সময় সংসদ লাইব্রেরির প্রধান আবু দাউদ ভাইও আমাদের উৎসাহ দিতেন। শুধু বাংলাদেশের সংসদ নয়, পৃথিবীর নানা দেশের সংসদ কার্যপ্রণালী দেখার সুযোগ হয়েছে। পেশাগত সম্পর্ক ছাড়িয়ে তার সাথে সাংবাদিকদের সাথে চলে গিয়েছিল ব্যক্তিগত পর্যায়ে।

তার একটা কথা আজ খুব মনে পড়ছে- ঘৃণা ছড়িয়ে নয়, ভালোবাসা ছড়িয়েই কেবল দেশের জন্য কাজ করা যায়। মানুষকে ভালোবাসার এক দারুণ শক্তি ছিল তার। আর তাই তো রাষ্ট্রের প্রয়োজনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে বঙ্গভবনে গিয়েও সংসদের কর্মরত সাংবাদিকদের ভোলেননি; ডেকেছেন বঙ্গভবনেও। বঙ্গভবনের সাময়িক দায়িত্ব আবারও ফিরে আসেন সংসদেই। সংসদ না থাকলেও ওয়ান-ইলেভেনের পুরো সময়টা তিনি শক্ত করে সংসদের হাল ধরে রেখেছিলেন। সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার ওই সময় এমপি হোস্টেল তাদের কাজে নেওয়ার চেষ্টা করলেও স্পিকার শক্ত হাতে তা আটকে দেন।

২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ২০০৯ সালের ২৫ জানুয়ারি সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। নিয়ম অনুসারে ওই অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার। নির্বাচিত হন সংসদের নতুন স্পিকার অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ। নতুন স্পিকারের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করে বিদায় নেন তিনি। বিদায় নেবার আগে দুই স্পিকার অনেকক্ষণ একে অপরকে জড়িয়ে ধরেন। ভালোবাসায় আপ্লুত হবার ওই ছবি পরদিন অনেক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল। ওইদিন স্পিকার জমির উদ্দিন সরকার বলেছিলেন, দেশের সব সমস্যার সমাধান করতে হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। বলেছিলেন নির্বাচিত সংসদ হলো মানুষের ভালোবাসার জায়গা। সংসদে সব বিতর্ক হবে মানুষের কল্যাণে। বিদ্বেষ আর ঘৃণা নয়, সংসদ ছড়াবে ভালোবাসার সুবাতাস। কিন্তু সেই কথা আমরা রাখতে পারিনি। বড় ভালোবাসাহীন এক সময় পার করছি আমরা। এই সময়ে ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকারের মতো মানুষের বড় প্রয়োজন ছিল।

লেখক: সাংবাদিক ও কলাম লেখক
(মতামত লেখকের সম্পূর্ণ নিজস্ব)

কেএমএএ/আপ্র/১৬.০৭.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

বিচারপ্রবণ বা দোষ সন্ধানী মানসিকতা, ন্যায় বিচারের পথে অন্তরায়
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিচারপ্রবণ বা দোষ সন্ধানী মানসিকতা, ন্যায় বিচারের পথে অন্তরায়

ব্যারিস্টার পল্লব আচার্যপেশাগত, সামাজিক, পারিবারিক, বংশগত বা ব্যক্তিগত অবস্থানের ভিত্তিতে প্রত্যেক ম...

এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা ও বাস্তবতা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এশিয়ান গেমসে প্রত্যাশা ও বাস্তবতা

জাহিদ রহমানপ্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঝটপট কিছু করার চেয়ে যে কোনো কিছু সঠিক পরিকল্পনায় করতে বেশি উৎসা...

আরও বিশ্ববিদ্যালয় কেন, কার স্বার্থে?
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আরও বিশ্ববিদ্যালয় কেন, কার স্বার্থে?

খায়ের মাহমুদবাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা এখন উচ্চশিক্ষা পরিকল্পনার চেয়ে যেন রাজনৈতিক মর্যাদা, আ...

সম্পত্তি হস্তান্তরের আইন: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সম্পত্তি হস্তান্তরের আইন: কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ

আবু আহমেদ ফয়জুল কবিরসম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস হওয়া ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) আইনের গেজেটেও প্রকাশি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই