গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

মেনু

রাজপথে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি

সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের আল্টিমেটাম

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২০:৪৪ পিএম, ১৪ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০২:০৩ এএম ২০২৬
সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দাবিতে ১১-দলীয় ঐক্যের আল্টিমেটাম
ছবি

শনিবার দুপুরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে কথা বলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন -ছবি সংগৃহীত

বিএনপি সরকারকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার দাবি জানিয়েছে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। এ জন্য রোববার (১৫ মার্চ) পর্যন্ত সময় দিয়েছে তারা।

জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের জন্য যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য। শিগগিরই শীর্ষ নেতারা বৈঠক করে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করবে।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের বৈঠক শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ এ কথাগুলো বলেন। এর আগে বেলা ১১টায় জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ১১-দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির এক জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, ১৫ মার্চ সরকারের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। এর মধ্যে যদি সরকার জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন না ডাকে বা ডাকার ব্যবস্থা না করে, তাহলে তারা জাতির কাছে ক্ষমা পাবে না। সংসদ নেতাসহ সরকারকেই এর দায়দায়িত্ব নিতে হবে।

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, এবার জনগণের ভোটাধিকারের প্রতিফলনের নির্বাচন হয়নি। নির্বাচনে হাঙ্গামা কম হয়েছে, তবে নির্বাচনের মাধ্যমে জন-আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন হয়নি, এটা এরই মধ্যে প্রতীয়মান হয়েছে। তারপরও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে নির্বাচন মেনে নিয়েছে ১১-দলীয় ঐক্য।

জুলাই সনদ বাস্তবায়নে আয়োজিত গণভোটে দেশের ৭০ ভাগ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নের ওপর ভোট মানে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের ভোট। দুটো ভোট একসঙ্গে হয়েছে, একসঙ্গে ফল প্রকাশ হয়েছে, গেজেট হয়েছে। জনগণের ভোটে পাস করার ওপর সরকারের দায়িত্ব হচ্ছে এটি বাস্তবায়ন করা।

১১–দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক বলেন, একই দিনে দুটি ভোট হয়েছে, দুটি অধিবেশনই ডাকার কথা। কিন্তু অধিবেশন ডাকা হয়েছে শুধু জাতীয় সংসদের। বিএনপির সংসদ সদস্যরা দলীয় সিদ্ধান্তে সংসদ সদস্যের শপথ নিলেও সংস্কার পরিষদের শপথ নেননি। এতে বোঝা যায়, বিএনপি সরকার গঠনের পর তাদের আগের অবস্থান থেকে ইউটার্ন নিয়েছে, সম্পূর্ণ বিপরীত অবস্থানে চলে গেছে। এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা ও বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে। যারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে রায় দিয়েছে, তাদের অপমান করা হয়েছে।

ছয়টি সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে ১১-দলীয় ঐক্য প্রতিবাদ জানিয়েছে উল্লেখ করে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, এটা আরেকটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের পাঁয়তারা কি না, সেই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী সব পর্যায়ে জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হবেন, তবে প্রশাসক নিয়োগ করা মানে নির্বাচন বিলম্বিত করা, ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করার নতুন ষড়যন্ত্রের ফাঁদ তৈরি করা। এসব বিষয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকার যেন তাদের প্রত্যাহার করে নেয়।

জামায়াতের এই নেতা আরো বলেন, এখন ঢালাওভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, প্রশাসনিক রদবদল হচ্ছে। আবার দলীয় সিদ্ধান্ত না মানলে তাঁকে প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এগুলো বন্ধ করতে হবে। কারণ, এটি পেশাদারত্ব নষ্ট করে। অতীতে যেভাবে দলীয় সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বিভিন্নজনকে বিভিন্ন জায়গায় বসানো হয়েছে, সে প্রক্রিয়ায় ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এটিও বন্ধ করতে হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করার জন্য ২৮ মার্চ ১১ দলের শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের একটি প্রস্তাব করা হয়েছে। এটি চূড়ান্ত হলে সেই বৈঠকে আগামী দিনের আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন করা হবে।
আরেক প্রশ্নের যেভাবে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বেছে বেছে সংস্কার বাস্তবায়ন করতে চাইলে রাষ্ট্রের মূল সংস্কার হবে না। পছন্দ অনুযায়ী সংস্কার করতে চাইলে সেটি জনগণ মানবে না। কারণ, জনগণ জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশের ওপর গণভোটে হ্যাঁ–এর পক্ষে রায় দিয়েছে।

সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণ বিষয়ে সৃষ্ট ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে জবাবে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, নতুন স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি যে এজেন্ডা রেখেছেন, সেই আলোচনায় বলা হয়েছে, স্বৈরাচারের কোন দোসর যাতে এখানে বক্তৃতা দিতে না আসে। কিন্তু এরপরও সেটি মানা হয়নি। সংসদীয় নীতি মেনেই বিরোধী দল তার ভূমিকা পালন করেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই ঘটনায় রাষ্ট্রপতির অবমাননা হয়েছে। বিরোধী দল রাষ্ট্রপতিকে অবমাননা করেনি, বরং স্বৈরাচারের দোসরকে সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দিয়ে বিএনপি সংসদকে কলুষিত করেছে, জাতিকে অপমান করেছে।

ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব জালালুদ্দিন আহমদ, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান (ইরান), বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আবদুল মাজেদ আতহারী, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডিয়াম সদস্য নেয়ামুল বশির প্রমুখ।

সানা/আপ্র/১৪/৩/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

আওয়ামী লীগকে আর কখনও রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ
১৮ মে ২০২৬

আওয়ামী লীগকে আর কখনও রাজনীতি করতে দেওয়া হবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য (এমপি) হাসনাত...

সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম
১৭ মে ২০২৬

সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করছে মধ্যবর্তী নির্বাচন: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সরকারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে, মধ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

গ্রামীণ ব্যাংকের উচ্চ সুদহার নিয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে হাইকোর্টের রুল জারি

গ্রামীণ ব্যাংকের ক্ষুদ্রঋণের সুদের হার কেন দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদের হারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাই কোর্ট। আপনি কি মনে করেন- গ্রামীণ ব্যাংক সবচেয়ে চড়া সুদ আদায় করে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 14 ঘন্টা আগে