গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

কোরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক, পুরস্কার দিলেন প্রতিবেশীকে

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬:৩৯ পিএম, ২২ আগস্ট ২০২৬ | আপডেট: ১৯:৫২ এএম ২০২৬
কোরআন প্রতিযোগিতায় খ্রিস্টান যুবক, পুরস্কার দিলেন প্রতিবেশীকে
ছবি

ছবি সংগৃহীত

মিসরে কোরআন বিষয়ক একটি ইসলামী প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ পেয়েছেন মিনা নামে এক খ্রিস্টান যুবক। তবে পুরস্কারটি নিজের জন্য নয়, দীর্ঘদিনের ওমরাহ পালনের স্বপ্ন দেখা মুসলিম প্রতিবেশী উম আলীকে দেওয়ার জন্যই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলেন তিনি।

মিসরের ইসলামী আলোচক ড. আইমান আবু ওমরের পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের একটি সরাসরি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে প্রতিযোগিতাটির বিষয়ে জানতে পারেন মিনা। সেখানে তিনি জানতে পারেন, তার প্রতিবেশী উম আলীও বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ পেতে প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছেন। প্রতিবেশীর স্বপ্নের কথা জানতে পেরে মিনাও প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

মিনা বলেন, ‘আমি খ্রিস্টান। কিন্তু আমি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিলাম আমার প্রতিবেশীকে ওমরাহর পুরস্কারটি নিতে সহায়তা করার জন্য।’

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার শুরুতেই তিনি উম আলীকে জানিয়েছিলেন, তিনিও এতে অংশ নেবেন। উম আলী নিজে পুরস্কারটি জিততে না পারলে তার হয়ে তিনি পুরস্কারটি জেতার চেষ্টা করবেন বলেও জানান মিনা।

পুরস্কার জিততে মিনা ৫০ থেকে ৬০ বারের বেশি সঠিক উত্তর জমা দেন। শেষ পর্যন্ত তার প্রচেষ্টা সফল হয় এবং তিনি বিনামূল্যে ওমরাহ পালনের সুযোগ অর্জন করেন।

মিনা পুরস্কার জেতার পর উম আলী জানতে পারেন, তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন পূরণের সুযোগ নিশ্চিত হয়েছে। এতে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন তিনি।

উম আলী জানান, ওমরাহ পালন তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। শারীরিকভাবে ভ্রমণ ও স্বাচ্ছন্দ্যে হাঁটাচলা করার সক্ষমতা থাকা অবস্থায় পবিত্র এই সফরে যাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে প্রার্থনা করে আসছিলেন।

মিনা বলেন, সুখবরটি দেওয়ার পর তিনি উম আলীকে চোখের পানি মুছতে দেখেন। তার ভাষায়, ‘আমি জানতাম না, ওমরাহ এতটা আনন্দের কারণ হতে পারে।’

দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে পাশাপাশি বসবাস করছে দুই পরিবার। দীর্ঘদিনের এই সম্পর্ক তাদের সাধারণ প্রতিবেশীর সম্পর্কের সীমা ছাড়িয়ে গেছে। খ্রিস্টান হলেও মিনা উম আলীকে নিজের বড় বোনের মতো মনে করেন। উম আলীর মা-বাবার প্রতিও নিজের পরিবারের সদস্যদের মতোই সম্মান ও ভালোবাসা দেখান তিনি।

ঘটনাটি মিসরের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। অনেকে মিনার এই উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন। ভিন্ন ধর্মের দুই প্রতিবেশীর মধ্যে দীর্ঘদিনের আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের উদাহরণ হিসেবে ঘটনাটি তুলে ধরছেন তারা।

সূত্র: গালফ নিউজ

এসি/আপ্র/২২/০৮/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা

ইসলাম===

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি...

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার...

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়

নফস মানুষের স্বাভাবিক সত্তার একটি অংশ। এটি মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় দিকেই পরিচালিত করতে পারে। তবে মান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই