রমজান পরবর্তী শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এই রোজাগুলো সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ হিসেবে পরিচিত। পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দের রেশ কাটতে না কাটতেই ইবাদতের এই বিশেষ সুযোগ আসে। শাওয়ালের এই ছয় রোজা সম্পর্কে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরা হলো—
১. পুরো বছর রোজার সওয়াব
প্রত্যেক নেক আমলের সওয়াব অন্তত দশ গুণ বৃদ্ধি করা হয়। এই হিসেবে রমজানের ৩০ রোজা ৩০০ দিনের সমান এবং শাওয়ালের ৬ রোজা ৬০ দিনের সমান সওয়াব বহন করে। অর্থাৎ রমজানের ৩০ রোজা ও শাওয়ালের ৬ রোজা অর্থাৎ বছরে এই ৩৬ দিন রোজা রাখলে পুরো বছর রোজা রাখার সমান সওয়াব পাওয়া যায়।
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুসলিম শরীফের এক হাদিসে বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছরই রোজা রাখল।
২. ঈদের দিন রোজা রাখা নিষিদ্ধ
শাওয়াল মাসের প্রথম দিনটি হলো ঈদুল ফিতর। এক মাস সিয়াম সাধনার পর বিশ্বজুড়ে মুসলিমরা এই দিনটি উৎসব হিসেবে পালন করেন। শরিয়তের বিধান অনুযায়ী, ঈদের দিন রোজা রাখা সম্পূর্ণ হারাম বা নিষিদ্ধ। রাসুলুল্লাহ (সা.) ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা এই দুই ঈদের দিনে রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন।
ঈদের দিন মূলত উৎসব, কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং সামাজিক বন্ধন দৃঢ় করার জন্য। তাই যারা শাওয়ালের ছয় রোজা রাখার নিয়ত করেছেন, তারা ঈদের আমেজ কাটিয়ে মাসের দ্বিতীয় দিন থেকে এই রোজা শুরু করতে পারেন।
৩. কাজা ও নফল রোজা কি একসঙ্গে রাখা যায়?
অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে, রমজানের ছুটে যাওয়া রোজা এবং শাওয়ালের নফল রোজা কি একসঙ্গে রাখা সম্ভব?
ফিকহ শাস্ত্রবিদদের মতে, রমজানের কাজা রোজা আদায়ের সময় শাওয়ালের রোজার নিয়ত করা জায়েজ। তবে কাজা রোজা এবং শাওয়ালের রোজা পৃথকভাবে রাখা উত্তম, এতে সওয়াব বেশি পাওয়া যায়।
আলেমদের অভিমত হলো, কেউ যদি রমজানের কাজা রোজা আদায়ের নিয়তে শাওয়াল মাসে রোজা রাখেন, তবে তিনি কাজা আদায়ের পাশাপাশি শাওয়ালের ফজিলতও লাভ করবেন। তবে এক্ষেত্রে মূল নিয়ত হতে হবে কাজা রোজা আদায়ের।
এসি/আপ্র/২৯/০৩/২০২৬