গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মেসেজে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যাবে? কী বলছে ইসলাম

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৩:৩৮ পিএম, ২৬ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ১৪:০৯ এএম ২০২৬
মেসেজে কবুল বললে বিয়ে হয়ে যাবে? কী বলছে ইসলাম
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ব্যাপক প্রসারের ফলে দৈনন্দিন জীবনের অনেক কাজই অনলাইননির্ভর হয়ে পড়েছে। তবে ডিজিটাল এই যুগে ফেসবুক মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ বা ‘ইজাব-কবুল’ করলে বিয়ে হবে কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

ইসলামি শরিয়াহ ও ফিকাহ শাস্ত্রের আলোকে এ বিষয়ে সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে।

শরিয়াহ বিশারদদের মতে, ফেসবুক মেসেঞ্জার বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো লিখিত মাধ্যমে একপক্ষ বিয়ের প্রস্তাব দিলে এবং অপরপক্ষ তিনবার ‘কবুল’ লিখে তা গ্রহণ করলেও বিয়ে সম্পন্ন হয় না। বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য অন্যতম প্রধান শর্ত হলো পাত্র ও পাত্রী অথবা পাত্রীর অনুমোদিত প্রতিনিধিকে একই বৈঠকে বা মজলিসে উপস্থিত থাকতে হবে। যেহেতু ডিজিটাল বার্তার মাধ্যমে এই সরাসরি উপস্থিতির শর্তটি পূরণ হয় না, তাই এভাবে ইজাব-কবুল করলেও বিয়ে শরিয়াহ অনুযায়ী বৈধ হবে না।

বিয়ের বৈধতার জন্য সাক্ষী থাকা একটি অপরিহার্য শর্ত। শরিয়াহর বিধান অনুযায়ী, বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য ইজাব-কবুলের সময় অন্তত দুইজন প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম পুরুষ অথবা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও দুইজন নারীর সরাসরি উপস্থিতি বাধ্যতামূলক। এমনকি পাত্র-পাত্রী নিজেরা সরাসরি দেখা করে একে অপরকে বিয়ের প্রস্তাব ও গ্রহণ করলেও সাক্ষী উপস্থিত না থাকলে সেই বিয়ে বৈধ হবে না।

এ বিষয়ে সহিহ ইবনে হিব্বানের একটি হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ‘অভিভাবক ও দুইজন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর উপস্থিতি ছাড়া বিয়ে হয় না।’

তবে বিয়ে শুদ্ধ হওয়ার জন্য নির্দিষ্টভাবে কাউকে সাক্ষী হিসেবে নিয়োগ করা জরুরি নয়। যদি জনসমক্ষে বা অনেকের উপস্থিতিতে বিয়ের আকদ সম্পন্ন হয় এবং উপস্থিত ব্যক্তিরা ইজাব ও কবুল শুনতে পান, তবে তারাই সাক্ষীর মর্যাদা পাবেন। বিশেষ করে মসজিদে যখন বহু মানুষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ানো হয়, তখন উপস্থিত সবাই বিয়ের সাক্ষী হিসেবে গণ্য হন।

অর্থাৎ, ডিজিটাল মাধ্যমে বার্তা পাঠিয়ে ‘কবুল’ বলা কেবল একটি সম্মতি বা আলোচনার অংশ হতে পারে, কিন্তু এটি বিয়ের পূর্ণাঙ্গ ও বৈধ ধর্মীয় প্রক্রিয়া হিসেবে গণ্য হবে না। বিয়ে বৈধ হতে হলে সাক্ষী এবং একই মজলিসে অবস্থানের বিধান অবশ্যই পালন করতে হবে।

এসি/আপ্র/২৬/০৪/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দয়াল নবীর (সা.) অনিন্দ্য শিক্ষা

ইসলাম===

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা
১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ১১০০ কোটি টাকা

ধর্মীয় নেতা ও সেবাকর্মীদের রাষ্ট্রীয় সম্মানী কার্যক্রম সম্প্রসারণে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ১ হাজার ১০০ কোটি...

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারিভাবে হজে যাওয়া ব্যক্তিরা ফেরত পাবেন ৪ কোটি ৮৭ লাখ টাকা

চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালন করা চার হাজার ৩৪১ জন হাজিকে উদ্বৃত্ত চার কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার...

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নফস নিয়ন্ত্রণে রাখার ১০ কার্যকর উপায়

নফস মানুষের স্বাভাবিক সত্তার একটি অংশ। এটি মানুষকে ভালো ও মন্দ—উভয় দিকেই পরিচালিত করতে পারে। তবে মান...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই