গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

পরিবহন খাতে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত

‘বাঘ’ ঘিরে আধুনিক শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ২১:৫৮ পিএম, ২৯ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৩২ এএম ২০২৬
‘বাঘ’ ঘিরে আধুনিক শিল্প বিপ্লবের স্বপ্ন
ছবি

নিজের প্রতিষ্ঠান বাঘ ইকো মোটরস সংযোজিত অটোরিকশার সামনে প্রেসিডেন্ট কাজী জসিমুল ইসলাম -ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের সড়কে কি শুরু হতে যাচ্ছে নতুন এক শিল্প বিপ্লব?
প্রযুক্তিনির্ভর বৈদ্যুতিক যানবাহন কি বদলে দিতে যাচ্ছে দেশের নগর পরিবহন, জ্বালানি অর্থনীতি ও পরিবেশের ভবিষ্যৎ?

দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষা, প্রশাসনিক জটিলতা, অনুমোদন সংকট এবং আইনি লড়াইয়ের পর বৈদ্যুতিক যানবাহন উদ্যোক্তা কাজী জসীমুল ইসলাম এখন সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন নতুন আশায়। তার দাবি, সাম্প্রতিক আদালতের রায় শুধু একটি প্রতিষ্ঠানের জন্য পথ খুলে দেয়নি; বরং বাংলাদেশের পরিবহন খাতে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর নতুন যুগের সম্ভাবনার দরজা উন্মুক্ত করেছে।

বাঘ ইকো মোটরস লিমিটেডের এই উদ্যোক্তার ভাষায়, “এটি শুধু একটি গাড়ির গল্প নয়। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ শিল্প, পরিবেশ ও প্রযুক্তির গল্প।”

বিশ্ব যখন ইভির পথে, বাংলাদেশ কোথায়
বিশ্বজুড়ে দ্রুত বদলে যাচ্ছে পরিবহন খাত। ইউরোপ, চীন, যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া থেকে ভারত—সব দেশই এখন জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভর পরিবহন থেকে সরে বৈদ্যুতিক যানবাহনের দিকে ঝুঁকছে। কার্বন নিঃসরণ কমানো, জ্বালানি ব্যয় হ্রাস এবং পরিবেশ সুরক্ষার কৌশল হিসেবে ইভি এখন বৈশ্বিক বাস্তবতা।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী এক দশকের মধ্যে বিশ্ব পরিবহন খাতের সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হবে বৈদ্যুতিক যানবাহনের বিস্তার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা বলছে, সড়ক পরিবহনই বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণের অন্যতম বড় উৎস। বাংলাদেশের পরিবহন খাত থেকেও বিপুল পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ হচ্ছে।
এ বাস্তবতায় বাংলাদেশেও ইভিকে ঘিরে নতুন নীতিগত পরিবর্তনের আভাস দেখা যাচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে বড় ধরনের শুল্ক ছাড় দিয়েছে।

আট বছরের সংগ্রাম, থমকে থাকা স্বপ্ন 
২০১৮ সালে পরিবেশবান্ধব বৈদ্যুতিক যান ‘বাঘ’ চালুর উদ্যোগ নেন কাজী জসীমুল ইসলাম বাপ্পি। দেশীয় প্রযুক্তিতে আধুনিক বৈদ্যুতিক যান তৈরি করে নগর পরিবহন ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার স্বপ্ন ছিল তার।

কিন্তু সেই স্বপ্ন আটকে যায় অনুমোদন ও নিবন্ধনের জটিলতায়।

উদ্যোক্তার দাবি, বুয়েটসহ বিভিন্ন কারিগরি ও নিরাপত্তা পরীক্ষার দীর্ঘ ৪২ মাসের প্রক্রিয়া শেষে ২০২২ সালের মার্চে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কেন্দ্রীয়ভাবে গাড়িটির নিবন্ধন অনুমোদন দেয়। কিন্তু জেলা পর্যায়ের আঞ্চলিক পরিবহন কমিটির অনুমতি না পাওয়ায় সড়কে নামতে পারেনি ‘বাঘ’।

এই দীর্ঘ জটিলতায় নরসিংদীর কারখানা কার্যত বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। বিনিয়োগ স্থবির হয়ে পড়ে। আটকে যায় উৎপাদন পরিকল্পনা।

কাজী জসীমুল ইসলাম বলেন, “সবচেয়ে কষ্টের জায়গা হচ্ছে—প্রযুক্তি ছিল, সক্ষমতা ছিল, কিন্তু অনুমতির অভাবে মানুষকে সেটা দেখাতে পারিনি।”

আদালতের রায়ে নতুন সম্ভাবনা
সাম্প্রতিক আদালতের রায়ের পর নতুন করে আশাবাদী হয়ে উঠেছেন উদ্যোক্তারা। যদিও পূর্ণাঙ্গ রায় এখনও প্রকাশ হয়নি, তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি বৈদ্যুতিক যানবাহনের নিবন্ধন ও নীতিগত জট খুলে দেওয়ার বড় পদক্ষেপ হতে পারে।

কাজী জসীমুল ইসলামের ভাষায়, “যে প্রযুক্তি মানুষের উপকারে আসতে পারতো, সেটিকে শুধু কাগজের জটিলতায় আটকে রাখা হয়েছিল। এখন মনে হচ্ছে সেই দেয়ালে ফাটল ধরেছে।”

তার মতে, এ রায় কার্যকর হলে দেশে বৈধ, নিরাপদ ও আধুনিক বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পের পথ তৈরি হতে পারে।

শুধু গাড়ি নয়, পুরো প্রযুক্তিনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা
‘বাঘ’ প্রকল্পকে উদ্যোক্তারা কেবল একটি যানবাহন হিসেবে দেখছেন না। এটি মূলত প্রযুক্তিনির্ভর নগর পরিবহনের একটি সমন্বিত ধারণা।

প্রতিটি ‘বাঘ’ ইভিতে থাকছে—
* সৌরবিদ্যুৎনির্ভর চার্জিং সুবিধা
* বদলযোগ্য লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি
* জিপিএস ও ইন্টারনেট সংযোগ
* ৩৬০ ডিগ্রি ক্যামেরা
* মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ভাড়া পরিশোধ
* কেন্দ্রীয় ট্র্যাকিং ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা
* সাতজন যাত্রী বহনের সক্ষমতা
* উন্নতমানের ইস্পাত কাঠামো

উদ্যোক্তাদের দাবি, গাড়িটি প্রতি কিলোমিটারে প্রায় ৪০ থেকে ৪৫ পয়সা খরচে চলতে পারবে। পূর্ণ চার্জে চলবে প্রায় ১২০ কিলোমিটার। সৌরবিদ্যুতের সহায়তায় অতিরিক্ত আরো ২৫ থেকে ৩০ কিলোমিটার চলাচল সম্ভব হবে।

ঢাকার সড়কে নীরব বিপ্লব
গত এক দশকে ঢাকার সড়কে বড় পরিবর্তন এসেছে। প্যাডেলচালিত রিকশার জায়গা দখল করেছে মোটরচালিত ব্যাটারিচালিত যানবাহন। কিন্তু এর বড় অংশই এখনো অনিয়ন্ত্রিত ও ঝুঁকিপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের সড়কে বর্তমানে লাখ লাখ অননুমোদিত ব্যাটারিচালিত যান চলছে, যেগুলোর অধিকাংশে নিম্নমানের অ্যাসিড ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

কাজী জসীমুল ইসলাম বলেন, “অ্যাসিড ব্যাটারি থেকে সিসা ও বিষাক্ত উপাদান মাটি ও পানিতে মিশে যাচ্ছে। মাছ, ফসল হয়ে তা মানুষের শরীরে প্রবেশ করছে। এটি ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্যের বড় বিপদে পরিণত হচ্ছে।”

তার মতে, লিথিয়াম-আয়নভিত্তিক নিরাপদ প্রযুক্তি ছাড়া ভবিষ্যৎ পরিবহন ব্যবস্থা টেকসই হবে না।


সরকারও এগোচ্ছে ইভির পথে
বাংলাদেশ সরকারও এখন বৈদ্যুতিক যানবাহন শিল্পকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। সরকার ইতোমধ্যে বৈদ্যুতিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক ছাড় ঘোষণা করেছে।

খসড়া বৈদ্যুতিক যানবাহন উন্নয়ন নীতিতেও ২০৩০ সালের মধ্যে সরকারি যানবাহনের বড় অংশ ইভিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া বৈদ্যুতিক বাস, চার্জিং স্টেশন ও ব্যাটারি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে নীতিগত সহায়তার কথাও বলা হচ্ছে।

রাজধানীতে আসছে বৈদ্যুতিক বাস
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, রাজধানীতে ধাপে ধাপে বৈদ্যুতিক গণপরিবহন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে ৪০০টি বৈদ্যুতিক বাস নামানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রথম ধাপে পূর্বাচল ও কাঁচপুর এলাকায় চার্জিং ডিপো নির্মাণ করা হবে। পরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোতে এসব বাস চালু করা হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডিজেলনির্ভর পরিবহন ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আগামী দিনে নগর পরিবহন আরো ব্যয়বহুল ও দূষণনির্ভর হয়ে উঠবে।


বৈদ্যুতিক বাস কেন লাভজনক
কাজী জসীমুল ইসলামের হিসাব অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে একটি ডিজেলচালিত বাস পরিচালনায় যেখানে ১৭ থেকে ১৮ হাজার টাকা জ্বালানি ব্যয় হয়, সেখানে বৈদ্যুতিক বাসে বিদ্যুৎ ব্যয় হবে প্রায় ৩ হাজার ৬০০ টাকা।

এছাড়া ডিজেল বাসে নিয়মিত ইঞ্জিন অয়েল, ব্রেক অয়েল ও রক্ষণাবেক্ষণে বড় অঙ্কের খরচ হয়। বৈদ্যুতিক বাসে সেই ব্যয়ও অনেক কম।

তিনি বলেন, “যাত্রীরা একই ভাড়ায় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত আরামদায়ক বাসে যাতায়াত করতে পারবেন। পরিবহন মালিকদেরও দীর্ঘমেয়াদে খরচ কমবে।”

চট্টগ্রামে কারখানা, আসছে উৎপাদন
বাঘ ইকো মোটরস ইতোমধ্যে চট্টগ্রামে বৈদ্যুতিক যানবাহনের কারখানা স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির সঙ্গে সংযোজন চুক্তিও হয়েছে।

উদ্যোক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাথমিকভাবে বাস, ছোট গাড়ি, ট্রাক ও কৃষিকাজের জন্য বৈদ্যুতিক ট্রাক্টর উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে। চীনের আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত সহযোগিতাও চলছে।

৮০০ চার্জিং স্টেশনের পরিকল্পনা
ইভির বড় চ্যালেঞ্জ চার্জিং অবকাঠামো। তবে উদ্যোক্তারা বলছেন, দেশের মহাসড়কজুড়ে প্রায় ৮০০ চার্জিং স্টেশন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

এসব স্টেশনে থাকবে—
* সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা
* রেস্তোরাঁ
* বিশ্রামাগার
* নামাজের স্থান
* দ্রুত চার্জিং সুবিধা

কাজী জসীমুল ইসলাম বলেন, “মানুষ চা পান করতে করতে বাস চার্জ হয়ে যাবে।”

নতুন শিল্প বিপ্লবের সম্ভাবনা
বিশ্লেষকদের মতে, বৈদ্যুতিক যানবাহন শুধু পরিবহন খাতের পরিবর্তন নয়; এটি নতুন শিল্প অর্থনীতিরও ভিত্তি হতে পারে।

স্থানীয়ভাবে ব্যাটারি উৎপাদন, সফটওয়্যার উন্নয়ন, চার্জিং অবকাঠামো, স্মার্ট পরিবহন নেটওয়ার্ক, সৌরবিদ্যুৎ প্রযুক্তি—সব মিলিয়ে হাজার হাজার কোটি টাকার নতুন বাজার তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে সৃষ্টি হতে পারে বড় কর্মসংস্থান।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ যদি এখনই ইভি শিল্পে বিনিয়োগ বাড়াতে পারে, তাহলে দক্ষিণ এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবেও গড়ে ওঠার সুযোগ রয়েছে।


‘তেলচালিত যুগ একদিন শেষ হবে’
ভবিষ্যৎ নিয়ে আশাবাদী কাজী জসীমুল ইসলাম মনে করেন, বিশ্বের পরিবহন খাত দ্রুত বদলে যাচ্ছে এবং বাংলাদেশও সেই পরিবর্তনের বাইরে থাকবে না।

তার ভাষায়, “যেমন স্মার্টফোন পুরোনো প্রযুক্তিকে সরিয়ে দিয়েছে, তেমনি বৈদ্যুতিক যানবাহন একসময় তেলচালিত যানকে ইতিহাসে পরিণত করবে।”

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের তরুণরা যদি প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পে এগিয়ে আসে, তাহলে এ দেশ শুধু ব্যবহারকারী নয়, উৎপাদক দেশেও পরিণত হতে পারে।”

এখন প্রশ্ন একটাই—
দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর ‘বাঘ’ কি সত্যিই বাংলাদেশের সড়কে নতুন যুগের সূচনা করতে পারবে?
প্রশ্নটির উত্তর এখনও সময়ের হাতে। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—বাংলাদেশের পরিবহন খাত এখন পরিবর্তনের মোড়ে দাঁড়িয়ে। আর সেই পরিবর্তনের কেন্দ্রে উঠে আসছে বৈদ্যুতিক প্রযুক্তি, পরিবেশবান্ধব শিল্প এবং ভবিষ্যতের নতুন অর্থনীতি।
সানা/আপ্র/২৯/৫/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

গ্যাস সংকট সহসা কাটছে না, আরো প্রায় সপ্তাহখানেক
২৬ জুলাই ২০২৬

গ্যাস সংকট সহসা কাটছে না, আরো প্রায় সপ্তাহখানেক

এলএনজি টার্মিনাল সচল হতে লাগবে চার-পাঁচ দিন; কমেছে সরবরাহ, চুলা জ্বলছে না, বিপাকে শিল্প-পরিবহন

উল্টোরথের পথে ছিল শক্তিশালী পাইপ বোমা
২৫ জুলাই ২০২৬

উল্টোরথের পথে ছিল শক্তিশালী পাইপ বোমা

রাজধানীর মতিঝিলে মেট্রোরেল স্টেশনের নিচ থেকে উদ্ধার করা শক্তিশালী পাইপ বোমাটি (আইইডি) সনাতন ধর্মাবলম...

জয়ের আসল নাম দল, শৃঙ্খলা ও ফুটবলসভ্যতা
২১ জুলাই ২০২৬

জয়ের আসল নাম দল, শৃঙ্খলা ও ফুটবলসভ্যতা

ফিফা বিশ্বকাপ -২০২৬

সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা
১৮ জুলাই ২০২৬

সরকারের ছয় মাস পূর্তিতে মন্ত্রিসভায় রদবদলের আলোচনা

যুক্ত হতে পারেন কয়েকজন নতুন মুখ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই