দুই গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষদিকে খেই হারিয়ে পয়েন্ট খোয়াতে বসেছিল রেয়াল মাদ্রিদ। অসাধারণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে লড়াই জমিয়ে তোলে এলচে। তবে কিলিয়ান এমবাপে ও কার্লোস এস্পির দারুণ বোঝাপড়ায় শেষ মুহূর্তের গোলে জয়ের স্বস্তি নিয়েই মাঠ ছাড়ল জোসে মরিনিয়োর দল।
প্রতিপক্ষের মাঠে মঙ্গলবার রাতে অনুষ্ঠিত লা লিগার এই ম্যাচে ৩-২ গোলে জিতেছে রেয়াল মাদ্রিদ। উল্লেখ্য, গত মৌসুমে লিগে ঘরের মাঠে রেয়ালকে ২-২ গোলে রুখে দিয়েছিল এলচে, আর এবারও এমন একটি সম্ভাবনার আভাস দিয়েছিল দলটি, যদিও শেষ পর্যন্ত তেমন কিছু করতে পারেনি তারা।
প্রতিপক্ষের আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ব্যবধান বাড়ান কিলিয়ান এমবাপে। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে মাত্র ১২ মিনিটের ব্যবধানে আবিয়েল ওসোরিও ও ফের্নান্দো নিনোর গোলে সমতায় ফেরে এলচে। এমন নাটকীয় মোড় নেওয়া লড়াইয়ে বদলি হিসেবে নামার কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের ব্যবধান গড়ে দেন এস্পি। এই জয়ে ছয় ম্যাচে পাঁচটি জয় নিয়ে ১৫ পয়েন্ট সংগ্রহ করে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে অবস্থান করছে রেয়াল মাদ্রিদ।
সমান পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে রয়েছে বার্সেলোনা, তবে কাতালান ক্লাবটি একটি ম্যাচ কমও খেলেছে। ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই দারুণ একটি সুযোগ পেয়ে যান ভিনিসিউস। তবে ছয় গজ বক্সে বাঁ দিকে আর্দা গুল্যারের থ্রু পাস পেয়েও শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। এর ছয় মিনিট পর অন্য পাশে ডি-বক্সে জায়গা বানিয়ে নেওয়া তেতে মরেন্তের শটও অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
আগের পাঁচ ম্যাচের একটিতেও জয় না পাওয়া এলচে ১৭তম মিনিটে আরেকটি গোছানো আক্রমণ শাণায়, তবে ভালো একটি পজিশন থেকে নেওয়া আবিয়েল ওসোরিওর শট ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়। ২৫তম মিনিটে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের এক অদ্ভুত আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় রেয়াল।
প্রায় ২০ গজ দূর থেকে গুল্যারের দারুণ ফ্রি কিকে বল পোস্টের কিছুটা ভেতরের দিকে লেগে হয়তো অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়েই যেত, জায়গায় দাঁড়িয়ে সেটাই দেখছিলেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক মাতিয়াস দিতুরো, তবে দুর্ভাগ্যবশত বল তার হাতে লেগে গোললাইন পেরিয়ে যায়।
এর আট মিনিট পর দারুণ এক নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়ান এমবাপে। ইয়ান ডিওমান্ডের ডি-বক্সে বাড়ানো থ্রু বল ছুটে গিয়ে প্রথম স্পর্শেই শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন এই ফরাসি তারকা। শট নেওয়ার ঠিক পরমুহূর্তেই গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে পায়ে কিছুটা আঘাত পান তিনি, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে খেলা চালিয়ে যান এবারের লিগে নিজের সপ্তম গোল করা এমবাপে।
এর দুই মিনিটের মধ্যেই গতিময় এক আক্রমণে আরেকটি দারুণ সুযোগও তৈরি করেন আগের ম্যাচে জোড়া গোল করা এই ফরোয়ার্ড। তবে তার পাস থেকে ভিনিসিউসের নেওয়া শট ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন ওসোরিও। ৬৫তম মিনিটে আবারও দলকে হতাশ করেন ভিনিসিউস।
তড়িৎগতির এক পাল্টা আক্রমণে গুল্যারের থ্রু পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেয়ে শট নেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা, তবে বল পোস্ট ঘেঁষে বাইরে দিয়ে বেরিয়ে যায়। এর পরপরই ভিনিসিউস ও গুল্যারকে তুলে নিয়ে ব্রাহিম দিয়াস ও জুড বেলিংহ্যামকে মাঠে নামান কোচ মরিনিয়ো।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুর দিকে বেশ কয়েকটি ভালো আক্রমণ শাণানো এলচে ৭১তম মিনিটে গোলের দেখা পায়, আর এতেই লড়াই জমে ওঠে। বাঁ দিক থেকে সতীর্থের বাড়ানো ক্রস ছয় গজ বক্সে পেয়ে জোরাল হেডে বল জালে পাঠান ওসোরিও।
গোল পেয়ে বেশ আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এলচে, আর নির্ধারিত সময়ের সাত মিনিট বাকি থাকতে আরেকটি দারুণ গোলে ফেভারিটদের রীতিমতো হতভম্ব করে দেয় দলটি। প্রতিপক্ষের একটি দুর্বল আক্রমণ প্রতিহত করে দারুণ পাসিং ফুটবলে গড়া পাল্টা আক্রমণে ডি-বক্স থেকে কোনাকুনি শট নেন নিনো, আর সেই বল ভালভের্দের পায়ে লেগে দূরের পোস্ট দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
জায়গায় দাঁড়িয়ে অসহায়ের মতো তা দেখেন থিবো কোর্তোয়া।
গোলের জন্য মরিয়া হয়ে এরপর একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন মরিনিয়ো—মিডফিল্ডার অহেলিয়া চুয়ামেনি ও ডিফেন্ডার ট্রেন্ট অ্যালেকজান্ডার-আর্নল্ডকে তুলে নিয়ে দুই তরুণ ফরোয়ার্ড এন্দ্রিক ও এস্পিকে মাঠে নামান তিনি। আর তাতেই ধরা দেয় কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।
তবে এই গোলের মূল কৃতিত্ব ছিল এমবাপের। বল পায়ে অনেকখানি এগিয়ে গিয়ে ডি-বক্সে বাঁ দিক থেকে গোলমুখে পাস বাড়ান তিনি, আর কোনো বাধা ছাড়াই সেই বল জালে পাঠান স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড এস্পি। এই হারে ছয় ম্যাচ খেলে এখনও জয়শূন্যই রয়ে গেল এলচে। মাত্র ২ পয়েন্ট নিয়ে তারা পয়েন্ট তালিকার তলানিতেই অবস্থান করছে।
ডিসি/আপ্র/১৬/০৯/২০২৬