ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ, দীর্ঘ ৮ বছর পর দেশের দর্শকদের সামনে শিরোপা জয়ের হাতছানি। বাংলাদেশের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের কাছে এবারের টুর্নামেন্ট তাই বিশেষ কিছু। তবে স্বপ্নপূরণের পথে শুরুটা ভালো হওয়া জরুরি বলে মনে করেন বসুন্ধরা কিংসের এই ফুটবলার।
তার মতে, সাফে টিকে থাকতে হলে ভুটানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ জিততেই হবে বাংলাদেশকে।সোমবার জাতীয় স্টেডিয়ামে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরুর আগে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে নিজের ভাবনার কথা জানান ৩১ বছর বয়সী এই ডিফেন্ডার।
ইনজুরির কারণে ফিফা আসিয়ান কাপে খেলতে না পারলেও এখন পুরোপুরি সুস্থ আছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। ঘরের মাঠে সাফকে সামনে রেখে তপুর লক্ষ্য পরিষ্কার-কঠোর পরিশ্রম করে ২৩ বছর পর বাংলাদেশকে আবারও শিরোপা জেতানো।
অনুশীলনে নামার আগে তপু বর্মণ বলেন, ‘সাফ আমাদের জন্য অনেক স্পেশাল। আট বছর পরে আবার আমরা আমাদের মাটিতে খেলছি। আমাদের লড়াই করতে হবে। লড়াই করে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য, ২৩ বছর পর ট্রফি জেতার স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।
সে জন্য আমাদের প্রস্তুত হতে হবে।’ তবে শিরোপার স্বপ্ন পূরণে প্রথম ম্যাচের গুরুত্বও তুলে ধরেছেন তিনি। ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচে হামজা দেওয়ান চৌধুরীকে পাবে না বাংলাদেশ। সেটা স্বাগতিকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। তবু একজনের অনুপস্থিতিকে অজুহাত হিসেবে দেখতে চান না তপু।
তার বিশ্বাস, দলগত পারফরম্যান্স দিয়েই সেই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব।অভিজ্ঞ এই ডিফেন্ডার বলেন, ‘হামজা চৌধুরীকে প্রথম ম্যাচে অবশ্যই তাকে মিস করব। তবে আমরা যদি দলগতভাবে ভালো খেলতে পারি, তার অনুপস্থিতি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। আমার কাছে মনে হয়, প্রথম ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
টিকে থাকতে চাইলে অবশ্যই প্রথম ম্যাচ জিততে হবে। শুরুটা ভালো করতে পারলে পরের পথটা সহজ হবে।’সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে বাংলাদেশের রক্ষণভাগের দুর্বলতা নিয়েও কথা বলেছেন তপু।
গোল হজম কমাতে ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সের পাশাপাশি দলগত রক্ষণকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন তিনি, ‘শুধু গোলরক্ষক বা ডিফেন্ডারদের নয়, পুরো দলকেই রক্ষণে দায়িত্ব নিতে হবে। বিশ্ব ফুটবলে টিম ডিফেন্ডিং খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
আমরা যদি দলগতভাবে রক্ষণ সামলাতে পারি, তাহলে এত গোল হজম করব না। পেছন থেকে নিজের সেরাটা দেওয়ার পাশাপাশি কীভাবে রক্ষণভাগকে শক্ত করা যায়, সে ব্যাপারে আমার ভূমিকা থাকবে।’
তরুণ ডিফেন্ডার জায়ান আহমেদের সঙ্গে জুটি নিয়েও আশাবাদী তপু। আসিয়ান কাপে খেলার অভিজ্ঞতা জায়ানকে আরও পরিণত হতে সাহায্য করবে বলে মনে করেন তিনি। অনুশীলনে বোঝাপড়া বাড়িয়ে মাঠে কার্যকর জুটি গড়তে চান দুজন।
ঘরের মাঠে দর্শকদের সমর্থনকে বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে দেখছেন তপু। তবে শিরোপা জিততে হলে প্রতিপক্ষকে সমীহ করার পাশাপাশি ম্যাচ ধরে এগোনোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের শৃঙ্খলা নিয়েও তার অবস্থান স্পষ্ট;কোনো ছাড় নয়।
তপুর বিশ্বাস, শৃঙ্খলা, দলগত ঐক্য ও ভালো ফুটবলের সমন্বয় ঘটাতে পারলে দেশের মাঠেই সাফল্যের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।
ডিসি/আপ্র/২৬/১০/২০২৬