বিদেশের মাটিতে পাকিস্তানের হারের বৃত্ত যেন ভাঙছেই না। ওয়েস্ট ইন্ডিজের পেস আক্রমণের সামনে এবার নতজানু হলো বাবর আজমের দল। তারুবা টেস্টে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্বিতীয় ইনিংসে মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়েছে পাকিস্তান। ফলে ৯০ রানের বড় ব্যবধানে ম্যাচ হেরেছে সফরকারীরা।
এই হারের সঙ্গে পাকিস্তানের নামের পাশে যুক্ত হয়েছে লজ্জার আরেকটি রেকর্ড। বাংলাদেশসহ বিদেশের মাটিতে টানা আট টেস্টে পরাজয়ের তিক্ত স্বাদ পেল তারা। গত মে মাসে বাংলাদেশে এসে ২-০ ব্যবধানে হেরেছিল পাকিস্তান। এবার ক্যারিবিয়ানদের মাটিতে সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরে বসল বাবর-রিজওয়ানরা। ২১১ রানের লক্ষ্য নিয়ে চতুর্থ ইনিংসে ব্যাট করতে নেমেই বিপদে পড়ে পাকিস্তান।
মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই হারায় তিন উইকেট। এক প্রান্তে দাঁড়িয়ে লড়াইয়ের চেষ্টা করেন বাবর আজম, কিন্তু অন্য প্রান্তে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারানোয় চাপ কাটিয়ে উঠতে পারেনি দল।
এর আগে চতুর্থ দিনের শুরুতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে লিড বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামে। আগের দিন ৭ উইকেটে ৯৩ রান নিয়ে দিন শেষ করা ক্যারিবীয়রা সকালে শামার জোসেফ ও কেমার রোচের ব্যাটে আরও গুরুত্বপূর্ণ রান যোগ করে। পাকিস্তানের গা ছাড়া ভাবের সুযোগ নিয়ে লিড বড় করে স্বাগতিকরা।
আক্রমণাত্মক ব্যাটিং চালিয়ে যান জোসেফ। খুররম শাহজাদের বলে ছক্কা হাঁকিয়ে দিনের অন্যতম সেরা শট খেলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত মোহাম্মদ আলির বলে বোল্ড হওয়ার আগে রোচের সঙ্গে গড়েন ৬১ রানের জুটি।
এরপর শেষ দুই উইকেটে আরও ২৭ রান যোগ করে ১৮১ রানে থামে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দ্বিতীয় ইনিংস। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস নেন ৫ উইকেট। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি চলে যায় পাকিস্তানের দ্বিতীয় ইনিংসে।
শুরু থেকেই নিখুঁত লাইন-লেন্থে বল করে কেমার রোচ ও জেইডেন সিলস। ইমাম-উল-হক, আজান আওয়াইস ও সালমান আলী আগাকে ফিরিয়ে পাকিস্তানকে বড় ধাক্কা দেন সিলস।
প্রথম ইনিংসে দারুণ বোলিং করা জাস্টিন গ্রিভসও দ্বিতীয় ইনিংসে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। মোহাম্মদ রিজওয়ানের অফ স্টাম্প উড়িয়ে দেন তিনি। পরে আমের জামালকে এলবিডব্লিউ করে পাকিস্তানের বিপর্যয় আরও বাড়িয়ে দেন।
আঙুলের চোটের কারণে স্বাভাবিক ব্যাটিং অর্ডারে নামতে পারেননি শান মাসুদ। পরে আট নম্বরে নেমেও দলের জন্য বড় কিছু করতে পারেননি তিনি। এক হাতে ব্যাটিং করতে নেমে মাত্র ৩ রান করে ফিরতে হয় তাকে।
শেষ দিকে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাস কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। বাবর পূর্ণ করেন নিজের ৩২তম টেস্ট অর্ধশতক। আব্বাসও ২৩ রানের আক্রমণাত্মক ইনিংস খেলেন।
তবে তাদের লড়াই শুধু হারের ব্যবধান কমিয়েছে, বদলাতে পারেনি ম্যাচের ফল। চতুর্থ দিনের চা বিরতির পর দ্বিতীয় বলেই আব্বাসকে এলবিডব্লিউ করে নিজের পঞ্চম উইকেট পূর্ণ করেন জেইডেন সিলস।
তাতেই ১২০ রানে গুটিয়ে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। অধিনায়ক বাবর আজম ৫৮ রানে অপরাজিত থেকে দলের আরেকটি পরাজয়ের সাক্ষী হলেন।
ডিসি/আপ্র/২৯/০৭/২০২৬