গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

এআই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশিদের অবদান, বাড়ছে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তির তাগিদ

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৫:৫৫ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৭:২২ এএম ২০২৬
এআই প্রশিক্ষণে বাংলাদেশিদের অবদান, বাড়ছে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তির তাগিদ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির দ্রুত বিকাশে নীরবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন বাংলাদেশের হাজারো মুক্তপেশাজীবী। এআই মডেলকে আরো নির্ভুল ও কার্যকর করে তুলতে তথ্য প্রস্তুত, উত্তর মূল্যায়ন, ভুল সংশোধন, ছবি ও শব্দ শনাক্তকরণ, কথোপকথনের মান যাচাই এবং নিরাপত্তা পরীক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ কাজে তারা যুক্ত রয়েছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রশিক্ষণভিত্তিক কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে ভবিষ্যতে এ খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা ধরে রাখা কঠিন হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে বাংলাদেশ কম খরচে দক্ষ জনবল দিয়ে বৈশ্বিক এআই বাজারে অবস্থান তৈরি করেছে। কিন্তু সহজ ও পুনরাবৃত্তিমূলক অনেক কাজ দ্রুত স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাওয়ায় ভবিষ্যতে এসব কাজের চাহিদা কমতে পারে। তাই দীর্ঘমেয়াদে টিকে থাকতে হলে নিজস্ব এআইভিত্তিক প্রযুক্তি, পণ্য ও সেবা উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুত ও সাজানোর বৈশ্বিক বাজারের আকার ২০২৫ সালে ছিল প্রায় ২৩৭ কোটি মার্কিন ডলার। ২০৩৪ সালের মধ্যে এটি বেড়ে প্রায় ৩ হাজার কোটি মার্কিন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

বিশ্বব্যাংকের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৫ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৪৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষ এআই প্রশিক্ষণসংক্রান্ত বিভিন্ন অনলাইন কাজে যুক্ত রয়েছেন।

বাংলাদেশেও এ খাত দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে। সরকারি তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে প্রায় ৬ লাখ ৫০ হাজার মুক্তপেশাজীবী রয়েছেন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তারা বৈদেশিক বাজারে কাজ করে প্রায় ৭২ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার আয় করেছেন।

উত্তর দক্ষিণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক নাবিল মোহাম্মদ বলেন, এআইয়ের তথ্য প্রস্তুতের কাজ দেশের জন্য ভালো সূচনা হলেও এটিকে উচ্চমূল্যের প্রযুক্তি উন্নয়নের ভিত্তি হিসেবে কাজে লাগাতে হবে। অন্যথায় বাংলাদেশ শুধু বিদেশি প্রতিষ্ঠানের জন্য কম খরচে সেবা দেওয়া দেশের ভূমিকাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

তিনি আরো্ বলেন, এআইয়ের সাধারণ প্রশিক্ষণভিত্তিক কাজ দ্রুত গুরুত্ব হারাতে পারে। তাই এসব দক্ষতার পাশাপাশি উন্নত প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জন না করলে ভবিষ্যতে কম মজুরি ও কর্মসংস্থান সংকোচনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ খাতে কর্মরত তাওসিফ নিলয় জানান, এআই প্রশিক্ষণ থেকে প্রকল্প সমন্বয় বা নীতিনির্ধারণের মতো উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে আরেক কর্মী ফারদিন জারিফের মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানে উন্নতির প্রতিশ্রুতি থাকলেও ছাঁটাইয়ের কারণে বাস্তবে সেই সুযোগ সব সময় তৈরি হয়নি।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, ভবিষ্যতের বৈশ্বিক এআই বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে বাংলাদেশকে গবেষণা, উদ্ভাবন, বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে নিজস্ব এআইভিত্তিক প্রযুক্তি ও পণ্য উন্নয়নে গুরুত্ব দিতে হবে।

এসি/আপ্র/১৫/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

শব্দতরঙ্গেই ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শব্দতরঙ্গেই ক্যান্সার চিকিৎসার নতুন সম্ভাবনা তৈরি

মানুষের শরীরের ভেতরের ছবি দেখতে আলট্রাসাউন্ডের ব্যবহার বহুদিনের। এবার উচ্চ কম্পাঙ্কের শব্দতরঙ্গ কাজে...

আইফোনের ব্যাটারি কতটা ভালো, সহজেই জানুন
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইফোনের ব্যাটারি কতটা ভালো, সহজেই জানুন

নতুন আইফোন কেনার পর স্বাভাবিকভাবেই দীর্ঘদিন সেটি ব্যবহারের প্রত্যাশা থাকে। তবে সব ধরনের পুনরায় চার্জ...

জৈবিক অস্ত্রের গবেষণায় এআই অপব্যবহার ঠেকালো অ্যানথ্রপিক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জৈবিক অস্ত্রের গবেষণায় এআই অপব্যবহার ঠেকালো অ্যানথ্রপিক

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেলের অপব্যবহার ঠেকাতে সম্ভাব্য জৈবিক অস্ত্র গবেষণার সঙ্গে জড়িত একাধিক ব...

চাকরি কেড়ে নেওয়া রোবটই এবার এআইয়ের বিরুদ্ধে
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চাকরি কেড়ে নেওয়া রোবটই এবার এআইয়ের বিরুদ্ধে

রোবট ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বাড়ার সঙ্গে মানুষের কর্মসংস্থান নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে,...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই