গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

জোড়া তারার বিস্ফোরণের প্রথম প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রযুক্তি ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:০৮ পিএম, ২৮ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:২১ এএম ২০২৬
জোড়া তারার বিস্ফোরণের প্রথম প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা
ছবি

ধ্বংসের পর দুটি তারাই মহাশূন্যে রেখে গেছে উজ্জ্বল গ্যাসে ভরা এক একটি আলোক মেঘ, যা ‘নেবুলা’ বা নিহারিকা নামে পরিচিত -ছবি নাসার সৌজন্যে

মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এমন এক বিরল ঘটনার প্রমাণ পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা, যেখানে একটি দ্বৈত তারামণ্ডলের বা জোড়া তারার উভয় সদস্যই পৃথক সময়ে ভয়াবহ বিস্ফোরণে ধ্বংস হয়েছে। গবেষকেরা জানিয়েছেন, এই আবিষ্কার মহাবিশ্বে বড় আকারের তারার জন্ম, বিবর্তন ও মৃত্যুর রহস্য উন্মোচনে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সূর্যের চেয়ে অনেক বড় আকারের অধিকাংশ তারা একা জন্ম নেয় না; বরং অনেক ক্ষেত্রেই তারা মহাকর্ষীয় বন্ধনে আবদ্ধ হয়ে জোড়ায় জোড়ায় অবস্থান করে। এই দ্বৈত তারামণ্ডল বা বাইনারি ব্যবস্থায় থাকা দুটি তারা দীর্ঘ সময় একে অপরকে প্রদক্ষিণ করে। তবে পৃথিবীর মতো মহাকাশেও কোনো বন্ধন চিরস্থায়ী নয়। একসময় জ্বালানি শেষ হয়ে গেলে এসব তারার জীবন ভয়াবহ বিস্ফোরণের মধ্য দিয়ে শেষ হয়, যাকে বলা হয় সুপারনোভা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গবেষকেরা এবারই প্রথম এমন একটি দ্বৈত তারামণ্ডলের সন্ধান পেয়েছেন, যেখানে উভয় তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণের প্রমাণ এবং সেই বিস্ফোরণের পর তৈরি হওয়া পৃথক দুটি নিহারিকা বা নেবুলা পর্যবেক্ষণ করা গেছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ওই জোড়া তারার জ্বালানি প্রায় একই সময়ের কাছাকাছি শেষ হয়ে যায় এবং কয়েক হাজার বছরের ব্যবধানে দুটি তারাতেই ঘটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ। বিস্ফোরণের পর প্রতিটি তারা মহাশূন্যে রেখে গেছে উজ্জ্বল গ্যাস ও ধূলিকণায় তৈরি আলোকমেঘ, যা নেবুলা নামে পরিচিত।

এই দুই নেবুলার একটি হলো মিল্কিওয়ে ছায়াপথের সুপরিচিত ‘জেলিফিশ নেবুলা’। সামুদ্রিক জেলিফিশের মতো বিস্তৃত ও বাঁকানো আকৃতির কারণে এর এমন নামকরণ হয়েছে। এর বৈজ্ঞানিক নাম আইসি ৪৪৩।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থার গামা রশ্মি পর্যবেক্ষণকারী দূরবীক্ষণ যন্ত্রের ১৬ বছরের বেশি সময়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জেলিফিশ নেবুলার কাছেই আরেকটি নেবুলার অস্তিত্ব শনাক্ত করেন। নতুন আবিষ্কৃত এই নেবুলার নাম জি১৮৯.৬+৩.৩। গবেষকদের ধারণা, এটিও একই দ্বৈত তারামণ্ডলের দ্বিতীয় তারার বিস্ফোরণের ফলে তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের হিসাব অনুযায়ী, আইসি ৪৪৩ নেবুলাটি তৈরি হয়েছিল সূর্যের চেয়ে প্রায় ১৫ থেকে ২৫ গুণ বেশি ভরের একটি তারার বিস্ফোরণে। অন্যদিকে দ্বিতীয় নেবুলাটি তৈরি হয়েছে আরো বড় একটি তারার বিস্ফোরণে, যার ভর ছিল সূর্যের অন্তত ২০ গুণ।

একসময় এই দুটি তারা সূর্যের চেয়ে প্রায় ১০ হাজার গুণ বেশি উজ্জ্বল ছিল। কিন্তু ধারাবাহিক বিস্ফোরণের পর এখন এগুলো পরিণত হয়েছে অত্যন্ত ঘন ও সংকুচিত তারাবশেষে, যাকে নিউট্রন তারা বলা হয়।

পৃথিবী থেকে প্রায় ৬ হাজার আলোকবর্ষ দূরে মিথুন তারামণ্ডলে অবস্থিত এই দুটি নেবুলা। এক আলোকবর্ষ হলো আলো এক বছরে যে দূরত্ব অতিক্রম করে, যার পরিমাণ প্রায় ৯ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন কিলোমিটার।

তারার জীবনের নতুন অধ্যায় উন্মোচন: বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার বড় আকারের দ্বৈত তারামণ্ডলের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে এক অসাধারণ সুযোগ তৈরি করেছে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক সাময়িকী ‘নেচার কমিউনিকেশনসে’।

গবেষণার প্রধান লেখক ও যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থবিজ্ঞানের গবেষক মিল্টিয়াডিস মিচাইলিডিস বলেন, দুটি বড় তারার জন্ম, তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক, পরপর দুটি সুপারনোভা বিস্ফোরণ এবং পরবর্তী ধ্বংসাবশেষ পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটি দ্বৈত তারার সম্পূর্ণ বিবর্তনের ইতিহাস পুনর্গঠন করা সম্ভব হয়েছে।

তিনি বলেন, অধিকাংশ বড় তারার জন্মই দ্বৈত ব্যবস্থায় হলেও এর আগে এমন কোনো জোড়া তারামণ্ডল পাওয়া যায়নি, যেখানে উভয় তারার সুপারনোভা বিস্ফোরণ এবং তার ধ্বংসাবশেষ একই সঙ্গে শনাক্ত করা গেছে।

গবেষকেরা জানিয়েছেন, নতুন আবিষ্কৃত নেবুলার সঙ্গে থাকা তারাটিই প্রথম বিস্ফোরিত হয়েছিল। সেই বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় তার সঙ্গী তারা নিজ কক্ষপথ থেকে ছিটকে দূরে সরে যায়। পরে দ্বিতীয় তারাটিও বিস্ফোরিত হয়।

গবেষকদের ধারণা, প্রথম ও দ্বিতীয় বিস্ফোরণের মধ্যে সময়ের ব্যবধান ছিল প্রায় ২০ হাজার থেকে ১ লাখ ১০ হাজার বছর। প্রথম বিস্ফোরণের পর দ্বৈত বন্ধন ভেঙে যায় এবং দ্বিতীয় তারাটি স্বাধীনভাবে মহাশূন্যে চলতে থাকে। পরে সেটিও সুপারনোভায় পরিণত হয়।

একসময় তারা দুটি এত কাছাকাছি ছিল যে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার দূরত্বের কয়েক গুণ দূরত্বের মধ্যেই অবস্থান করত। কিন্তু পরপর দুটি মহাজাগতিক বিস্ফোরণের পর এখন তাদের অবশিষ্টাংশের দূরত্ব বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ থেকে ৫০ আলোকবর্ষ।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার ভবিষ্যতে বোঝাতে সাহায্য করবে-একটি বড় তারার পাশে থাকা আরেকটি সঙ্গী তারা কীভাবে তার জীবনচক্রকে পরিবর্তন করে। এতদিন পর্যন্ত এসব বিষয় বুঝতে বিজ্ঞানীদের মূলত তাত্ত্বিক ধারণা ও কম্পিউটার মডেলের ওপর নির্ভর করতে হতো। এবার সরাসরি মহাজাগতিক প্রমাণ সেই গবেষণায় নতুন পথ দেখাল।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৮/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইউটিউব শর্টসেও এখন তৈরি করা যাবে কাস্টম থাম্বনেইল
২৮ জুলাই ২০২৬

ইউটিউব শর্টসেও এখন তৈরি করা যাবে কাস্টম থাম্বনেইল

ভিডিও নির্মাতাদের কাজ আরো সহজ করতে নতুন সুবিধা চালু করেছে ইউটিউব। এখন থেকে ইউটিউব শর্টস ভিডিওতেও কাস...

চিপসের প্যাকেট অর্ধেক ফাঁকা থাকার আসল কারণ
২৭ জুলাই ২০২৬

চিপসের প্যাকেট অর্ধেক ফাঁকা থাকার আসল কারণ

চিপসের প্যাকেট খুলে ভেতরে প্রত্যাশার তুলনায় কম চিপস দেখে হতাশ হননি-এমন মানুষ কমই আছেন। বাইরে থেকে বড়...

নিঃশ্বাসেই জানা যাবে শরীর কখন পোড়াচ্ছে মেদ
২৭ জুলাই ২০২৬

নিঃশ্বাসেই জানা যাবে শরীর কখন পোড়াচ্ছে মেদ

মানুষের শরীর কখন চর্বি বা মেদ পোড়ানো শুরু করেছে, তা এবার জানা যাবে শুধু নিঃশ্বাস পরীক্ষা করেই। গবেষক...

এআইভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার
২৬ জুলাই ২০২৬

এআইভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার

বিশ্ব এখন এক নতুন প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। বাষ্পীয় ইঞ্জিন প্রথম শিল্প বিপ্লব, বি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই