বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির প্রতিবাদে পিরোজপুরে প্রতিবাদ সভা করেছেন জেলার মুক্তিযোদ্ধারা। সভা থেকে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফনের ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টির ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে পিরোজপুর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ কার্যালয়ের সামনে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও মুক্তিযোদ্ধা প্রজন্মের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নেন।
একাত্তরের যুদ্ধকালীন ক্যাম্প কমান্ডার ওবায়দুল কবির বাদলের সভাপতিত্বে সভায় সঞ্চালনা করেন সাবেক জেলা কমান্ডার মো. ফজলুল হক সেন্টু।
সভায় বক্তব্য দেন ক্যাম্প কমান্ডার নুরদীদা খালেদ রবি, বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম বাতেন, আবদুল মান্নান দরানী, ফিরোজ রব্বানী, আকরাম খান, আবদুর রশিদ হাওলাদার, এস এম দুলাল, মশিউর রহমান, মো. মাহবুবুর রহমান, জয়নাল আবেদীন, নিত্যানন্দ রায় এবং মুক্তিযুদ্ধ প্রজন্ম পিরোজপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক গাজী কামরুজ্জামান।
বক্তারা বলেন, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর পর রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদান এবং যথাযথ ধর্মীয় রীতিতে দাফনের বিষয়টি প্রচলিত আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী সম্পন্ন হওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁরা মানিক পশারীর রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও পারিবারিক কবরস্থানে দাফন নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতির নিন্দা জানান এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আত্মগোপনে চলে যান ৮৭ বছর বয়সী বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারী। টুঙ্গিপাড়ায় আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় গত ২৪ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়।
তাঁর মৃত্যুর পর পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে গার্ড অব অনার দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলে জামায়াত-সমর্থিত কর্মীরা আপত্তি জানান বলে অভিযোগ ওঠে। পরে পুলিশ লাইনে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে তাঁকে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হয়। এরপর গভীর রাতে পুলিশ পাহারায় তাঁর দাফন সম্পন্ন হয়। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নায়েবে আমির দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর আমৃত্যু কারাদণ্ড হয়েছিল। ওই মামলায় মানিক পশারী ছিলেন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষী। ২০২৩ সালের ১৪ আগস্ট রাতে কারা হেফাজতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬