জাতীয় যুব দিবস আজ রোববার (১ নভেম্বর)। বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ চারজন সংগঠক ও ১০ জন সফল আত্মকর্মীসহ মোট ১৪ জনকে জাতীয় যুব পুরস্কার ২০২৬ দেওয়া হবে। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে তাঁদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সচিবালয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
এবারের জাতীয় যুব দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’। প্রতিমন্ত্রী জানান, আজ সকালে বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দিবসের মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এতে রাষ্ট্রপতি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার সম্মতি দিয়েছেন।
সারা দেশে ১২ হাজার বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যুব দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে ১২ হাজার নবায়নযোগ্য জ্বালানিভিত্তিক ও পরিবেশবান্ধব বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট স্থাপনের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ১ নভেম্বর ৫৫টি স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে চাকরি মেলার আয়োজন করা হয়েছে। এ মেলার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এর মধ্যে মেলার দিনই অন্তত ১০০ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, চাকরি মেলার মাধ্যমে যাঁদের নিয়োগ নিশ্চিত করা হয়েছে, তাঁদের মধ্য থেকে এদিন চাকরি দেওয়া হবে।
সরকারের যুববান্ধব প্রশিক্ষণ, যুবঋণ ও বিভিন্ন প্রকল্পের যথাযথ বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুবসমাজ দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন আমিনুল হক।
শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানে গুরুত্ব
যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, উচ্চশিক্ষিত তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ২৯ শতাংশ এবং শিক্ষিত তরুণদের বেকারত্বের হার প্রায় ৩৬ শতাংশ। দেশে বেকারের সংখ্যা ২৬ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার হচ্ছে কর্মসংস্থান। এ লক্ষ্য সামনে রেখে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে বেশ কিছু পরিকল্পনা নিয়েছে।
তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াতে ফ্রিল্যান্সিং, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ও পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিচর্যাকারী হিসেবে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে দেশে পেশাগত প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আমিনুল হক বলেন, দেশে প্রশিক্ষণ দিয়ে পরিচর্যাকারী সেবা ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত তরুণদের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর সুযোগ তৈরি হবে।
প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, পরিচর্যাকারী প্রশিক্ষণপ্রাপ্তদের বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বিভিন্ন নিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, অস্ট্রেলিয়ার একটি কোম্পানি এবং সিঙ্গাপুরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আগ্রহ দেখিয়েছে। প্রশিক্ষণার্থীদের যথাযথ প্রশিক্ষণ দিয়ে বিদেশে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার বিষয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
এসি/আপ্র/০১/১১/২০২৬