গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

এইচএসসির ফলে বড় ধস, পাসের হার ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২২:০৫ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ২৩:১২ এএম ২০২৬
এইচএসসির ফলে বড় ধস, পাসের হার ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলে বড় ধরনের অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ, যা গত ২২ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। গত বছরের তুলনায় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট। অকৃতকার্য হয়েছেন প্রায় ৫ লাখ ৯৪ হাজার শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও গত বছরের তুলনায় কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন। শনিবার (৩১ অক্টোবর) এই ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।

এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ জন। অকৃতকার্য হয়েছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন। গত বছর ৬৯ হাজার ৯৭ জন জিপিএ-৫ পেলেও এবার পেয়েছেন ৪০ হাজার ৮৪ জন। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২৯ হাজার ১৩ জন বা প্রায় ৪২ শতাংশ।

২০০৪ সালে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৪৭ দশমিক ৭৪ শতাংশ। এরপর গত ২১ বছরে পাসের হার আর কখনো এত নিচে নামেনি। গত বছর পাসের হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। এর আগে ২০২৪ সালে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ। ফলে সাম্প্রতিক দুই বছরের ফলাফলে বড় ধরনের পতন লক্ষ করা যাচ্ছে।

ঢাকা বোর্ডে সর্বোচ্চ, বরিশালে সর্বনিম্ন: নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে পাসের হারে এবার শীর্ষে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ৮০ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে চট্টগ্রাম বোর্ড, পাসের হার ৫২ দশমিক ০৭ শতাংশ। তৃতীয় ময়মনসিংহ বোর্ডে পাস করেছেন ৫১ দশমিক ৪৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।

এ ছাড়া সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ, কুমিল্লায় ৪৮ দশমিক ০৪ শতাংশ, দিনাজপুরে ৪৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ, রাজশাহীতে ৪৫ দশমিক ০৬ শতাংশ এবং যশোরে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ। সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল। এ বোর্ডে পাসের হার মাত্র ৪৪ দশমিক ৮৪ শতাংশ। 
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬১ দশমিক ০৭ শতাংশ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে ৪৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ। সব মিলিয়ে নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৫১ দশমিক ৬২ শতাংশ। এসব বোর্ডে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩৫ হাজার ৯৪৮ জন।

বিজ্ঞান বিভাগ এগিয়ে, পিছিয়ে মানবিক: নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের বিভাগভিত্তিক ফল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, পাসের হারে সবচেয়ে এগিয়ে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা। এ বিভাগে পাসের হার ৭৩ দশমিক ১২ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী অংশ নেওয়া মানবিক বিভাগে পাসের হার মাত্র ৪২ দশমিক ১৭ শতাংশ।

বিজ্ঞান বিভাগে পরীক্ষার্থী ছিলেন ২ লাখ ৭৩ হাজার ৬২৯ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ১ লাখ ৬৭ হাজার ১৬৬ জন এবং মানবিক বিভাগে ৬ লাখ ৭ হাজার ৭৩৫ জন। মানবিক বিভাগে উত্তীর্ণ হয়েছেন ২ লাখ ৫৬ হাজার ৩১১ জন এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৮৪ হাজার ৮৬৪ জন।

তিন বিভাগেই পাসের হারে ছাত্রদের চেয়ে ছাত্রীরা এগিয়ে রয়েছেন। মানবিক বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৩৫ দশমিক ০১ শতাংশ, ছাত্রীদের ৪৭ দশমিক ৪৯ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষায় ছাত্রদের ৪৫ দশমিক ৯৪ শতাংশের বিপরীতে ছাত্রীদের পাসের হার ৫৬ দশমিক ৫৮ শতাংশ। বিজ্ঞান বিভাগে ছাত্রদের পাসের হার ৭১ দশমিক ৬০ শতাংশ, ছাত্রীদের ৭৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ।

পাসের হারে ছাত্রীরা এগিয়ে, জিপিএ-৫-এ ছাত্র: সামগ্রিক ফলাফলেও ছাত্রীদের পাসের হার ছাত্রদের তুলনায় বেশি। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ছাত্রদের পাসের হার ৪৭ দশমিক ৭৫ শতাংশ, ছাত্রীদের ৫৬ দশমিক ৩১ শতাংশ। পাস করা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছাত্র ২ লাখ ৯০ হাজার ১৫৭ জন এবং ছাত্রী ৩ লাখ ৫৬ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ ছাত্রদের তুলনায় ৬৬ হাজার ৩৭১ জন বেশি ছাত্রী উত্তীর্ণ হয়েছেন।

তবে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যায় ছাত্ররা সামান্য এগিয়ে। এবার ২০ হাজার ৩৬৩ জন ছাত্র এবং ১৯ হাজার ৭২১ জন ছাত্রী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। অর্থাৎ সর্বোচ্চ ফল অর্জনকারী ছাত্রের সংখ্যা ছাত্রীর তুলনায় ৬৪২ জন বেশি।

২৯৩ প্রতিষ্ঠানে কেউ পাস করেনি: ফলাফলে উদ্বেগজনক আরেকটি দিক হলো, এবার ২৯৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি। গত বছর এ ধরনের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ২০২টি। এক বছরের ব্যবধানে শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৯১টি। অন্যদিকে শতভাগ পাস করেছে ১৩৯টি প্রতিষ্ঠান।

এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ৯ হাজার ৩৯০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নেন। পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ২ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে। গত বছরের তুলনায় অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৮৮টি বাড়লেও কেন্দ্রের সংখ্যা কমেছে ৪০টি।

বিদেশের আটটি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ২৩০ জন। তাঁদের মধ্যে পাস করেছেন ২০৯ জন। এসব কেন্দ্রে পাসের হার ৯০ দশমিক ৮৭ শতাংশ।

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা ৪ লাখ ২২ হাজার শিক্ষার্থী আবার পরীক্ষার সুযোগ পাবেন: এবার অকৃতকার্য ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ শিক্ষার্থীর মধ্যে এক বা দুই বিষয়ে ফেল করেছেন ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ জন। তাঁদের একটি বছর অপেক্ষা না করিয়ে আগামী এক মাসের মধ্যে পুনঃপরীক্ষার সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনা করছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এর মধ্যে এক বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছেন ২ লাখ ৯৮ হাজার ৪০ জন এবং দুই বিষয়ে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৬৫ জন।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুনঃপরীক্ষার আগে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ও ফল নিষ্পত্তি করা হবে। এরপর পরীক্ষার সময়সূচি নির্ধারণ করা হবে। শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির জন্য যথেষ্ট সময় দেওয়ার পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রমের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা হবে। তবে এ সুযোগের চূড়ান্ত নিয়ম ও সময়সূচি শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও শিক্ষা বোর্ডের পরবর্তী নির্দেশনায় নির্ধারিত হবে।

উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন ১ থেকে ৭ নভেম্বর: ফলাফলে অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনে উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করতে পারবেন। প্রতিটি পত্রের জন্য ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্য আবেদন করতে হবে। নির্ধারিত পদ্ধতিতে বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে।

শিক্ষা বোর্ডগুলোর নির্দেশনা অনুযায়ী, আবেদন অনলাইনেই করতে হবে। ফল পুনর্নিরীক্ষণের পর বিশেষ পরীক্ষার সময়সূচি ও অন্যান্য সিদ্ধান্ত জানানো হবে।

২ জুলাই শুরু, শেষ হয় ১৫ আগস্ট: এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা শুরু হয় ২ জুলাই। প্রথমে লিখিত পরীক্ষা ৮ আগস্ট শেষ হওয়ার কথা থাকলেও প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বন্যার কারণে চট্টগ্রামসহ কয়েকটি বোর্ডের কিছু পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো নেওয়া হয়। ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ হয় ১৫ আগস্টের মধ্যে।

দেশের নয়টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

ফল বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখবে সরকার: ফলাফলের অবনতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, শিক্ষার্থীদের শিখনপদ্ধতি, অভিভাবকদের ভূমিকা ও শিক্ষার পরিবেশে ঘাটতি রয়েছে। এসব সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নিতে হবে। ফলাফলে এমন পতন কখনোই কাম্য নয়।

শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন ও ফল প্রকাশের পুরো প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা হবে। পুনর্নিরীক্ষণে বড় ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ এবং মূল্যায়ন পদ্ধতির দুর্বলতাও খতিয়ে দেখা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেছেন, এবার পরীক্ষার্থীরা খাতায় যে উত্তর লিখেছেন, তার ভিত্তিতেই ফল নির্ধারণ করা হয়েছে। মেধার প্রকৃত ও নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করাই ছিল সরকারের লক্ষ্য।

এদিকে এবারের ফলাফল শিক্ষাব্যবস্থার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ দুর্বলতাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের তুলনামূলক কম পাসের হার, বিপুলসংখ্যক শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান, শিক্ষার্থীদের শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি ও শিখনঘাটতি নিয়ে নতুন করে পর্যালোচনার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। শুধু পরীক্ষার ফল বা পুনর্নিরীক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক ফল বিশ্লেষণ, শিক্ষকসংকট নিরসন, পাঠদানের মান উন্নয়ন এবং পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।
সানা/আপ্র/৩১/১০/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

ইংরেজি, আইসিটি ও হিসাববিজ্ঞানে বেহাল দশা
৩১ অক্টোবর ২০২৬

ইংরেজি, আইসিটি ও হিসাববিজ্ঞানে বেহাল দশা

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষায় ইংরেজি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি এবং হ...

ভিকারুননিসায় জিপিএ-৫ কমেছে ৫৮ শতাংশ, কারণ জানালেন অধ্যক্ষ
৩১ অক্টোবর ২০২৬

ভিকারুননিসায় জিপিএ-৫ কমেছে ৫৮ শতাংশ, কারণ জানালেন অধ্যক্ষ

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক...

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।...

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীর...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই