গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

ভিকারুননিসায় জিপিএ-৫ কমেছে ৫৮ শতাংশ, কারণ জানালেন অধ্যক্ষ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:৩৫ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৫:১৬ এএম ২০২৬
ভিকারুননিসায় জিপিএ-৫ কমেছে ৫৮ শতাংশ, কারণ জানালেন অধ্যক্ষ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দেশের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে চলতি বছরের এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। গত বছরের তুলনায় এবার প্রতিষ্ঠানটিতে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে প্রায় ৫৮ শতাংশ। একই সঙ্গে কমেছে পাসের হারও। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে অনুপস্থিতি, পড়াশোনায় আগ্রহের ঘাটতি, বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর দুর্বলতা এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সীমাবদ্ধতাকে এ ফলাফলের পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রকাশিত ফল অনুযায়ী, এ বছর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে নিবন্ধন করেছিলেন ২ হাজার ৩৯৬ জন শিক্ষার্থী। তাঁদের মধ্যে ১৯ জন পরীক্ষায় অনুপস্থিত ছিলেন। পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২ হাজার ৩৭৭ জনের মধ্যে পাস করেছেন ২ হাজার ২৩৮ জন এবং অকৃতকার্য হয়েছেন ১৩৯ জন। প্রতিষ্ঠানটির পাসের হার ৯৪ দশমিক ১৫ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৪১৬ জন, যা পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের ১৭ দশমিক ৫০ শতাংশ।

গত বছর প্রতিষ্ঠানটি থেকে ২ হাজার ৫১৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে পাস করেছিলেন ২ হাজার ৪৩৪ জন। সে বছর পাসের হার ছিল ৯৭ দশমিক ৫৬ শতাংশ। অকৃতকার্য হয়েছিলেন ৮০ জন এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ৯৮৬ জন। এর আগের বছর, ২০২৪ সালে, জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন ১ হাজার ৭৩৭ জন শিক্ষার্থী।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে ৩ দশমিক ৪১ শতাংশ। অন্যদিকে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ৫৭০ জন বা প্রায় ৫৭ দশমিক ৮১ শতাংশ। অর্থাৎ গত বছরের তুলনায় এবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা চার ভাগের এক ভাগেরও কম।

করোনার পর কমেছে শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি

ফলাফলের অবনতির কারণ ব্যাখ্যা করে অধ্যক্ষ মাজেদা বেগম বলেন, করোনা-পরবর্তী সময়ে শিক্ষার্থীদের স্কুল-কলেজে আসার আগ্রহ অনেকটাই কমেছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে পড়াশোনা ও পরীক্ষার ফলাফলে। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকদের সরাসরি পাঠদান, পারস্পরিক আলোচনা এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের যে গুরুত্ব রয়েছে, বাসায় বসে পড়াশোনা করে তার সম্পূর্ণ বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয়।

শিক্ষার্থীদের আবার শ্রেণিকক্ষকেন্দ্রিক শিক্ষাব্যবস্থায় ফিরিয়ে আনা জরুরি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানেরও কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। কোথাও আস্থার ঘাটতি, আবার কোথাও শিক্ষার্থীদের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত পরিবেশের প্রভাব রয়েছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতার দায় এড়িয়ে যেতে চান না জানিয়ে অধ্যক্ষ বলেন, অন্যের ওপর দায় চাপানোর পরিবর্তে নিজের দায়িত্বের জায়গা থেকে পরিস্থিতির উন্নয়নে কাজ করতে চান তিনি। প্রতিষ্ঠানের যেসব দুর্বলতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিক্ষার্থী ধরে রাখার নীতিও প্রভাব ফেলেছে

প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার্থী ধরে রাখার নীতিও ফলাফলে প্রভাব ফেলেছে বলে মনে করেন অধ্যক্ষ। তিনি জানান, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট জিপিএ পাওয়ার শর্ত থাকে। তবে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে নিজেদের স্কুল থেকে উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের কলেজে ভর্তির ক্ষেত্রে তুলনামূলক নমনীয়তা রাখা হয়।

তাঁর ভাষ্য, জিপিএ ৩ দশমিক ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও কলেজে ভর্তির সুযোগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। জিপিএ ৪ দশমিক ৫ না পেলে ভর্তি হওয়া যাবে না—এমন শর্ত আরোপ করা হয় না। ফলে অপেক্ষাকৃত দুর্বল শিক্ষার্থীরাও নিজেদের প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ পায়।

বিশেষ করে বিজ্ঞান বিভাগের কিছু শিক্ষার্থীর ফল প্রত্যাশিত পর্যায়ে নিয়ে আসা কঠিন হচ্ছে বলে জানান অধ্যক্ষ। তবে এ কারণে নিজেদের শিক্ষার্থীদের অন্য প্রতিষ্ঠানে চলে যেতে বাধ্য করতে চান না তাঁরা।

মাজেদা বেগম বলেন, শিক্ষার্থীদের ফল খারাপ হওয়ার পেছনে ব্যক্তিভেদে ভিন্ন কারণ রয়েছে। কারও শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি কম, কারও নির্দিষ্ট বিষয়ে দুর্বলতা রয়েছে, আবার কারও পারিবারিক বা ব্যক্তিগত সমস্যা থাকতে পারে। কিছু শিক্ষার্থী অনিয়মিত ছিল, কেউ কেউ নির্দিষ্ট বিষয়ে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। ফলাফল বিশ্লেষণের সময় এসব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যেসব শিক্ষার্থী খারাপ ফল করেছে, তাদের দুর্বলতার কারণ খুঁজে বের করতে হবে। উপস্থিতি, বিষয়ভিত্তিক ঘাটতি এবং অন্যান্য সমস্যা চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ব্যবস্থা নিতে হবে। শিক্ষার্থীরা যেন আবার নিজেদের অবস্থান ফিরে পায় এবং ভালো ফল করতে পারে, সে জন্য কাজ করতে হবে।

মুখস্থনির্ভরতা কমিয়ে বোঝার ওপর জোর

প্রতিষ্ঠানের একাডেমিক দুর্বলতা চিহ্নিত করে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন অধ্যক্ষ। তাঁর মতে, শুধু প্রশ্নের উত্তর মুখস্থ করিয়ে ভালো ফল করানোর পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের বিষয়বস্তু ভালোভাবে বোঝার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। কোনো বিষয় যথাযথভাবে বুঝতে পারলে শিক্ষার্থীরা নিজেরাই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। এ জন্য পাঠদান ও মূল্যায়ন পদ্ধতিতে আরও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

শিক্ষার্থীদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের ওপরও গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, শুধু একাডেমিক শিক্ষার মধ্যে শিক্ষার্থীদের সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে তাদের বিকাশের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে আনন্দময় ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে।

অধ্যক্ষ বলেন, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় আগ্রহ ফিরিয়ে আনা, নিয়মিত শ্রেণিকক্ষে উপস্থিতি নিশ্চিত করা এবং তাদের মেধা ও সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটানোই প্রতিষ্ঠানের মূল লক্ষ্য। এ জন্য শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে সব শিক্ষককে সঙ্গে নিয়ে উন্নয়নের চেষ্টা করা হবে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে অভিভাবকসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেন।

সারা দেশেও কমেছে পাসের হার

এবারের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় ১১টি শিক্ষা বোর্ডে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ৭ হাজার ৬৪৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৩৩ হাজার ১৪৯ জন। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯১টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সামগ্রিকভাবে এবার পরীক্ষার ফলাফলে অবনতি হয়েছে। ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে গড় পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ।

এসি/আপ্র/৩১/১০/২০২৬

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসিতে পাসের হারে শীর্ষে ঢাকা, সবচেয়ে পিছিয়ে বরিশাল

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়েছে। এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ।...

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু রোববার

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর এবার ফল পুনর্নিরীক্ষণের আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন শিক্ষার্থীর...

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এক-দুই বিষয়ে ফেল করা শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে: শিক্ষামন্ত্রী

এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য হওয়া ৪ লাখ ২২ হাজার ৯০৫ শিক্ষার্থীর পরীক্ষা এক মাসের মধ্যে নেওয়ার পরিকল্পন...

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করেছে ৩ লাখ ৮২ জন
৩১ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করেছে ৩ লাখ ৮২ জন

এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এতে অংশ নিয়েও ফেল করেছেন ৫ লাখ ৯৪ হাজার ১১৩ জন পরীক্ষা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই