গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

চার দশক পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্যের কাঠামো

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৪:১০ পিএম, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | আপডেট: ১৪:৫৯ এএম ২০২৬
চার দশক পর ফিরছে গ্রাম সরকার, থাকছে ১৭ সদস্যের কাঠামো
ছবি

ছবি সংগৃহীত

চার দশকের বেশি সময় পর দেশে আবারো কার্যকর হতে যাচ্ছে গ্রাম সরকার ব্যবস্থা। স্থানীয় পর্যায়ে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানো এবং সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমে সহায়তার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এরই মধ্যে ‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়া তৈরি করে জনসাধারণের মতামত চেয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ। আগামী ১৭ নভেম্বরের মধ্যে এ খসড়ার বিষয়ে মতামত জানাতে পারবেন নাগরিকরা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা ই-মেইল ঠিকানায় মতামত পাঠাতে হবে। নাগরিকদের মতামত পর্যালোচনার পর আইনের খসড়া চূড়ান্ত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

প্রস্তাবিত গ্রাম সরকার ব্যবস্থা উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন, স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়ন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ, মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণ, শিক্ষা, পরিবার পরিকল্পনা, পুষ্টি, টিকাদান এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় সহায়তা করবে। পাশাপাশি নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন, কৃষি, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ, সমবায়, কুটিরশিল্প, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রমেও ভূমিকা রাখবে।

এ ছাড়া স্থানীয় বিরোধ মীমাংসায় সহায়তা, চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ এবং আর্থিক কার্যক্রম পর্যালোচনার দায়িত্বও পালন করবে গ্রাম সরকার।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, গত ৫ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের প্রস্তাব ওঠে। ২০০৯ সালে রহিত হওয়া ২০০৩ সালের গ্রাম সরকার আইন পরিমার্জন করে নতুন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে। আইনটি পাস হলে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের উদ্যোগে দেশে আবারও গ্রাম সরকার ব্যবস্থা চালু হবে।

নতুন খসড়ায় সময়ের চাহিদা বিবেচনায় কয়েকটি দায়িত্ব যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড ও ক্রীড়া কার্ড বিতরণ এবং এ-সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহে সহায়তা। পাশাপাশি ভিজিএফ ও ভিজিডি কার্যক্রম বাস্তবায়ন, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম এবং ব্যক্তিপর্যায়ে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন ও ব্যবহারে জনগণকে উৎসাহিত করার দায়িত্বও দেওয়া হয়েছে।

থাকবেন ১৭ জন, মেয়াদ পাঁচ বছর

‘গ্রাম সরকার আইন ২০২৬’-এর খসড়ায় দেশের প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদের ওয়ার্ডে একটি করে গ্রাম সরকার গঠনের প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে একজন প্রধান, একজন উপদেষ্টা ও ১৫ জন সদস্য থাকবেন। অর্থাৎ প্রতিটি গ্রাম সরকারে মোট সদস্য থাকবেন ১৭ জন।

সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য গ্রাম সরকারের প্রধান এবং সংরক্ষিত আসনের সদস্য উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। বাকি ১৫ সদস্য সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ভোটারদের অংশগ্রহণে ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হবেন। এ ক্ষেত্রে মোট ভোটারের অন্তত ১০ শতাংশের উপস্থিতি প্রয়োজন হবে।

গ্রাম সরকারের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। প্রস্তাব অনুযায়ী, দেশের সাড়ে চার হাজারের বেশি ইউনিয়নের প্রায় ৪১ হাজার ওয়ার্ডে এ ব্যবস্থা চালু হলে প্রায় সাত লাখ স্থানীয় মানুষ এর নেতৃত্ব ও কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হবেন।

খসড়ায় গ্রাম সরকারের সভা আয়োজনের নিয়মও নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রতি দুই মাসে অন্তত একবার নিয়মিত সভা এবং প্রতি ছয় মাসে অন্তত একবার সাধারণ সভা করতে হবে। সাধারণ সভায় ওয়ার্ডের অন্তত ১০ শতাংশ ভোটারের উপস্থিতি থাকতে হবে। এ ছাড়া বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য কমিটি এবং প্রয়োজনে উপকমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।

গ্রাম সরকারের জন্য থাকবে পৃথক তহবিল। ইউনিয়ন পরিষদ ও অন্যান্য উৎস থেকে পাওয়া অর্থ এ তহবিলে জমা হবে। উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান, পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গ্রাম সরকারের কার্যক্রম পরিদর্শন করতে পারবেন।

প্রস্তাবিত আইনে গ্রাম সরকার বাতিলের ক্ষমতাও রাখা হয়েছে। জেলা প্রশাসক তদন্তের পর প্রয়োজন মনে করলে কোনো গ্রাম সরকার বাতিল করতে পারবেন। তবে এ ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট গ্রাম সরকারকে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হবে।

সৎ ও যোগ্য নেতৃত্বের ওপর গুরুত্ব

জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ ও সুশাসনকর্মী সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার গ্রাম সরকার ব্যবস্থাকে ভালো উদ্যোগ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তাঁর মতে, এ ব্যবস্থার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের সরাসরি অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি হবে। তবে দায়িত্ব পালনের জন্য সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচন করতে হবে। আইন মেনে গ্রাম সরকার পরিচালিত হলে জনগণের দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিমুখতা দূর করতেও এটি ভূমিকা রাখতে পারে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে এটি কেবল আইনের খসড়া। আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হবে। সংসদে পাস হওয়ার পরই সরকার এটি বাস্তবায়নে যেতে পারবে। তবে কত দ্রুত ব্যবস্থা চালু হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবের সিদ্ধান্তের ওপর।

যেভাবে শুরু হয়েছিল গ্রাম সরকার

দেশে গ্রাম সরকার ব্যবস্থার সূচনা হয় বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের শাসনামলে। গ্রামীণ জনগণকে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করা এবং স্থানীয় পর্যায়ে স্বনির্ভরতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল।

১৯৮০ সালের আইনের মাধ্যমে গ্রাম পর্যায়ে ব্যবস্থাটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ পায়। জিয়াউর রহমানের উন্নয়ন কর্মসূচির অন্যতম অংশ ছিল গ্রাম সরকার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

তবে ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর ব্যবস্থাটি বেশিদিন টেকেনি। ১৯৮২ সালে এরশাদ সরকারের আমলে গ্রাম সরকার বিলুপ্ত করা হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রাম পর্যায়ে স্থানীয় সরকার কাঠামো ফিরিয়ে আনতে ১৯৯৭ সালে ‘স্থানীয় সরকার (গ্রাম পরিষদ) আইন’ প্রণয়ন করা হয়।

এরপর ২০০৩ সালে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে নতুন করে ‘গ্রাম সরকার আইন, ২০০৩’ করা হয়। ওই বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি আইনটি প্রণীত হয়েছিল। তবে ২০০৯ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে ‘গ্রাম সরকার (রহিতকরণ) বিল’ পাসের মাধ্যমে এ ব্যবস্থা আবারও বাতিল করা হয়। এবার নতুন আইনের খসড়ার মধ্য দিয়ে গ্রাম সরকার পুনর্বহালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসি/আপ্র/৩১/১০/২০২৬

 

 

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ঢাকায় বাসের রুট কমছে ৯৮ থেকে ৩২, শুরু হচ্ছে ছয়টির যাত্রা
৩১ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকায় বাসের রুট কমছে ৯৮ থেকে ৩২, শুরু হচ্ছে ছয়টির যাত্রা

রাজধানীর গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরানো, যানজট কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নত করতে বাস রুট পুনর্বিন্যাসের...

তাহসিফ হত্যার তিন দিন পর মামলা, আসামি অজ্ঞাত
৩১ অক্টোবর ২০২৬

তাহসিফ হত্যার তিন দিন পর মামলা, আসামি অজ্ঞাত

বিমানবাহিনীর সাবেক ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় তিন দিন পর হত্যা মাম...

সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক
৩১ অক্টোবর ২০২৬

সুদসহ কৃষিঋণ মওকুফে স্বস্তিতে ১৪ লাখ কৃষক

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের ১৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৮২ জন কৃষকের...

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে
৩১ অক্টোবর ২০২৬

সৌদি আরবে অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৭ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে পৌঁছেছে

সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাকি সাত বাংলাদেশি শ্রমিকের মরদ...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই