গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

জ্বালানি সংকটে যমুনার জেলেদের আয়ে ভাটা

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১:৫২ পিএম, ১৭ এপ্রিল ২০২৬ | আপডেট: ২০:৪৭ এএম ২০২৬
জ্বালানি সংকটে যমুনার জেলেদের আয়ে ভাটা
ছবি

তেল না পাওয়ায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী ও আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো জেলে -ছবি সংগৃহীত

জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদী ও আশপাশের চরাঞ্চলের হাজারো জেলের জীবিকা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। ডিজেল না পেয়ে নৌকা চালাতে না পারায় বহু মাঝি ঘাটে নৌকা বেঁধে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কোথাও কোথাও বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনেও স্বাভাবিকভাবে মাছ ধরা সম্ভব হচ্ছে না।

দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে যমুনায় নৌকা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করা হাসমত আলী জানান, আগে বৈঠা দিয়ে শুরু করলেও পরে নৌকায় ইঞ্জিন বসান। কিন্তু এখন জ্বালানি সংকটে সেই ইঞ্জিনই বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তেল না পাওয়ায় আয় বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন তিনি।

গত বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে সিরাজগঞ্জ ক্রসবার-৩ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, যমুনার তীরে সারি সারি নৌকা বাঁধা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝিরা অলস সময় পার করছেন। কিছু নৌকা চললেও ভাড়া বেড়ে যাওয়ায় যাত্রীদের মধ্যে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। চরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের যাতায়াতও কঠিন হয়ে পড়েছে।

স্থানীয় জেলেরা জানান, বাজার ও ফিলিং স্টেশনে ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে না। শহরের পাম্পে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে অল্প পরিমাণ তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। সেই তেল দিয়ে কয়েক ঘণ্টা মাছ ধরা গেলেও পুরো দিন কাজ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক সময় মাছ না পাওয়ায় আয় আরো কমে যাচ্ছে।

জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জে যমুনাসহ বিভিন্ন নদীতে নিবন্ধিত প্রায় ২৭ হাজার ১৮৩ জন জেলে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন। জেলায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার ইঞ্জিনচালিত নৌকা রয়েছে। এসব নৌকা চালাতে দৈনিক গড়ে ১২ থেকে ১৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়।

জেলেদের অভিযোগ, লিটারপ্রতি ডিজেলের দাম অতিরিক্তভাবে বেড়ে যাওয়ায় খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও লিটারে ৪০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। ফলে অনেকেই নৌকা নামাতে পারছেন না।

একাধিক জেলে জানান, কয়েক দিন ধরে তারা নদীতে যেতে পারছেন না। ফলে আয় পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে পরিবার নিয়ে চরম কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে তাদের।

স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জ্বালানি তেলের সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফেরাতে জেলায় জ্বালানি কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অবৈধ মজুতদারদের বিরুদ্ধে অভিযান ও বাজার মনিটরিং জোরদার করা হয়েছে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকটের কারণে জেলেরা সমস্যায় পড়েছেন বলে তথ্য পাওয়া গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকটের কারণে নদীপথে যাত্রী ও নৌযান চলাচলও কমে গেছে। এতে সাধারণ মানুষও দুর্ভোগে পড়েছেন।
সানা/আপ্র/১৭/৪/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
২৯ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়...

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিম...

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ
২৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ

দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আরো জনবান্ধব করা এবং শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয়...

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি
২৯ জুলাই ২০২৬

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে খালের পানিতে ইয়াবার প্যাকে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 20 ঘন্টা আগে