গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

জেলা প্রতিনিধি, শরীয়তপুর

প্রকাশিত: ০৯:৪০ পিএম, ১৬ মে ২০২৬ | আপডেট: ০৪:১৩ এএম ২০২৬
স্বামীকে হত্যার পর টুকরো ‍করে ফ্রিজে রাখতে গিয়ে ধরা
ছবি

ছবি সংগৃহীত

শরীয়তপুরে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে ফ্রিজে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। পরে শরীরের হাড়ের অংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দিয়ে মাংস ফ্রিজে রাখতে গিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহে ধরা পড়েন তিনি।

গত মঙ্গলবার (১২ মে) রাতের এ ঘটনা জেলায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সদর উপজেলার চন্দ্রপুর এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন মালয়েশিয়া প্রবাসী জিয়া সরদার ও তার স্ত্রী আসমা আক্তার। প্রায় আট বছর আগে মোবাইল ফোনে পরিচয়ের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়। উভয়েরই এটি দ্বিতীয় বিয়ে ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সম্প্রতি সেই বিরোধ চরম আকার ধারণ করে। গত মঙ্গলবার রাতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আসমা আক্তার তার স্বামী জিয়া সরদারের মাথায় লোহার রড দিয়ে আঘাত করেন। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এরপর হত্যাকাণ্ড গোপন করতে আসমা মরদেহটি ছুরি দিয়ে কয়েক টুকরো করে হাড় ও মাংস আলাদা করেন। হাড়গুলো একটি ড্রামে ভরে বাসায় রেখে দেন প্রায় তিন দিন। পরে শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি অটোরিকশা ভাড়া করে বস্তায় ভরে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। এরপরে মাংসগুলো তিনি শরীয়তপুর শহরের পালং এলাকার তার আগের ভাড়া বাসায় নিয়ে গিয়ে ফ্রিজে রাখতে চান। কিন্তু তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের সন্দেহ হয়। পরে তারা জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদে আসমা আক্তার হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সদর উপজেলার আটং বৃক্ষতলা এলাকা থেকে মরদেহের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করে পুলিশ। একইদিন বিকেলে নড়িয়া উপজেলার পদ্মা নদীর তীর থেকেও নিহতের চারটি হাত-পা উদ্ধার করা হয়।

নিহতের ছোট ভাই শাহাদাত হোসেন শাহেদ বলেন, আমার ভাই প্রবাসে থাকাকালে ওই নারীকে বিয়ে করেন। দেশে এসে আলাদা বাসায় থাকতেন। আমরা খবর পেয়ে এসে দেখি, সত্যিই তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমরা হত্যাকারীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

সদর পালং মডেল থানা-পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, স্বামীকে হত্যার পর মরদেহ টুকরো করে ড্রামে ভরে রাখে ওই নারী। পরে দেহাংশ বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যের ভিত্তিতে তাকে আটক করা হয়। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মরদেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এসি/আপ্র/১৬/০৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর যখন বাড়...

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’

ভোলার মতবিনিময় সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ ঠেকাতে চট্ট...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই