গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

মেনু

১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, তবুও শিক্ষকের ব্যাংকে ঢুকছে সরকারি বেতন

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল

জেলা প্রতিনিধি, নড়াইল

প্রকাশিত: ১৩:২৫ পিএম, ১৪ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৫:৩৩ এএম ২০২৬
১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত, তবুও শিক্ষকের ব্যাংকে ঢুকছে সরকারি বেতন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

নড়াইলের কালিয়া উপজেলার দত্ত মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক কম্পিউটার শিক্ষকের বিরুদ্ধে টানা ১৭ বছর বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা (এমপিও) নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, বিদ্যালয়ে পাঠদান তো দূরের কথা, একদিনও উপস্থিত না থেকেও তিনি প্রায় অর্ধকোটি টাকার সরকারি বেতন-ভাতা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

অভিযুক্ত শিক্ষক পীযুষ কান্তি ঘোষ। তবে তিনি দাবি করেছেন, ২০০৯ সালেই বিদ্যালয়ের চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এরপর আর কখনো বিদ্যালয়ে যাননি। তার ভাষ্য, কীভাবে তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি টাকা জমা হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পীযুষ কান্তি ঘোষ ২০০৬ সালে কম্পিউটার শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তিন বছর চাকরি করেও এমপিওভুক্ত না হওয়ায় ২০০৯ সালে তিনি ঢাকায় চলে গিয়ে অন্য পেশায় যুক্ত হন। পরে বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকা অবস্থাতেই তিনি এমপিওভুক্ত হন। এরপর থেকে নিয়মিত তার ব্যাংক হিসাবে সরকারি বেতন-ভাতা জমা হতে থাকে। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক হিসেবে কর্মরত।

এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন সময়ের প্রধান শিক্ষকদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের যোগসাজশেই দীর্ঘদিন ধরে সরকারি অর্থ উত্তোলন হয়েছে। যদিও সংশ্লিষ্ট বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষকরা একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছেন।

বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক গোলক চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক থাকাকালে তিনি পীযুষ কান্তির বেতন বন্ধ করেছিলেন। পরে বর্তমান প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর আবার তা চালু করা হয়। অন্যদিকে বর্তমান প্রধান শিক্ষক তুষার কান্তি ঘোষ বলেন, হাইকোর্টের একটি রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে বরখাস্ত থাকলেও তার প্রাপ্য অর্থ ব্যাংক হিসাবে জমা হয়েছে। তিনি আ‡হর দাবি করেন, ব্যবস্থাপনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ীই বিষয়টি পরিচালিত হয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে পীযুষ কান্তি ঘোষ বলেন, তিনি ২০০৯ সালেই চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন এবং এরপর বিদ্যালয়ে আর যাননি। তার দাবি, এত বছরে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকেও তিনি যাননি এবং তার হিসাবে কীভাবে লেনদেন হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান তিনি।

এদিকে, বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিন্নাতুল ইসলাম জানান, এ বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মো. জালাল উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থেকেও সরকারি বেতন-ভাতা গ্রহণের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর। এটি একজনের পক্ষে সম্ভব নয়। তদন্ত কমিটি গঠন করে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে এবং তদন্ত শেষে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।

এসি/আপ্র/১৪/০৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

শ্রীপুরে সাড়ে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ কথিত ‘মাদকসম্রাট’ গ্রেফতার
২৮ জুলাই ২০২৬

শ্রীপুরে সাড়ে ১৪ হাজার ইয়াবাসহ কথিত ‘মাদকসম্রাট’ গ্রেফতার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় বিশেষ অভিযানে ১৪ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ এক কথিত মাদক কারবারিকে গ্র...

ফুটবল খেলার বিরোধে সিলেটে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত
২৮ জুলাই ২০২৬

ফুটবল খেলার বিরোধে সিলেটে ছুরিকাঘাতে স্কুলছাত্র নিহত

সিলেট নগরীতে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে এক স্কুলছাত্র নিহত হয়েছে। সোমবার...

বদরগঞ্জে লটারির নামে জুয়া বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ
২৮ জুলাই ২০২৬

বদরগঞ্জে লটারির নামে জুয়া বন্ধের দাবিতে বিক্ষোভ

মাহাবুব রহমান বিপ্লব, বদরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি: রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার খোলাহাটিতে ‘কুটিরশিল্প ও বা...

রাবিতে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী এবার গ্রেফতার
২৮ জুলাই ২০২৬

রাবিতে হামলার শিকার দুই শিক্ষার্থী এবার গ্রেফতার

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারে হামলার শিকার তিন শিক্ষার্থীর মধ্যে দুইজনকে ছাত্রলীগের...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই