গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তিনজনের আমৃত্যু, তিনজনের যাবজ্জীবন

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

জেলা প্রতিনিধি, ঠাকুরগাঁও

প্রকাশিত: ১৬:১২ পিএম, ১৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ২২:২০ এএম ২০২৬
ঠাকুরগাঁওয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ: তিনজনের আমৃত্যু, তিনজনের যাবজ্জীবন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ঠাকুরগাঁওয়ে এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রায় ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত মামলার রায় দিয়েছেন আদালত। রায়ে তিন আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং অপর তিনজনকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে দণ্ডিতদের সম্পত্তি বিক্রির নির্দেশও দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে ঠাকুরগাঁও নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন— পৌর শহরের গোয়ালপাড়া এলাকার আনিস রানা, মুসলিমনগর এলাকার সাইফুল ইসলাম এবং দুলাল। আদালত তাদের প্রত্যেককে ২ লাখ টাকা করে অর্থদণ্ডও দিয়েছেন।

এ ছাড়া আনিছুর, খতিবুর খতু ও লালুকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে ১ লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর বিকেলে সপ্তম শ্রেণির এক ছাত্রী বান্ধবীর বাড়ি থেকে ফেরার পথে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় সড়কের পাশে নির্জন এলাকায় কয়েকজন যুবকের কবলে পড়েন। তাকে জোরপূর্বক একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হলে তিনজন পালাক্রমে ধর্ষণ করেন এবং অপর তিনজন এ ঘটনায় সহযোগিতা করেন।

ভুক্তভোগীর চিৎকার শুনে স্থানীয় এক ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে এগিয়ে গেলে অভিযুক্তরা পালিয়ে যায়। পরে অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনার তিন দিন পর তার বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন।

রায়ে আদালত বলেন, আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামি ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা এবং জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের সাজা মওকুফ বা রেমিশনের সুযোগ পাবেন না।

এ ছাড়া আদালত নির্দেশ দিয়েছেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। আপিলের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর প্রয়োজন হলে জেলা প্রশাসন দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে সেই অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেবে, যা পরে ভুক্তভোগীকে প্রদান করা হবে।

তবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত তিন আসামির ক্ষেত্রে বিচারপূর্ব হাজতবাসের সময় দণ্ডের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে এবং তারা আইন অনুযায়ী রেমিশনের সুবিধা পাবেন।

রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও আলামত পর্যালোচনা করেই আদালত ন্যায়সঙ্গত রায় দিয়েছেন। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ার পর ভুক্তভোগী ও তার পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. মেহেদী হাসান জানান, রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি পাওয়ার পর তা পর্যালোচনা করে উচ্চ আদালতে আপিলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এসি/আপ্র/১৯/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর যখন বাড়...

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’

ভোলার মতবিনিময় সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ ঠেকাতে চট্ট...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই