গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

জেলা প্রতিনিধি, রাজশাহী

প্রকাশিত: ২১:১৭ পিএম, ২২ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৬:১৯ এএম ২০২৬
প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ
ছবি

ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন -প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

রাজশাহীর পবা উপজেলার হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত এক নারী সদস্যের বিরুদ্ধে প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একাধিক ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, সরকারি সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তাদের কাছ থেকে ৫ থেকে ৭ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত ইউপি সদস্য।

অভিযোগ উঠেছে, পবা উপজেলার ৫ নম্বর হড়গ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত (৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড) মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, জনপ্রতি কয়েক হাজার টাকা নেওয়া হলেও অনেকেই এখন পর্যন্ত সরকারি ভাতার সুবিধা পাননি। অথচ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করতে কোনো ধরনের অর্থ দেওয়ার বিধান নেই।

ভুক্তভোগী হিরা ও আলিয়া অভিযোগ করে বলেন, তারা প্রতিবন্ধী হওয়ায় ভাতার কার্ডের জন্য ইউপি সদস্যের কাছে গেলে কার্ড করতে টাকা লাগবে বলে জানানো হয়। পরে তারা ৭ হাজার টাকা করে দিয়েছেন। কিন্তু পরে জানতে পারেন, সরকারি নিয়মে এ ধরনের কার্ড করতে কোনো টাকা লাগে না। তারা বলেন, “আমরা দরিদ্র মানুষ। কিছু বুঝতে পারিনি। আমাদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে। বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করে বিচার চাই।”

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সরলতার সুযোগ নিয়ে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। শুধু প্রতিবন্ধী ভাতা নয়, বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও অনেকের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, এলাকায় টাকা ছাড়া সরকারি সেবা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সংরক্ষিত মহিলা সদস্য মোছা. রুপালি পারভীন। তিনি বলেন, “আমি প্রায় ১০ বছর ধরে সংরক্ষিত মহিলা সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি। প্রতিবন্ধী ভাতার কার্ড করে দেওয়ার নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন।”

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পবা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মোহাম্মদ হোসেন খানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইবনুল আবেদীন বলেন, “এ ধরনের কোনো লিখিত অভিযোগ এখনো পাইনি। লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সানা/কেএমএএ/আপ্র/২২/৭/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর যখন বাড়...

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’

ভোলার মতবিনিময় সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ ঠেকাতে চট্ট...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই