গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

একমাত্র ছেলের হাতে প্রাণ গেল বাবা-মায়ের

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৮ পিএম, ২৬ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৭:৫২ এএম ২০২৬
একমাত্র ছেলের হাতে প্রাণ গেল বাবা-মায়ের
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম: চট্টগ্রামের আনোয়ারায় পারিবারিক কলহ ও একমাত্র সন্তানের দীর্ঘদিনের অবাধ্য আচরণের জেরে বাবা-মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় ঘাতক ছেলে রিমন দাশ গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা কাপড় কাটার একটি কাঁচিও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে আনোয়ারা থানা পুলিশ জানায়, নিহতরা উপজেলার হাইলধর ইউনিয়নের পূর্ব গুজরা গ্রামের দেবেন্দ্র মহাজন বাড়ির বাসিন্দা স্বপন দাশ গুপ্ত (৬৫) ও তাঁর স্ত্রী কল্পনা দাশ গুপ্ত (৫৫)। তারা গ্রেফতার রিমন দাশ গুপ্তের (৩১) বাবা-মা।

পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শনিবার দুপুরে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রিমন দাশ গুপ্তের সঙ্গে তাঁর মা কল্পনা দাশ গুপ্তের তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে ঘরে থাকা কাপড় কাটার একটি কাঁচি দিয়ে মায়ের গলায় উপর্যুপরি আঘাত করেন তিনি। এতে ঘটনাস্থলেই কল্পনা দাশ গুপ্তের মৃত্যু হয়।

স্ত্রীকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে বাবা স্বপন দাশ গুপ্তের ওপরও হামলা চালায় রিমন। কাঁচি দিয়ে তাঁর গলা ও পেটে একাধিক আঘাত করে গুরুতর জখম করা হয়। চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন দ্রুত তাঁকে উদ্ধার করে আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

হত্যাকাণ্ডের খবর পেয়ে আনোয়ারা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকেই রিমন দাশ গুপ্তকে গ্রেফতার করা হয়। পরে ঘটনাস্থল থেকে হত্যায় ব্যবহৃত রক্তমাখা কাঁচিটি জব্দ করা হয়।

পুলিশ জানায়, রিমন দাশ গুপ্ত তাঁর মা-বাবার একমাত্র সন্তান। দীর্ঘদিন ধরে তিনি অত্যন্ত অবাধ্য ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতেন। বিভিন্ন সময় তিনি মা-বাবার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন বলেও প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। পারিবারিক কলহ ও তাঁর আচরণগত সমস্যার জেরেই এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা।

ঘটনার পর নিহত কল্পনা দাশ গুপ্তের মরদেহ ঘটনাস্থল থেকে এবং স্বপন দাশ গুপ্তের মরদেহ আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ দুটি চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।

এ ঘটনায় নিহত স্বপন দাশ গুপ্তের ভাই তপন দাশ গুপ্ত বাদী হয়ে শনিবার রাতে আনোয়ারা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

আনোয়ারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জুনায়েত চৌধুরী বলেন, পারিবারিক কলহ ও একমাত্র সন্তানের অবাধ্য আচরণের জেরেই এ নৃশংস জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে প্রাথমিক তদন্তে প্রতীয়মান হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২৬/৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুল কাটতে বের হওয়া রায়হান ফিরলো এক পা ও কিডনি হারিয়ে

মাত্র ১০০ টাকা নিয়ে চুল কাটতে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল ১২ বছরের শিশু মোহাম্মদ রায়হান। সাত মাস পর যখন বাড়...

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অদ্ভুত দেশ আমাদের! ‘অধিকাংশ সরকারি কর্মকর্তা চোর’

ভোলার মতবিনিময় সভায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চট্টগ্রামে প্রতি শনিবার বিশেষ পরিচ্ছন্নতা অভিযান

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম ব্যুরো: ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া ও ম্যালেরিয়াসহ মৌসুমি রোগের প্রকোপ ঠেকাতে চট্ট...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই