গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

মেনু

প্রশাসনের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট

প্রকাশিত: ০০:২৬ পিএম, ২৯ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০১:১৭ এএম ২০২৬
প্রশাসনের আশ্বাসে বাগেরহাটে খাল দখলমুক্ত আন্দোলন সাময়িক স্থগিত
ছবি

প্রতিনিধির পাঠানো ছবি

বাগেরহাট জেলার সরকারি খাল অবৈধ দখলমুক্ত করে জনগণের জন্য উন্মুক্ত করার দাবিতে চলা তিন দিনব্যাপী অবস্থান কর্মসূচি স্থানীয় সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ও জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেনের আশ্বাসে সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে এলাকাবাসী, কৃষক, পরিবেশবাদী এবং সামাজিক সংগঠন অ্যাক্টিভিস্টা বাগেরহাটের সদস্যরা অংশ নেন। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য শেখ মনজুরুল হক রাহাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, “সরকারি খাল কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে পারে না। দীর্ঘদিন ধরে খাল দখলের কারণে কৃষি, পরিবেশ এবং সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে জেলার সব সরকারি খাল পর্যায়ক্রমে দখলমুক্ত করতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

এ সময় জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন আন্দোলনকারীদের উদ্দেশে বলেন, “সরকারি খাল দখলমুক্ত করার দাবির সঙ্গে প্রশাসন সম্পূর্ণ একমত। আগামী তিন মাসের মধ্যে জেলার সরকারি খালগুলো পর্যায়ক্রমে অবমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

তিনি আন্দোলনকারীদের একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, প্রশাসন বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সমন্বয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের আশ্বাসের পর আন্দোলনকারীরা তাৎক্ষণিকভাবে অবস্থান কর্মসূচি সাময়িক স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে তারা সতর্ক করে বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান অগ্রগতি না হলে আবারো বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, জেলার সাতফুলের খাল, ইমামবাড়ী খাল, খুন্তাকাটা খাল, মান্দারতলা খাল, রাম বাবুর খাল, বাদুখালীর খাল, পদ্মবিল-আমতলা খাল এবং হোজির খালসহ বিভিন্ন সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে। এসব খালে বাঁধ ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় স্বাভাবিক জোয়ার-ভাটার প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে জলাবদ্ধতা বৃদ্ধি, কৃষিকাজে পানির সংকট, নৌযান চলাচলে প্রতিবন্ধকতা এবং পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

আন্দোলনকারীরা আশা প্রকাশ করেন, সংসদ সদস্য ও জেলা প্রশাসকের দেওয়া প্রতিশ্রুতি দ্রুত বাস্তবায়িত হলে জেলার খালগুলো আবারো জনগণের জন্য উন্মুক্ত হবে এবং কৃষি, পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

পরে প্রধান উপদেষ্টা তারেক রহমানের উদ্দেশে জেলা প্রশাসকের হাতে একটি স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। স্মারকলিপি প্রদান শেষে আন্দোলনকারীরা তাদের চলমান কর্মসূচি আপাতত স্থগিত করেন।
সানা/আপ্র/২৯/৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

কুড়িগ্রামে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানে এলজিডি
২৯ জুলাই ২০২৬

কুড়িগ্রামে সড়ক মেরামতের পাশাপাশি নারীর কর্মসংস্থানে এলজিডি

আশির্বাদ রহমান: দীর্ঘদিনের ভাঙাচোরা সড়ক, দুর্বল যোগাযোগব্যবস্থা এবং সীমিত কর্মসংস্থানের কারণে কুড়িগ্...

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত এক টিউবে চলবে যানবাহন
২৯ জুলাই ২০২৬

কর্ণফুলী টানেলে চার রাত এক টিউবে চলবে যানবাহন

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি: কর্ণফুলী টানেলে রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ কাজের জন্য আগামী চার রাত নিয়ন্ত্রিতভাবে যান...

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা

একেএম ফজলুল হক: বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পুনর্বাসনে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহয...

চট্টগ্রামে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেফতার দুজন, উদ্ধার ১০ ভরি
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে স্বর্ণ চুরির ঘটনায় গ্রেফতার দুজন, উদ্ধার ১০ ভরি

একেএম ফজলুল হক: চট্টগ্রাম মহানগরীর আকবরশাহ এলাকায় একটি বাসা থেকে ১২ ভরি স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়ি...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 50 মিনিট আগে