একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭। এ সময় সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে এসব সিগারেট মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-৭ এ তথ্য জানায়।
র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এএসপি এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেফতার ব্যক্তি ও জব্দ করা মালামালের বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
র্যাব জানায়, চট্টগ্রাম নগরের সদরঘাট থানার ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্ব মাদারবাড়ি দারোগারহাট রোড এলাকায় ইলিয়াস মাঝির বাড়ির একটি ভাড়া করা গুদামে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের বিচট্টগ্রামে বেড়েছে ফল আমদানি,
দিনে ২০ ট্রাক ফল ডুকছে ফলমণ্ডিতে।
একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস :চট্টগ্রামে ভারতীয় ডালিম, দক্ষিণ আফ্রিকা ও চীনের আপেল, দক্ষিণ আফ্রিকা, থাইল্যান্ড ও মিশরের কমলা এবং চীনের আঙুর নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগরজুড়ে খুচরা দোকানি, ফুটপাতের ভ্যানগাড়িতে হরেক রকম আমদানি ফল বিক্রি হচ্ছে। তবে আমসহ দেশি ফলের সরবরাহ কমেছে চট্টগ্রামে ফলের আড়ত বিআরটিসি ফলমণ্ডি বাজারে। বাজারে আছে মৌসুমের শেষজাত বারি-৪ ও আশ্বিনী আম। এই আম থাকবে আরো কয়েক সপ্তাহ। আছে দেশে উৎপাদিত পেয়ারা, ড্রাগন ফল। এই সুযোগে আবারো বাজার দখল করছে আমদানির আপেল, কমলা, মাল্টা, আঙ্গুর, খেঁজুর, ডালিমসহ বেশকিছু ফল।
ফল ব্যবসায়ী খোন্দকার বলেছেন, দক্ষিণ আফ্রিকার আপেল আকার, রং, সংরক্ষণ ক্ষমতা ও স্বাদের কারণে প্রিমিয়াম মানের হিসেবে পরিচিত। অন্যদিকে তুলনামূলক কম দামের কারণে চীনের আপেলের চাহিদা মধ্যবিত্ত ক্রেতাদের মধ্যে বেশি।
ফলমণ্ডির আড়তদার নাসির উদ্দিন মাহমুদ জানালেন, দেশি ফলের দাপট থাকে তিন মাস। বাকি ৯ মাস আমদানি নির্ভর ফল দিয়ে চলে এই বাজার। এখন আম প্রায় শেষ। আম, পেয়ারা ও ড্রাগন ফল মিলে দিনে ৭ থেকে ৮টি ট্রাক দেশি ফল বাজারে প্রবেশ করছে। আগস্টের মাঝামাঝিতে দেশি ফল আর থাকবে না। পুরো বাজারই আমদানিনির্ভর হয়ে পড়বে।
ফলমণ্ডির আমদানিকারক নাজিম উদ্দিন জানিয়েছেন, এখন আমদানির ফল আসা বেড়েছে। দিনে ২০ট্রাক ফল প্রবেশ করছে ফলমণ্ডিতে। এই সংখ্যা আগস্টে আরো বাড়বে। মৌসুমী ফলের যখন বাজার ভরপুর ছিল তখন দিনে ১২ ট্রাক আমদানি ফল আসতো। মৌসুমী ফলের সময় আমদানি আমরা কমাই।
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দোকানগুলোতে বিদেশী ফল বিক্রি হচ্ছে। যদিও মিশর থেকে কমলার আমদানি বর্তমানে তুলনামূলক কম। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ভারতীয় ডালিমের ক্যারেট বিক্রি হচ্ছে ৭ হাজার থেকে ৭ হাজার ৫০০ টাকায়। কমলার ক্যারেট ৪ হাজার ২০০ থেকে ৫ হাজার টাকা এবং চীনা আঙুরের ছোট বক্স ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দামের পার্থক্য আপেলে।
দক্ষিণ আফ্রিকার আপেলের ক্যারেট বিক্রি হচ্ছে ৬ হাজার ৮০০ টাকায়, আর চীনের আপেল বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। স্বাদ, মানে ভিন্নতা থাকায় দামে প্রায় আড়াই হাজার টাকার ব্যবধান।
দেশি সিগারেট মজুত ও বিক্রি করা হচ্ছে-এমন তথ্য পাওয়া যায়।
এই তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ওই গুদামে অভিযান চালায় র্যাব-৭। অভিযানে বেলাল হোসেন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি চট্টগ্রাম নগরের চকবাজার থানার সোনামিয়া এলাকার মৃত মুছা মিয়ার ছেলে।
র্যাবের অভিযানে গুদাম থেকে ২ হাজার ৮৫০ কার্টন ওরিস ব্র্যান্ডের এবং ৬৪০ কার্টন প্যাট্রন ব্র্যান্ডের বিদেশি সিগারেট জব্দ করা হয়। প্রতিটি কার্টনে ১০ প্যাকেট করে মোট ৩৪ হাজার ৯০০ প্যাকেট সিগারেট উদ্ধার করা হয়েছে।
র্যাবের হিসাব অনুযায়ী, জব্দ করা এসব বিদেশি সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
জব্দ করা সিগারেট ও গ্রেফতার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/২৯/৭/২০২৬