গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

মেনু

টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডের তদন্তে যা পাওয়া গেল

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৫:২৫ পিএম, ৩০ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৬:৩০ এএম ২০২৬
টিফিনের রুটিতে ব্লেড কান্ডের তদন্তে যা পাওয়া গেল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

বরিশালের গৌরনদীর একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মিড-ডে মিলের রুটিতে ব্লেড পাওয়ার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তদন্তে রুটি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। বরং এক শিক্ষার্থী নিজেই ব্লেডটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রেখেছিল বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

এ ঘটনায় তথ্য-উপাত্ত যাচাই না করে ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা শারমিন জাহানকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থারও সুপারিশ করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও গৌরনদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. সেকেন্দার শেখ তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেন।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত দল রুটি উৎপাদনকারী কারখানা পরিদর্শন করে উৎপাদনের প্রতিটি ধাপ পরীক্ষা করেছে। তাদের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, কারখানার স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে একটি অক্ষত ব্লেড রুটির ভেতরে থাকা বাস্তবসম্মত নয়।

তিনি জানান, এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে তদন্ত চালানো হয়। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীর বাড়িতে ব্যবহৃত ব্লেডও সংগ্রহ করা হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থী স্বীকার করেছে যে ব্লেডটি তার ব্যাগে ছিল। বিদ্যালয়ে ব্লেড আনা নিষিদ্ধ হওয়ায় শাস্তির ভয়ে সে সেটি রুটির মধ্যে লুকিয়ে রাখে। পরে আরেক শিক্ষার্থী ব্লেডটি দেখে ফেললে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় সে নিজেই শ্রেণিশিক্ষককে জানায় যে রুটির মধ্যে ব্লেড পেয়েছে।

তদন্তে আরো উল্লেখ করা হয়, শ্রেণিশিক্ষক ঘটনাটি যাচাই না করেই ব্লেডসহ রুটির ছবি শিক্ষকদের মেসেঞ্জার গ্রুপে পাঠান। পরে সেটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, ঘটনার প্রকৃত কারণ দ্রুত উদ্ঘাটনের লক্ষ্যে তিন দিনের মধ্যে তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে এবং তদন্তের ফলাফল নিয়ে তারা নিশ্চিত।

এর আগে রুটি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আইল্যান্ড ট্রেডিং করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক শাহ আলম খানও দাবি করেছিলেন, স্বয়ংক্রিয় উৎপাদন প্রক্রিয়ায় অক্ষত ব্লেড রুটির মধ্যে থাকা সম্ভব নয়।

বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল জানান, সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট শিক্ষিকাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে বরখাস্ত হওয়া শিক্ষিকা শারমিন জাহানের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

উল্লেখ্য, গত ২২ জুলাই গৌরনদী পৌরসভার হরিসেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী টিফিনের রুটির মধ্যে ব্লেড পাওয়ার দাবি করলে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়।

এসি/আপ্র/৩০/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ
২৯ জুলাই ২০২৬

ফ্যামিলি কার্ডের প্রলোভনে ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ

বিশাল রহমান, ঠাকুরগাঁও: ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার চিলারং ইউনিয়নে ফ্যামিলি কার্ড করে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়...

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার
২৯ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ৯০ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেটসহ একজন গ্রেফতার

একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম মহানগরে অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯০ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিম...

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ
২৯ জুলাই ২০২৬

দিনাজপুর পৌর উন্নয়নে নাগরিক ভাবনা নিয়ে সমাবেশ

দিনাজপুর পৌরসভার সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক সেবা আরো জনবান্ধব করা এবং শহরের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে করণীয়...

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি
২৯ জুলাই ২০২৬

খালে ইয়াবা ফেলেও রক্ষা পেলেন না দুই মাদক কারবারি

ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে খালের পানিতে ইয়াবার প্যাকে...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

শিল্পী বললেন ‘শ্রাবণের মেঘগুলো’ এখন প্রতিবাদের ভাষা

‘শ্রাবণের মেঘগুলো জড়ো হলো আকাশে গানটি সিলেটের এক শিক্ষিকাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তৈরি হওয়া সমালোচনার বিরুদ্ধে দেশজুড়ে শিক্ষকদের সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে। গানটির গায়ক মেজবাহ রহমান বলেন, “আমাদের এই গানটি যে অন্যায্য সমালোচনার বিরুদ্ধে একটি বড় সামাজিক আন্দোলনের ভাষা হয়ে উঠবে, তা কখনো ভাবিনি। গানটি মূলত প্রকৃতিকে ঘিরে তৈরি হয়েছিল। কিন্তু যেভাবে এটি ছড়িয়ে পড়েছে, তাতে এখন এটি অনেকের কাছে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছে।” প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন গানটি সত্যিই প্রতিবাদের চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 1 দিন আগে