জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে রাইড শেয়ারিংয়ের বাইকচালকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে এ নিয়ে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বাইকচালক ও পথচারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।
চার সদস্যের পরিবার নিয়ে ঢাকায় থাকেন রাকিব হোসেন। একসময় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন তিনি। প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর বাইকে যাত্রী পরিবহনই হয়ে ওঠে তার আয়ের একমাত্র উৎস। এ আয় দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালিয়ে আসছিলেন। তবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পরই তার আয়ে ভাটা পড়েছে।
রাকিব হোসেন বলেন, তেলের দাম বাড়ায় বাইক চালানোর খরচও বেড়ে যাবে। আগে ১০০ টাকা ভাড়ায় একটি যাত্রা করলেও এখন অন্তত ৩০ টাকা বেশি নিতে হবে। এতে অনেক যাত্রী যেতে চাইবেন না। ফলে আয়ও কমে যাবে।
তিনি বলেন, ‘আগে একটা চাকরি করতাম। সেখানে বেশ কিছু টাকা বেতন পাওনা ছিল। প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেল, টাকাও পেলাম না। অন্য কোথাও চাকরি না পেয়ে বাইকে যাত্রী নেওয়া শুরু করলাম। মাঝে যখন তেলের সংকট শুরু হলো, তখন খুব কষ্টে দিন গেছে। আজ থেকে আবার তেলের দাম বাড়ল। যাত্রীও কম পাচ্ছি। সবারই টাকার সংকট। বেশি টাকা ভাড়া দিয়ে কে যাবে বলেন! বাইক দিয়ে কয়টা টাকা আয় করে সংসার চালাতাম, এখন তাও কমে যাবে।’
গতকাল রাতে প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। নতুন নির্ধারিত দরে ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৩৫ টাকা, কেরোসিন ১৫৫ টাকা, পেট্রোল ১৬০ টাকা এবং অকটেন ১৬৫ টাকা হয়েছে। এর আগে ডিজেল ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১৩৫ টাকা, পেট্রোল ১৪০ টাকা এবং অকটেন ১৪৫ টাকা দরে বিক্রি হতো। অর্থাৎ সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারপ্রতি ২০ টাকা করে বেড়েছে।
মনির হোসেন নামের আরেক বাইকচালক বলেন, ‘তেলের দাম সরকার কী বুঝে বাড়াল? সাধারণ মানুষের কথা কেউ চিন্তা করে না। একদিকে সরকারি কর্তাদের বেতন বাড়াচ্ছে, আর সাধারণ মানুষকে কষ্টে রাখছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কথা কেউ ভাবে না।’
আজম আলী নামের এক পথচারী বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ল লিটারে ২০ টাকা, আর বাসে ২০ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা চাচ্ছে। ঝামেলা করে ২৫ টাকা দিলাম। বলেন তো, এটা কোনো কথা? যে যার মতো দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে, আমরা যাব কোথায়।’
আয় না বাড়লেও এভাবে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বেসরকারি চাকরিজীবী রুমান হোসেনও। তিনি বলেন, ‘বেতন বাড়ে না, শুধু খরচ বাড়ে। এখন তো সবকিছুর দাম বেড়ে যাবে। সংসার চালানোই কষ্ট হয়ে যাবে।’
এদিকে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে মুদ্রাস্ফীতি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছেন অর্থনীতিবিদেরা।
এসি/আপ্র/২১/৯/২০২৬