ভারতীয় সংগীতশিল্পী ও মোটিভেশনাল স্পিকার কেনিশা ফ্যান্সিস ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে ব্যাপক ট্রল ও সমালোচনার মুখে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন। অভিনেতা রবি মোহন–এর সঙ্গে সম্পর্কের গুঞ্জন ঘিরে বিতর্কের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে দেওয়া ভিডিও বার্তায় জীবনের কঠিন অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন তিনি।
ভিডিওতে কেনিশা জানান, মাত্র ১৮ বছর বয়সে তাঁর বিয়ে হয়েছিল। ১৯ বছর বয়সে গর্ভপাতের মতো কঠিন অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। একই সময়ে তিনি শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলেও দাবি করেন। যদিও পরে ভিডিও দুটি মুছে ফেলেন, এর আগেই সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
কেনিশা বলেন, ছোটবেলা থেকেই সংগীতচর্চার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন তিনি। গির্জায় গান গাওয়ার মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে পরে স্কুল ও কলেজের কয়ার দলে অংশ নেন। এরপর মাত্র ৫০০ রুপির বিনিময়ে একটি কফি শপে গান গাওয়ার সুযোগ পান, সেখান থেকেই তাঁর পেশাদার সংগীতজীবনের শুরু।
তিনি জানান, জীবনের নানা প্রতিকূলতা তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত করেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে আক্রমণের মুখে পড়েছেন, তা তাঁকে গভীরভাবে ভেঙে দিয়েছে। এ কারণে আপাতত ইনস্টাগ্রাম ও জনসমক্ষে নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে আর কথা না বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এর আগে রবি মোহন–এর বিবাহবিচ্ছেদ ঘিরে কেনিশার নাম জড়িয়ে নানা গুঞ্জন ছড়ায়। অনেকেই তাঁকে সংসার ভাঙার কারণ বলে কটাক্ষ করেন। যদিও এসব অভিযোগ নিয়ে তিনি সরাসরি কিছু স্বীকার বা অস্বীকার করেননি। তবে পরিস্থিতি তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বলে জানিয়েছেন।
ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কেনিশা সংগীতচর্চা ও পেশাগত কাজেই মনোযোগ দিতে চান। এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর সমর্থকেরা শিল্পীর পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অভিনেতা আরতি রবি–র সঙ্গে রবি মোহনের ১৫ বছরের দাম্পত্য ভাঙনের পর থেকেই কেনিশাকে ঘিরে আলোচনা শুরু হয়। সম্প্রতি এক পোস্টে কেনিশা লেখেন, তিনি এমন একজন মানুষকে রক্ষা করার চেষ্টা করেছিলেন, যাঁকে ঘিরে আগে থেকেই নানা গল্প তৈরি হয়েছিল। তবে এখন আর কাউকে ব্যাখ্যা দিতে চান না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কেনিশার পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর আরতি রবি ইনস্টাগ্রামে এক রহস্যময় বার্তা দেন। সেখানে তিনি লেখেন, ‘ঘুমন্ত সিংহকে কখনো জাগিও না। আর যদি সেটা মা সিংহী হয়, তাহলে স্বয়ং ঈশ্বরও তার পাশে দাঁড়ান।’ তিনি আরও বলেন, তাঁর নীরবতাকে দুর্বলতা ভাবা ঠিক হবে না; সন্তানদের রক্ষায় প্রয়োজনে সত্য সামনে আনবেন তিনি। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও এনডিটিভি
সানা/আপ্র/১৯/৫/২০২৬