গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

দেশে দুই বছরে কমেছে সাড়ে ৬ লাখ গরু-ছাগল

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৯:৪৭ পিএম, ১০ মে ২০২৬ | আপডেট: ১১:০০ এএম ২০২৬
দেশে দুই বছরে কমেছে সাড়ে ৬ লাখ গরু-ছাগল
ছবি

ছবি সংগৃহীত

দুই বছরের ব্যবধানে দেশে কোরবানিযোগ্য গবাদিপশুর সংখ্যা কমেছে ৬ লাখ ৪৬ হাজার ৫২৭টি। ২০২৪ সালে যেখানে কোরবানির জন্য প্রস্তুত পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি, সেখানে চলতি বছর তা কমে দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টিতে। দুই বছরে দেশে গবাদি পশুর সংখ্যা এত কমে যাওয়ার ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করছেন প্রাণিসম্পদ খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। এই সংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন কেউ কেউ। খামারিরা বলছেন- কেন পশুর সংখ্যা কমছে, এর কারণ বের করা দরকার।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানান, এ বছর কোরবানির জন্য দেশে পশুর সম্ভাব্য চাহিদা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪টি। এর বিপরীতে দেশে প্রাপ্যতা রয়েছে ১ কোটি ২৩ লাখ ৩৩ হাজার ৮৪০টি পশু। সে হিসাবে প্রায় ২২ লাখ ২৭ হাজার ৫০৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। এবার কোরবানিযোগ্য ৫৬ লাখ ৯৫ হাজার ৮৭৮টি গরু-মহিষ, ৬৬ লাখ ৩২ হাজার ৩০৭টি ছাগল-ভেড়া ও ৫ হাজার ৬৫৫টি অন্যান্য প্রজাতির প্রাণীর প্রাপ্যতা রয়েছে।

গত বছর কোরবানির হাটের জন্য গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয় ১ কোটি ২৪ লাখ ৪৭ হাজার ৩৩৭টি। এর মধ্যে ৫৬ লাখ ২ হাজার ৯০৫টি গরু-মহিষ, ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৯২০টি ছাগল-ভেড়া এবং ৫ হাজার ৫১২টি অন্য প্রজাতির। গত বছর ৩৩ লাখ ১০ হাজার ৬০৩টি কোরবানির পশু অবিক্রীত ছিল।

২০২৪ সালে কোরবানির পশু প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৯ লাখ ৮০ হাজার ৩৬৭টি। ২০২৩ সালে প্রস্তুত ছিল ১ কোটি ২৫ লাখ ৩৬ হাজার ৩৩৩টি। ২০২২ সালে ১ কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি পশু প্রস্তুত করা হয়। ২০২১ সালে করোনাকালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি।

দেশে করোনা মহামারি দেখা দেওয়ার আগে যে পরিমাণ পশু কোরবানি হতো, তা এখন হয় না। ২০২০ সালের মার্চে দেশে করোনার সংক্রমণ দেখা দেয়। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ২০১৬ সালে ৯৮ লাখ ১৩ হাজার পশু কোরবানি হয়। এরপর থেকে ক্রমাগত বেড়ে ২০১৭ সালে ১ কোটি ৪ লাখ, ২০১৮ সালে ১ কোটি ৬ লাখ, ২০১৯ সালে দেশে ১ কোটি ৬ লাখ পশু কোরবানি হয়েছিল। করোনা দেখা দিলে ২০২০ সালে ৯৪ লাখ ৫০ হাজার পশু কোরবানি হয়। ২০২১ সালে কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল ১ কোটি ১৯ লাখ ১৬ হাজার ৭৬৫টি। এর মধ্যে কোরবানি হয় ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি পশু। প্রায় ২৮ লাখ গবাদিপশু বিক্রি হয়নি। গত বছর কোরবানি হয় ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের উপজেলা পর্যায়ে কার্যালয় রয়েছে। সেসব কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা মাঠপর্যায় থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই কোরবানিযোগ্য পশুর সংখ্যা নির্ধারণ করেছে অধিদপ্তর। এ বিষয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ঘরে ঘরে গিয়ে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে এই হিসাব তৈরি করেছেন।

মন্ত্রণালয়ের অধীন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর মূলত পশু কোরবানির হিসাব করে থাকে। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলেন, স্তরায়িত দৈব নমুনায়নের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে এবারের হিসাব করা হয়েছে। প্রতি উপজেলার অন্তত ১ শতাংশ নমুনা সংগ্রহ করে তৈরি করা হয়েছে হিসাবটি। যেমন– এক উপজেলায় ১০০টি গ্রাম থাকলে এর মধ্যে অন্তত একটি গ্রামে কোরবানি দেওয়া পশুর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউটের সাবেক মহাপরিচালক ও কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত কয়েক বছর কোরবানির পশু পালনের সঙ্গে যারা সম্পৃক্ত, তাদের অনেকেরই লোকসান হয়েছে। এর কারণ উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া। এ কারণে মাংস ও পশুর দাম বাড়ছে। এতে উৎপাদিত গরু-ছাগলের একটা অংশ ঈদে অবিক্রীত থাকছে। এ জায়গায় সরকারকে পদক্ষেপ নিতে হবে। পশুখাদ্য ও পশুর ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

পশুর সংখ্যা কমলেও কোরবানি ঘিরে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং বিস্তৃত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের কেন্দ্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ঈদুল আজহা ঘিরে দেশে যে বিপুল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়, তা কয়েক দিনের মধ্যেই হাজার হাজার কোটি টাকার লেনদেনে রূপ নেয়। যার প্রভাব পড়ে গ্রামীণ অর্থনীতি থেকে শুরু করে শহরের বাজার পর্যন্ত। বিশ্বের অন্যান্য মুসলিমপ্রধান দেশের সঙ্গে তুলনা করলে এই পার্থক্য আরও স্পষ্ট হয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে প্রতিবছর ৭০-৮০ লাখ পশু কোরবানি হয়। ২০২৫ সালে দেশটিতে কোরবানির পশুর সংখ্যা ছিল প্রায় ৭৪ লাখ। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ায় ২০২৫ সালে প্রায় ১৮ লাখ ৫৬ হাজার পশু কোরবানি হয়েছে। দেশটির মুসলিম জনসংখ্যা বিপুল হলেও কোরবানির বাজারের অর্থনৈতিক কাঠামো তুলনামূলকভাবে ছোট। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরবে কোরবানির সময় ১০ থেকে ১৫ লাখ পশু জবাই হলেও দেশটি মূলত আমদানিনির্ভর। সুদান, সোমালিয়া ও ব্রাজিল থেকে বড় অংশের পশু সরবরাহ করা হয়। তুরস্কে গত ঈদে প্রায় ৩৮ লাখ পশু কোরবানি হয়েছে, আর মিসরে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ১৩ লাখ।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, নীতিসহায়তা, প্রযুক্তি ব্যবহার এবং আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে কোরবানিকেন্দ্রিক এই অর্থনীতি আরও বড় পরিসরে রূপ নিতে পারে।

কেএমএএ/আপ্র/১০.০৫.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত

বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু জমি নয়- কৃষক। সীমিত জমি, বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয়, জলবায়ুজনিত অন...

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি

বাংলাদেশে এখন তামাক চাষের জমি দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা তামাক কোম্পানিগুলোর এককালীন আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে...

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা

শীত আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। অথচ এরই মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে মুন্সীগঞ্জের সবজি চারার বাজারে। ভোর থেক...

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা

যশোরের ঝিকরগাছায় বেনেয়ালী মাঠে এক বর্গাচাষির পেঁপে ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে ১৮...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই