গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

মালচিং প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাবুগঞ্জের সবজি চাষ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৩৯ পিএম, ১৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ০৯:৫২ এএম ২০২৬
মালচিং প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাবুগঞ্জের সবজি চাষ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

আধুনিক মালচিং প্রযুক্তির ব্যবহারে বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় সবজি চাষে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কম খরচে, কম সেচে এবং তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়ায় দিন দিন এ পদ্ধতির প্রতি আগ্রহ বাড়ছে কৃষকদের। উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি নিরাপদ সবজি উৎপাদনেও ইতিবাচক ফল মিলছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে বাবুগঞ্জে প্রায় তিন হেক্টর জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে শসা, পেঁপে, করলা, পটল, চিচিঙ্গা ও বরবটির চাষ হচ্ছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ প্রযুক্তি ব্যবহারে উৎপাদন ব্যয় কমার পাশাপাশি ফলনও বেড়েছে।

মালচিং হলো এমন একটি কৃষি প্রযুক্তি, যেখানে জমির বেড বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক শিট বা জৈব উপাদান দিয়ে ঢেকে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছিদ্র করে বীজ বা চারা রোপণ করা হয়। এতে মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় ধরে বজায় থাকে, আগাছা কম জন্মায় এবং সেচ, সার ও কীটনাশকের ব্যবহারও কমে যায়। একই সঙ্গে রোগবালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে থাকে।

উপজেলার চাঁদপাশা ইউনিয়নের লাকুটিয়া এলাকার তরুণ কৃষক রাকিবুল ইসলাম পড়াশোনার পাশাপাশি ৪০ শতক জমিতে মালচিং পদ্ধতিতে চিচিঙ্গা, বরবটি, টমেটোসহ বিভিন্ন সবজি চাষ এবং টমেটোর চারা উৎপাদন করছেন। তিনি জানান, চলতি মৌসুমে চিচিঙ্গা ও বরবটি বিক্রি করে এক লাখ টাকার বেশি আয় করেছেন। উৎপাদন ব্যয় কম হওয়ায় লাভও বেড়েছে। আগামী মৌসুমে আরো বড় পরিসরে এ প্রযুক্তিতে সবজি চাষের পরিকল্পনা রয়েছে তার।

আরেক কৃষক শামীম বলেন, মালচিং পদ্ধতিতে আগাছা কম হওয়ায় শ্রম ও খরচ কম লাগে। একই সঙ্গে সেচের পানির প্রয়োজন কম হয় এবং মাটির আর্দ্রতা দীর্ঘ সময় বজায় থাকায় গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে। ফলে একই জমিতে একাধিকবার ফসল উৎপাদনও সহজ হয়।

বাবুগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, মালচিং একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও লাভজনক কৃষি প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে পানির অপচয় কমে, আগাছা দমন সহজ হয় এবং উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়। ফলে কৃষকেরা কম খরচে বেশি ফলন ও অধিক লাভের সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি জানান, উপজেলায় মালচিং প্রযুক্তির প্রসারে কৃষি বিভাগ নিয়মিত প্রশিক্ষণ, পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে। এ প্রযুক্তির ব্যবহার আরো বিস্তৃত হলে সবজি উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি কৃষকদের আয়ও বাড়বে।

এসি/আপ্র/১৫/০৭/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের খাদ্য ব্যবস্থা সচল রাখা কৃষকরা আর্থিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত

বাংলাদেশের কৃষির সবচেয়ে বড় সম্পদ শুধু জমি নয়- কৃষক। সীমিত জমি, বাড়তে থাকা উৎপাদন ব্যয়, জলবায়ুজনিত অন...

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

তামাক চাষ বিস্তারে পরিবেশ বিপর্যয় ও খাদ্য নিরাপত্তায় হুমকি

বাংলাদেশে এখন তামাক চাষের জমি দিন দিন বাড়ছে। কৃষকরা তামাক কোম্পানিগুলোর এককালীন আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে...

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সবজির চারা উৎপাদকদের কয়েক কোটি টাকা ব্যবসার আশা

শীত আসতে এখনও কিছুটা সময় বাকি। অথচ এরই মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে মুন্সীগঞ্জের সবজি চারার বাজারে। ভোর থেক...

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বর্গাচাষি নিজামের তিন লাখ টাকার পেঁপে গাছ কেটে ফেলে দুর্বৃত্তরা

যশোরের ঝিকরগাছায় বেনেয়ালী মাঠে এক বর্গাচাষির পেঁপে ক্ষেতের গাছ কেটে ফেলার অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাতে ১৮...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই