ভারতের কংগ্রেস নেত্রী সোনিয়া গান্ধীর নাম ভারতীয় নাগরিকত্ব পাওয়ার আগেই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগে করা মামলা নতুন করে শুনানির নির্দেশ দিয়েছেন দিল্লির একটি বিশেষ আদালত। আগের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আদেশ বাতিল করে মামলাটি নতুন করে বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়েছে। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে ফের শুনানি হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দিল্লির দ্বারকা আদালতের বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে এ নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, আগের ম্যাজিস্ট্রেটের আদেশে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি। পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য শোনা এবং সংশ্লিষ্ট থানার কাছ থেকে তদন্তের অগ্রগতি-সংক্রান্ত প্রতিবেদন নেওয়া হয়নি। অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর করা হবে কি না, কিংবা আইনের অন্য কোনো বিধান অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সেটিও বিবেচনা করা হয়নি।
অভিযোগটি করেছিলেন রাউস অ্যাভিনিউ আদালতের সেন্ট্রাল দিল্লি বার অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি আইনজীবী বিকাশ ত্রিপাঠি। তাঁর অভিযোগ, ১৯৮০ সালে নয়াদিল্লি লোকসভা কেন্দ্রের ভোটার তালিকায় সোনিয়া গান্ধীর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। অথচ তিনি ভারতীয় নাগরিকত্ব পান ১৯৮৩ সালের ৩০ এপ্রিল। অভিযোগে এ ঘটনাকে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করার বিষয় হিসেবে তুলে ধরে তদন্ত ও এফআইআর দায়েরের আবেদন করা হয়েছিল।
২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ওই আবেদন খারিজ করে দিয়েছিলেন। আদালতের সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিকাশ ত্রিপাঠি পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন। সোমবার বিশেষ বিচারক বিশাল গোগনে আগের আদেশটি বাতিল করে বলেন, সেটি যথাযথ কারণ ব্যাখ্যা না করে দেওয়া হয়েছিল এবং আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিবেচনা করা হয়নি। মামলাটি এখন আবার ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফিরে গেছে।
সোনিয়ার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে তোলেন বিজেপির তৎকালীন তথ্যপ্রযুক্তি শাখার প্রধান অমিত মালব্য। তাঁর দাবি ছিল, ১৯৮০ সালের ভোটার তালিকায় সোনিয়ার নাম ছিল এবং সে সময় তিনি ভারতীয় নাগরিক ছিলেন না। এ দাবির সমর্থনে তিনি পুরোনো ভোটার তালিকার একটি ছবি প্রকাশ করেছিলেন। অভিযোগের মূল বিষয় হলো, নাগরিকত্ব পাওয়ার কয়েক বছর আগেই কীভাবে তাঁর নাম ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল।
তবে আদালতের সাম্প্রতিক আদেশ সোনিয়া গান্ধীর বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণ করে না। আদালত মূলত আগের ম্যাজিস্ট্রেটের সিদ্ধান্তে প্রক্রিয়াগত ও আইনি ত্রুটি রয়েছে বলে উল্লেখ করে অভিযোগটি নতুন করে বিবেচনার নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী শুনানিতে অভিযোগের ভিত্তি, পুলিশি তদন্তের প্রয়োজনীয়তা এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা।
এদিকে ভারতে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন নিয়েও রাজনৈতিক বিতর্ক চলছে। দিল্লিতে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া এবং বিভিন্ন ভোটারকে নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে বিরোধী দল ও নাগরিক অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলেছেন। কংগ্রেসসহ বিরোধীদের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনসংক্রান্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তালিকা সংশোধনকে নিয়মিত নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।
এই রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যেই সোনিয়া গান্ধীর পুরোনো ভোটার তালিকা-সংক্রান্ত অভিযোগটি নতুন করে আদালতের সামনে আসায় বিষয়টি ভারতের রাজনীতিতে আবার আলোচনায় এসেছে। তবে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ এবং কোনো ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার ওপরই নির্ভর করবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৯/২০২৬