ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের হামলা বন্ধ করতে ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে সৌদি আরব। ইরানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির অংশ হিসেবে এ অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ইসরায়েল হায়োম। তবে অর্থ হস্তান্তরের খবর স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান সম্প্রতি হুথিদের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরানের রাজধানী তেহরান সফর করেন। সেখানে ইরানের মধ্যস্থতায় সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আলোচনা হয়।
কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত ব্যবস্থার আওতায় ইরানের মাধ্যমে হুথিদের ১০০ কোটি ডলার দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একটি সূত্রের দাবি, সৌদি প্রতিরক্ষামন্ত্রী যে সামরিক পরিবহন বিমানে তেহরানে গিয়েছিলেন, সেই বিমানেই অর্থ নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে সৌদি কর্মকর্তারা অর্থ হস্তান্তরের বিষয়টি নিশ্চিত করেননি।
কেন হুথিদের অর্থ দিতে চায় সৌদি আরব
সম্প্রতি সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হুথিদের হামলা বেড়েছে। এসব হামলায় দেশটির অর্থনৈতিক ক্ষতি হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে সংঘাত বন্ধে সৌদি আরব ও হুথিদের মধ্যে মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেয় ইরান।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিন বছর আগে হওয়া কিছু সমঝোতার ভিত্তিতে হুথিদের সরাসরি আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা ছিল সৌদি আরবের। ওই অর্থের একটি অংশ হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সরকারি কর্মীদের বেতন দেওয়া এবং বেসামরিক অবকাঠামো পুনর্গঠনে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল। এর বিনিময়ে হুথিদের যুদ্ধবিরতি বজায় রাখা ও সৌদি আরবে হামলা বন্ধ করার কথা ছিল।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে হুথিরা অভিযোগ করেছে, সৌদি আরব আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন করেনি। অন্যদিকে সৌদি আরবের অবস্থান হলো, সামরিক চাপের মুখে নতুন কোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হবে না দেশটি।
তেহরানের বৈঠকে কারা ছিলেন
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেহরানের আলোচনায় তুরস্কের গোয়েন্দাপ্রধান ইব্রাহিম কালিন ও পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরও অংশ নেন।
এ ছাড়া বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, দেশটির জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) প্রতিনিধিরা।
সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী খালিদ বিন সালমান এবং মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের সদস্যদেশগুলোর প্রতিনিধিদের তেহরান সফরের উদ্দেশ্য ছিল উত্তেজনা কমানো, সংলাপের সুযোগ তৈরি করা এবং কূটনৈতিক সমাধানে সহায়তা করা।
বিবৃতিতে কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টাকেও সমর্থন জানানো হয়। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের দাবি, এই বৈঠকের মধ্য দিয়ে মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা জোটের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ইরানের নেতৃত্বের প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে।
অর্থ দেওয়ার আগে শর্ত দিতে চায় রিয়াদ
সৌদি আরবের এক কর্মকর্তা ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, হুথিদের সঙ্গে বিরোধের একটি বড় কারণ হলো তিন বছর আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন নিয়ে মতপার্থক্য। তবে সৌদি আরব নতুন করে অর্থ দেওয়ার আগে কিছু শর্ত পূরণের ওপর জোর দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে, ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের কাছ থেকে হুথিদের দখল করা এলাকা ফিরিয়ে দেওয়া। সৌদি আরব ওই সরকারকে সমর্থন করে।
অন্যদিকে, হুথিরা আগের সমঝোতা বাস্তবায়ন না হওয়ার অভিযোগ তুলে নিজেদের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দেখাচ্ছে। ফলে অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা তৈরি হলেও দুই পক্ষের মধ্যে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
এসি/আপ্র/২৭/১০/২০২৬