ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানের প্রভাবে আরব দেশগুলোর অর্থনীতি বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়েছে। জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচির এক সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, এই সংঘাতের কারণে আরব অঞ্চলের অর্থনীতি সর্বোচ্চ ৬ শতাংশ পর্যন্ত সংকুচিত হতে পারে এবং এর ফলে লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের শিকার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) প্রকাশিত সমীক্ষায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া চার সপ্তাহব্যাপী সংঘাতের প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছে, সীমিত পর্যায়ের সংঘাতও বাণিজ্য, জ্বালানি ও আর্থিক খাতের মাধ্যমে গোটা অঞ্চলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
গবেষণা অনুযায়ী, আরব দেশগুলোর মোট অর্থনৈতিক উৎপাদন ৩ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে ৬ শতাংশ পর্যন্ত কমে যেতে পারে, যার আর্থিক পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১২০ বিলিয়ন থেকে ১৯৪ বিলিয়ন ডলার। অনিশ্চয়তা বৃদ্ধির কারণে বিনিয়োগ কমে যাওয়ার পাশাপাশি নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়া এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, যুদ্ধের তীব্রতা বাড়লে অতিরিক্ত প্রায় ৪০ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যেতে পারেন। বিশেষ করে লেভান্ত অঞ্চল এবং সুদান ও ইয়েমেনের মতো ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। একই সঙ্গে ২৫ থেকে ৩৫ লাখ মানুষ কর্মসংস্থান হারাতে পারেন এবং কম দক্ষ শ্রমিকদের মধ্যে বেকারত্বের হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
সামুদ্রিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় আমদানি-নির্ভর দেশগুলোতে মূল্যস্ফীতি বাড়ছে। উপসাগরীয় ও লেভান্ত অঞ্চলের দেশগুলো সবচেয়ে বেশি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উচ্চ তেলের দামের কারণে উত্তর আফ্রিকার কিছু তেল রপ্তানিকারক দেশ সাময়িকভাবে কিছু সুবিধা পেতে পারে। এর ফলে অনেক দেশের মানব উন্নয়ন সূচক অন্তত এক বছর পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলা শুরু হয়। এ পর্যন্ত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনেসিসহ প্রায় দুই হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল, জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
ইরান ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সমর্থিত দেশগুলোর জন্য হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়েছে। তেহরানের অনুমতি ছাড়া চলাচলের চেষ্টা করলে একাধিক তেলের ট্যাংকারে হামলার ঘটনাও ঘটেছে। এর ফলে বিশ্ববাজার ও আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ব্যবস্থায় ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৪/২০২৬