বিশ্বের বাকি অংশ থেকে নিজেদের ইন্টারনেট ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন করার এক বৃহৎ ও ধীরগতির প্রক্রিয়া শুরু করেছে রাশিয়া। অধিকারকর্মী ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে দেশটির লাখ লাখ মানুষ ক্রমে বৈশ্বিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে এবং এর দীর্ঘমেয়াদি পরিণতি হতে পারে গুরুতর।
বছরের শুরুতে ইরানে হঠাৎ করে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনার তুলনায় রাশিয়ার এই প্রক্রিয়া অনেকটাই ভিন্ন ও কম দৃশ্যমান। দেশটির বিভিন্ন শহর ও অঞ্চলে ধাপে ধাপে মোবাইল ইন্টারনেট সীমিত করা, নির্দিষ্ট ডেটা ট্রাফিকে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এবং জনপ্রিয় বার্তা আদান-প্রদানের মাধ্যম টেলিগ্রামে নতুন করে বাধা দেওয়ার মাধ্যমে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
রাশিয়ার এই পদক্ষেপের কড়া সমালোচনা করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি একে ‘পশ্চাৎমুখী পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে বলেন, এর অর্থ এক শতাব্দী পেছনে ফিরে যাওয়া।
ইন্টারনেট সেন্সরশিপ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থার গবেষকদের মতে, রাশিয়ার এই নিয়ন্ত্রণ ইরানের তুলনায় আরো জটিল ও কম দৃশ্যমান। দেশটিতে বিপুলসংখ্যক ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান থাকায় একযোগে সম্পূর্ণ শাটডাউন কার্যকর করা কঠিন, ফলে ধাপে ধাপে নিয়ন্ত্রণ আরোপের পথ বেছে নেওয়া হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকে টেলিগ্রামে বাধা দেওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। শত শত নেটওয়ার্ক পরীক্ষা করে এতে ব্যাপক হস্তক্ষেপের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ পরিস্থিতিতে সাধারণ ব্যবহারকারীদের মধ্যে ক্ষোভও বাড়ছে। এক রুশ ব্যবহারকারী বলেন, নিয়মিত অর্থ পরিশোধ করেও তারা আধুনিক ইন্টারনেট সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সেন্সরশিপ এড়ানোর প্রযুক্তি ব্যবহার ঠেকাতে এবার আরো বিস্তৃত ও উন্নত পদ্ধতি প্রয়োগ করছে রাশিয়া। মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গসহ একাধিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে এর প্রভাব দেখা গেছে।
সামনের দিনগুলোতে এই নিয়ন্ত্রণ আরো বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। রুশ কর্তৃপক্ষ ইঙ্গিত দিয়েছে, খুব শিগগিরই টেলিগ্রাম পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। একই সঙ্গে জনপ্রিয় আন্তর্জাতিক অ্যাপগুলোর পরিবর্তে সরকার নিয়ন্ত্রিত নতুন বার্তা আদান-প্রদানের প্ল্যাটফর্ম চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, প্রয়োজন হলে বাসাবাড়ির ইন্টারনেটও সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতা রাশিয়ার রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, পরিস্থিতি আরো কঠোর হলে ইরানের মতো পূর্ণাঙ্গ শাটডাউনও দেখা যেতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৪/২০২৬