যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত না হওয়া পর্যন্ত ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বোমাবর্ষণ অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। গত মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) পেন্টাগনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ইরান তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধে রাজি না হলে এই সামরিক অভিযান চলবে।
ইরানি কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা চলছে-এমন দাবি অস্বীকার করলেও হেগসেথ বলেছেন, আলোচনা ‘একদম বাস্তব’ এবং তা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হেগসেথ দাবি করেন, মার্কিন হামলায় ইরানের প্রতিরক্ষা শিল্পের ভিত্তি প্রায় পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমানগুলো ইরানের আকাশে বাধাহীনভাবে উড়ছে এবং ইরানের ভ্রাম্যমাণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন লঞ্চার শনাক্ত হলেই তা ধ্বংস করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত সামরিক শক্তি ব্যবহার করতে যুক্তরাষ্ট্র আগ্রহী নয়, তবে ‘বোমা দিয়ে আলোচনা’ করার মন্তব্য তিনি গুরুত্বের সঙ্গেই করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, এই কৌশলের লক্ষ্য হলো ইরানকে চুক্তিতে আসতে বাধ্য করা, যাতে বর্তমান শাসকগোষ্ঠী নিজেদের অবস্থান টিকিয়ে রাখতে পারে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী জানান, গত সপ্তাহে তিনি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিগুলো পরিদর্শন করেছেন এবং সেনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য আলোচনায় যুক্ত প্রতিনিধিদের সঙ্গেও তিনি বৈঠক করেছেন। এ দলে রয়েছেন মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
হেগসেথ আরো জানান, ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে সেখানে হাজার হাজার মার্কিন মেরিন ও ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সেনা পাঠানোর উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, এর মাধ্যমে বিভিন্ন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে প্রয়োজন হলে স্থল হামলাও চালানো সম্ভব হয়।
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় বলেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু যুক্তরাষ্ট্রের দায়িত্ব নয়; মিত্র দেশগুলোকেও এতে আরো সক্রিয় ভূমিকা রাখতে হবে। যারা ইরানবিরোধী যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে, তাদের উদ্দেশে তিনি সতর্কবার্তা দিয়ে বলেন, তেলের সংকট নিয়ে উদ্বিগ্ন হলে তাদের নিজেদেরই ব্যবস্থা নিতে হবে।
ট্রাম্প আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় অন্যদের সহায়তায় এগিয়ে আসবে না এবং মিত্রদেরও নিজেদের নিরাপত্তার জন্য লড়াই করতে শিখতে হবে।
হেগসেথ ট্রাম্পের এ অবস্থানকে সমর্থন করে বলেন, ইরান যদি বাস্তবতা উপলব্ধি করে, তবে একটি চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব। তাঁর মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি চুক্তির জন্য প্রস্তুত আছেন এবং পরিস্থিতি সেদিকেই এগোতে পারে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৪/২০২৬