মঙ্গল গ্রহে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে দূরবর্তী পশ্চিমাঞ্চলীয় অভিযানে গিয়ে প্রায় ৩৯০ কোটি বছরের প্রাচীন পাথরের সন্ধান পেয়েছে নাসার পার্সিভ্যারেন্স রোভার। একই সঙ্গে লাল গ্রহের বুকে নিজের ষষ্ঠ সেলফিও তুলেছে এটি।
গত পাঁচ বছর ধরে পার্সিভ্যারেন্স মঙ্গলের ‘জেজেরো ক্রেটার’ এলাকায় গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, প্রাচীন অণুজীবের অস্তিত্বের সন্ধান পাওয়ার জন্য এলাকাটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময়। সম্প্রতি রোভারটি ক্রেটারের সীমানা অতিক্রম করে আরো পশ্চিমে পৌঁছায়, যা এ পর্যন্ত এর সবচেয়ে দূরবর্তী পশ্চিমা অভিযান।
নাসা প্রকাশিত সর্বশেষ সেলফিতে রোভারটিকে ‘লাক দে শার্মস’ অঞ্চলের ‘আরাথুসা’ নামের পাথুরে এলাকায় দেখা গেছে। রোভারের রোবোটিক বাহুতে থাকা ক্যামেরায় গত ১১ মার্চ তোলা ৬১টি ছবি একত্র করে সেলফিটির অ্যানিমেটেড সংস্করণ তৈরি করা হয়। সেখানে পার্সিভ্যারেন্সকে আশপাশ পর্যবেক্ষণের জন্য ক্যামেরার মাথা ঘোরাতেও দেখা যায়।
নাসা জানিয়েছে, বৈজ্ঞানিক গবেষণার জন্য মঙ্গলে রোভারটি যেসব এলাকায় গেছে, তার মধ্যে এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় অঞ্চল। পরে রোভারটি ‘আর্বোট’ এলাকায় যায়। সেখানে ৫ এপ্রিল ‘মাস্টক্যাম-জেড’ ক্যামেরায় ধারণ করা ৪৬টি ছবি জোড়া দিয়ে একটি বিস্তৃত প্যানোরামা প্রকাশ করেছে নাসা।
প্রথম দেখায় অঞ্চলটিকে সাধারণ পাথুরে মরুভূমি মনে হলেও বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখানকার কিছু পাথর আকারে প্রায় আকাশচুম্বী ভবনের সমান। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৩৯০ কোটি বছর আগে কোনো উল্কাপিণ্ডের আঘাতে এসব পাথর সেখানে এসে জমা হয়েছিল।
ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজির অধ্যাপক ও পার্সিভ্যারেন্স প্রকল্পের উপপ্রধান বিজ্ঞানী কেন ফার্লি বলেছেন, এ অঞ্চলে অভিযানের সবচেয়ে প্রাচীন পাথরগুলোর সন্ধান মিলেছে, যেগুলো বর্তমানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীদের মতে, সেখানে এমন কিছু গঠনও রয়েছে যা আগ্নেয়গিরির ‘ডাইক’ হতে পারে। অর্থাৎ ভূগর্ভের ম্যাগমা জমাট বেঁধে তৈরি হওয়া শক্ত স্তর, যা কোটি কোটি বছর ধরে আশপাশের নরম মাটি ক্ষয়ে গেলেও অক্ষত রয়েছে।
পার্সিভ্যারেন্স শুধু ছবি তোলে না, পাথরের ভেতরের কোর নমুনাও সংগ্রহ করে। রোভারটি পাথরের উপরিভাগ ঘষে মসৃণ করে, যাতে পৃথিবীতে থাকা বিজ্ঞানীরা এর উপাদান বিশ্লেষণ করতে পারেন। বর্তমানে এটি ‘আর্বোট’ অঞ্চলে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে। পরবর্তী সময়ে মঙ্গলের দক্ষিণাঞ্চলের ‘গার্দেভারি’ এলাকায় যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে রোভারের।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৮/৫/২০২৬